ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দৌলতপুরে ধারের টাকা পরিশোধ না করে সংখ্যালঘুর জমি নিলাম করার হুমকি দিয়েছে তহসিলদার

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধারের টাকা না দিয়ে সংখ্যা লঘুর জমি নিলাম করার হুমকি দিয়েছে অড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আশারফ সিদ্দিক। দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলমের বিয়ের খরচের জন্য গত ১৬ জানুয়ারি আড়িয়া গ্রামের শৈলেন্দ্র বিশ্বাসের কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ধার নেয় তহসিলদার আশরাফ সিদ্দিক। টাকা ধার নেওয়ার সময় ৩১জানুয়ারি ২০১৮ তারিখের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবো মর্মে লিখিত অঙ্গীকার নামা করেন তহসিলদার আশরাফ সিদ্দিক। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি সে টাকা পরিশোধ করেননি। উল্টো টাকা চাওয়ার অপরাধে শৈলেন্দ্র বিশ্বাসকে তার সব জমি জায়গা নিলাম করার হুমকি দিয়েছেন তহসিলদার আশারফ সিদ্দিক। গতকাল বুধবার দুপুরে শৈলেন্দ্র বিশ্বাসের ছোট ভাই বাবলু বিশ্বাস মৌখিক অভিযোগে জানান, আড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আশরাফ সিদ্দিক তার বড় দাদা শৈলেন্দ্র বিশ্বাসের কাছ থেকে ১৫ দিনের কথা বলে ৭৫ হাজার টাকা ধার নেন। কিন্তু ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি ধারের টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো জমিজমা নিলাম করার হুমকি দিয়েছেন। এছাড়াও গত তিনদিন আগে ভয় ভীতি দেখিয়ে দাদা শৈলেন্দ্র বিশ্বাসের কাছ থেকে টাকা পরিশোধ মর্মে সাদা কাগজের জোর করে স্বাক্ষর নিয়েছেন তহসিলদার আশরাফ সিদ্দিক। এনিয়ে দাদাসহ আমাদের পরিবারের লোকজন ভীত সন্ত্রস্থ ও শংকার মধ্যে রয়েছি। কারণ তহসিলদার একজন প্রভাবশালী লোক। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করে না। এবিষয়ে তহসিলদার আশরাফ সিদ্দিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি টাকা ধার নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও কয়েকদিন আগে টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি বলে জানান। দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলমের বিয়ের জন্য তহসিলদার আশরাফ সিদ্দিকের টাকা ধারের বিষয়ে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এমন অভিযোগ আমিও শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আশরাফ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন বলেন, বিষয়টি আমি জানি। অড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আশারফ সিদ্দিক আড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা শৈলেন্দ্র বিশ্বাসের কাছ থেকে লিখিত দিয়ে ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছে এবং জমি খারিজ করার নামে আরও ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে। ধারের টাকা ফিরত না দিয়ে উল্টো তার জমি জায়গা নিলাম করার হুমকি দিয়েছে। আর এসব অপকর্মের সাথে এসি ল্যান্ড জড়িত রয়েছে। তা না হলে এসব অপকর্ম করে কিভবে পার পেয়ে যায় তহসিলদার আশরাফ সিদ্দিক। বিষয়টি তদন্ত হওয়া জরুরী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ