ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মেসি-রোনালদো-নেইমার বিহীন বিশ্বকাপ

মাহাথির মোহাম্মদ কৌশিক : বর্তমানে বিশ্বের সেরা তিন ফুটবলারের নাম লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানা রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র। এই তিনজনই এবারের বিশ্বকাপে নিজ নিজ দেশের হয়ে খেলতে এসেছিলেন। বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বসেরাদের আসর। কেউ হাসে আবার কেউ কাঁেদ। আলোচনার বাইরে থেকে যেমন কেউ কেউ তারকার লেভেল গায়ে জড়ান ঠিক তেমনি ভাল করা অনেকেই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেন না। গত তিন বিশ্বকাপের মতো রাশিয়াতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও সর্বোচ্চ সাফল্য পাননি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানা রোনালদো। আর শেষ দুই আসরেও শিরোপা জয়ের সুখানুভুতি হয়নি নেইমার জুনিয়রের। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের এই দুই সুপারষ্টার ক্লাব ফুটবলে যেমন জনপ্রিয় তেমন সফলও। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে যেন জাতীয় দলকে পথ দেখাতে পারেন না। টানা চারটি বিশ্বকাপে অব্যহত থাকল সেই ধারা। দুজন যেন একই পথের পথিক হয়ে আরো একটি ব্যর্থ আসর শেষে বিদায়ের বাণী শুনিয়েছেন। চার বছর পর ২০২২ বিশ্বকাপ খেলবেন কিনা নিশ্চিত নয় এখনো। ভিনগ্রহের খেলোয়াড় বলা হয় এই দুজনকে। সমানভাবে কাঁপিয়েছেন ইউরোপের ক্লাব ফুটবল, চ্যাম্পিয়নশিপ। কিন্তু একটা স্বপ্ন রয়ে গিয়েছিল অধরা- বিশ্বকাপ ট্রফি। রাশিয়া বিশ্বকাপও পূরণ হতে দিলো না তাঁদের স্বপ। বিশ্বসেরা ফুটবলার কে? লিওনেল মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সাথে যোগ করতে পারেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার নেইমারের নামও। যদিও এ নিয়ে বিভিক্ত পুরো বিশ্ব, তর্ক রেগে থাকে সবসময়। পাল্লা দিয়ে বছর বছর বেড়েছে দুজনের ব্যক্তিগত অর্জন। বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, এবারের বিশ্বকাপেই হবে চূড়ান্ত লড়াই। প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে সে পথে এগিয়েও গিয়েছিলেন রোনাল্ডো। পরের ম্যাচেও করেছিলেন এক গোল। সে তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দারুণ গোল করে জ্বলে ওঠার ইঙ্গিত ঠিকই দিচ্ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু মাঝপথেই থেমে গেলো দুই সেরার লড়াই। নকআউট পর্বের ম্যাচে নিজেদের খেলায় দুজনেই ছিলেন বেশ নিস্প্রভ। পায়ের জাদুতে কেউই পৌঁছাতে পারেননি নিজেদের উচ্চতায়। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, মেসি এ নিয়ে নকআউট পর্বের ৮টি ম্যাচ খেলেছেন যার একটিতেও তিনি গোল করতে পারেননি। একই অবস্থা রোনালদোরও। তিনি গোলশূন্য থেকেছেন নকআউট পর্বে খেলা ৬ ম্যাচেই। ফলে আপাতত অমীমাংসীতই থাকছে কে সেরা, সে প্রশ্ন। তবে মেসি-রোনালদো ভক্তদের জন্য বিশ্বকাপ যে অনেকটাই পানসে হয়ে গেল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। সমান ব্যর্থ হয়ে শেষ ষোলতেই থেমে গেল এই দুই সুপারষ্টারের বিশ্বকাপ। ২০১৪ আসরে বড় রকমের ইনজুরি দিয়ে শেষ হলেও এবার সুস্থমতে বাড়ি ফেরার সুযোগ হয়েছে নেইমারের। এখন অপেক্ষা চার বছরের।
জাতীয় দলের মতো ক্লাব ফুটবলেও একে অপরের শত্রু শিবিরে বসবাস। ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় থাকেন কখন এই দুজনার মুখোমুখি লড়াই দেখবেন। সে কারণেই বলা যায়, ক্লাব ফুটবলে কখনও তাদের মধ্যে মিল দেখেনি কেউ। কখনও লিওনেল মেসি এগিয়ে গেছেন। আবার কখনও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে এ দুই তারকা মিলেছেন একই বিন্দুতে। তাদের মধ্যে পাওয়া গেছে অদ্ভূত মিল। বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে ছিটকে গেছেন ‘চিরশত্রু’ মেসি-রোনালদো, এবং তা একইদিনে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত মেসিরা ম্যাচ হারে ৪-৩ গোলে। আর দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে এডিসন কাভানির জোড়ায় বিধ্বস্ত হন রোনালদোরা। উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোল হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। মেসি-রোনালদোর জন্য এবারের বিশ্বকাপ ছিল অঘোষিত শেষ বিশ্বকাপ। দুই তারকাই ছিটকে গেলেন শেষ ষোলো থেকে। সেটাও একই দিনে। দুই তারকার দলই ছিটকে গেল এক গোলের ব্যবধানে। কাভানিদের কাছে রোনালদোর পর্তুগালের হারে ২-১ গোলে। আর মেসির আর্জেন্টিনার বিদায় ঘন্টা বাজে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে। দুই ম্যাচেই কিন্তু রোনান্দো-মেসি গোল পাননি। এবারের বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদোর মধ্যে মিল আছে আরো। গ্রুপ পর্বে এ দুই তারকার মিস করেন একটি করেন পেনাল্টি। কিন্তু শেষ ষোলোর লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার পর পরিসংখ্যানে উঠে আসছে আরও অনেক তথ্য।
এক নজরে চোখ রাখা যাক সেদিকে। রোনালদো নক আউট পর্বে খেলেছেন ৫১৪ মিনিট। আর মেসি খেলেছেন ৭৫৬ মিনিট। এই গ্রহের দুই সেরা তারকার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার অদ্ভূত রেকর্ড রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপেও সেই রেকর্ড অক্ষত রয়ে গেল। বিশ্বকাপের ৮টি নকআউট ম্যাচ খেলেছেন মেসি। গোলমুখে শট নিয়েছেন ২৩ টি। কিন্তু গোলের দেখা পাননি তিনি। এদিকে বিশ্বকাপের ৫টি নকআউট ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। গোলমুখে শট নিয়েছেন ২০টি। কিন্তু মেসির মতো তিনিও একবার পারেননি প্রতিপক্ষের জালমুখ খুলতে। অনেক অমিলের মধ্যে যে কত মিল রয়েছে সেটা জানার পর হয়তো দুজনের জন্যই করুণা হবে।
ইউরোপে খেলা বিধায় এবার পর্তুগাল ভাল করবে বলেই বিশ্বাস ছিল ফুটবলভক্তদের। কিন্তু হলো ঠিক তার উল্টো। প্রথম পর্বে ভাল করলেও বর্তমান ইউরোর শিরোপা জেতা দলটিও ভাল করতে পারেনি। নক আউপ পর্বই শেষ হয়ে গেছে বিশ্বকাপ। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বলতে গেলে একা এডিনসন কাভানিই কাঁপালেন পুরো ডি বক্স। সাথে যোগ্য সারথি হিসেবে বলের জোগান দিয়ে গেছেন লুইজ সুয়ারেজ। ম্যাচ শুরুর ৭ মিনিটেই সুয়ারেজের উঁচু করে বাড়ানো বলে হেড করতে যান কাভানি। বলে ঠিকমতো মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। কিন্তু ভাগ্য সহায় থাকায় তাতে কোন সমস্যা হয়নি। কাঁধে লেগে বল ঠিকই খুঁজে নেয় গোলপোস্ট। ম্যাচের পুরোটা সময় মাঠ দাপিয়ে বেড়ান রোনালদো পেপেরা। ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময়ে বল ছিলো পর্তুগিজদের দখলেই। কিন্তু কেন জানি প্রতিপক্ষের ডি বক্সে ঢুকে ফিনিশিংটা ভালো হচ্ছিলো না। আমেরিা মহাদেশের দলটি বিশ্বসেরা ফুটবলারকে রীতিমতো বোতলবন্দি করেই রেখেছিল। বেশ কয়েকটি আক্রমণ নিয়ে গোলপোস্টের মুখে গেলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি পর্তুগালের স্ট্রাইকাররা। ফলে প্রথমার্ধে পর্তুগালকে থাকতে হয় গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৫৫ মিনিটে গুরেইরোর কর্নার থেকে বল আসে ডিবক্সে। ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এসে লাফিয়ে বলে মাথা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান পেপে। এই বিশ্বকাপে এটিই উরুগুয়ের জালে প্রথম গোল। ৬২ মিনিটে আবার কাভানি। এবার ডিবক্সের ঠিক দাগের ওপর থেকে ডান পায়ের বুলেট গতির শট। গোলকিপারের কিছুই করার ছিলো না। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বলে হাতও ছোঁয়াতে পারেননি পেট্রিসিয়ো। বার ঘেঁষে বল ঢুকে যায় জালে। কাভানির দ্বিতীয় গোলে বিদায় নিশ্চিত হয় রোনালদোদের। আরো একটি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে হতাশায়।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যেভাবে কোন রকমে শেষ ম্যাচটা জিতে বিশ্বকাপে এসেছিল আর্জেন্টিনা তাতে অনেকেরই বিশ্বাস ছিল খুববেশি দুর যেতে পারবেনা ডিয়াগো ম্যারাডোনার শিষ্যরা। অনেকেই আবার বলেছিলেন যেভাবে কষ্ট করে বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হয়েছিল বিশ্কাপে এর কিছুই দেখা যাবেনা। প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে শুরু করে দ্বিতীয় ম্যাচেই ক্রোয়েশিয়ার কাছে পরাজিত হয় ৩-০ গোলে। অথচ এই দলটির বিপক্ষে আগে কখনোই হারেনি লিওনেল মেসির দল। তুতীয় ম্যাচটা অনেকটা ফাইনালের মতো করেই নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ২-১ গোলের জয় দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় ফ্রান্সকে। সমানতালে লড়েও ৪-৩ গোলে পরাজিত হয়ে শেষ হয় বিশ্বকাপ মিশন। পুরো ম্যাচের ৬১ শতাংশ বল দখলে রেখেও আক্রমণ ও রক্ষণ, দুই বিভাগের দুর্বলতায় পরাজয় মানতে হলো দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের ১৩ মিনিটেই বিপজ্জনক গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে যাওয়া কিলিয়ান এমবাপেকে থামাতে ফাউল করে বসেন মার্কোস রোহো। পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। স্পটকিকে কোনো ভুল করেননি আন্তোনি গ্রিজমান। গোলরক্ষক ডানে ঝাঁপিয়ে পড়লে, তাকে বোকা বানিয়ে সোজা শটে বল জড়ান জালে। গোল পরিশোধে রীতিমতো মারমুখি হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। বলের দখল নিতে মরিয়া হয়ে হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার তিনজন খেলোয়াড়। অবশেষে ৪১ মিনিটে চমক লাগানো এক গোলে সমতা ফেরান ডি মারিয়া।
বানেগার কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে ৩৫ গজ দূর থেকে জোরালো বাঁকানো শটে বল বার ঘেঁষে ঢুকে যায় পোস্টে। ১-১ গোলে শেষ হওয়া প্রথমার্ধই আভাস মিলেছিল দ্বিতীয়ার্ধের উত্তেজনার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার গোল। ৪৮ মিনিটে এবার দলকে এগিয়ে নেন গ্যাব্রিয়েল মারকাডো। মধ্যমাঠ থেকে বানেগার ক্রস নিয়ে ফরাসি রক্ষণভাগের মধ্য দিয়ে জায়গা বের করে নিয়েছিলেন মেসি। ফরাসি গোলকিপার সেদিকে ঝাঁপও দিয়েছিলেন। কিন্তু মেসির শট সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা মারকাডোর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে গোলকিপারের অপর পাশ দিয়ে জালে ঢুকে যায়। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে এরপর ফ্রান্স যা দেখালো, তার সামনে আর টিকে থাকতে পারেননি মেসিরা। ৫৭ মিনিটে ২-২ এ সমতা ফেরান বাঁজামাঁ পাভার্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া বলে এক ভলিতে ফ্রান্সকে ফিরিয়ে আনেন ম্যাচে। অলআউট অ্যাটাকে যাওয়া রক্ষণভাগে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমবাপের জোড়া আঘাত ম্যাচকে নিয়ে যায় আর্জেন্টিনার নাগালের বাইরে। ৬৪ এবং ৬৮ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে ছোট ছোট পাসে করা দুই গোলে স্কোর পরিণত হয় ৪-২ এ। এরপর অতিরিক্ত সময়ে ৯৩ মিনিটে সার্জিও আগুয়েরো একটি গোল পরিশোধ করতে পারলেও, ম্যাচে আর ফিরে আসতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
দুই তারকা খসে পড়লেও ছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারষ্টার নেইমার জুনিয়র। মেসি ও রোনালদো না থাকায় এই পথেই যে টেক্কা দিয়েছেন নেইমার। ব্রাজিল যে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল বাড়ির পথ ধরেছে, সে জন্য নয়। এ নিখাদ পরিসংখ্যানের হিসাব। যেখানে নিন্দুকদের চোখে ‘বাতাসের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যাওয়া’ এই ছেলেটিই সেরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণে সবচেয়ে বেশি শট (২৩) নেইমারের। এর মধ্যে গোলমুখে সবচেয়ে বেশি শট রাখতে পারা খেলোয়াড়টিও নেইমার। ১২টি শট তার লক্ষ্যে বা অন টার্গেট। কিন্তু এখানেই শেষ নয়! ব্রাজিলের এই চার ম্যাচে নেইমার খেলেছেন তাঁর দলের জন্য, সতীর্থদের জন্য। জেসুস-কুতিনহোদের জন্য সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গোলের সুযোগও (১৬) সৃষ্টি করেছেন এই নেইমার। এসব পরিসংখ্যান নিশ্চয়ই প্রতিপক্ষের ট্যাকলে তাঁর বারবার পড়ে যাওয়ার দৃশ্যকে ভুলিয়ে দেবে। আর বারবার পড়ে যাওয়ার কথা যে উঠছে, পরিসংখ্যান সেখানেও কিন্তু নেইমারের পক্ষে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিবার ফাউলের (২৩) শিকার হওয়া খেলোয়াড়টিও এই নেইমার। আর তা তিনি যেভাবেই সামলান, প্রতিপক্ষের ধেয়ে আসা খেলোয়াড়টিকে ড্রিবলিংয়ে আচ্ছন্ন করে ফেলার কৃতিত্বটাও তাঁর বেশি। এখন পর্যন্ত এই আসরে ৩৫টি সফল ড্রিবলিং করেছেন নেইমার।
ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড আরেকটি জায়গায় মেসি-রোনালদোর চেয়ে এগিয়ে। দুটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬ গোল করলেন নেইমার। এ জন্য প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে তাঁকে ৩৮টি শট নিতে হয়েছে। বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদোদের ৬টি করে গোল করতে যথাক্রমে ৬৭ ও ৭৪টি করে শট নিতে হয়েছে। বিশ্বকাপে নেইমার রেকর্ডের কাছে ম্লান এ সময়ের সেরা দুই খেলোয়াড়। গোলসংখ্যায় মেসিকে তো ধরে ফেললেনই, রোনালদোও বেশি দূরে নয়। আর দুটি গোল করতে পারলে বিশ্বকাপ গোলে ২৬ বছর বয়সী নেইমার পেছনে ফেলে দেবেন দুই মহাতারকাকে। কে জানে, হয়তো এই বিশ্বকাপেই! বিশ্বের এই অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি কার্যকর।  রাশিয়ার ভেন্যু কাজান তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের ঘাতক হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। শুরুটা হয়েছিল জার্মানীকে বিদায় দি।ে এরপর একে একে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে বাড়ির পথ দেখায় এই ষ্টেডিয়ামটি। তাতেই মেসি ও রোনালদোর পথে পা বাড়িয়েছেন নেইমার জুনিয়র। তারও বিশ্বকাপ জয়ের আশা পূরণ হয়নি। এছাড়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল এবার টানা চতুর্থবারের মতো ইউরোপের কোনো দলের কাছে হেরে বিদায় নিলো।
২০০৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়েল পর ২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর এবার ইউরোপের আরেকটি দল বেলজিয়ামের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলো ব্রাজিলের। তাতে বেশি হতাশা ২৬ বছর বয়সী নেইমারের। যিনি বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়ও বটে। পায়ের ইনজুরিতে প্রায় তিনমাস মাঠের বাইরে থেকে বিশ্বকাপে খেলায় ফিরেছিলেন তিনি। ব্রাজিলের প্রথম দুই বিশ্বকাপ ম্যাচের পারফরমেন্সের জন্য দারুণ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে প্যারিস সেন্টঁ জার্মেইয়ের এ ফরোয়ার্ডকে। এবারের আসরে কোস্টারিকার বিপক্ষ জয়ের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার কান্না নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া মাঠে অভিনয়ের কারণে কম সমালোচনা হয়নি তাকে নিয়ে। এবার বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ে হেক্সা মিশনটা অপূর্ণই থেকে গেল। এখন অপেক্ষা আরো চার বছরের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ