ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অঘটনেই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য্য

অরণ্য আলভী তন্ময় : খেলাধুলার যে কোন বড় আসর মানেই অঘটনের বসবাস। ছোট দলগুলো বড় দলকে না হারালে যেন সবকিছুই থেকে যায় অপূর্ন। রাশিয়াতে অবশ্য সেই ধারাটি বেশি করেই অব্যহত রয়েছে। চারবছর পর পর ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে রীতিমতো বুদ হয়ে থাকেন তাবৎ দুনিয়ার মানুষগুলো। এই খেলাটিকে ভালবাসেন না এমন মানুষ খুজে পাওয়া দুস্কর হবে। সে কারণেই জাতিসংঘের অর্ন্তভুক্ত দেশের চেয়ে ফুটবল খেলা দেশের সংখ্যা বেশি! আর বিশ্বকাপ আসলে খেলাটি আসল সৌন্দর্যের দেখা পাওয়া যায়। অঘটন, নতুন খেলোয়াড়ের উত্থান, বয়সের কাছে কিংবা পারফরম্যান্সের কারণে বিদায়, নিচু সারির দলের বাজিমাত করা এসব ঘটনা না ঘটলে বিশ্বকাপ মানুষকে আনন্দ দিতে পারেনা। এটা যেন অবধারিত ঘটনাই হয়ে থাকে। এই যেমন এবারের বিশ্বকাপে রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার শুরু ৯০ মিনিট পরই! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলম্বিয়াও সমতা ফেরাল অতিরিক্ত সময়ে ইয়েরি মিনার হেডে। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির মিনা হেডে বল জালে জড়িয়েই দিলেন দৌড়, থামলেন গিয়ে গ্যালারিতে।
মনে হচ্ছিল শেষ বেলার এই গোল সৌভাগ্য বয়ে এনেছে কলম্বিয়ার। কিন্তু না, হৃদয়বিদারক টাইব্রেকার হেরে বিদায় লাতিন দলটির। আর এটাই মানতে পারছেন না এবারের বিশ্বকাপে তিনটি গোল করা মিনা, ‘এভাবে বাদ পড়া বিশাল ধাক্কার। এমন হার আমাদের প্রাপ্য নয়। ইংল্যান্ডের চেয়ে অনেক ভালো খেলেছি, কিন্তু কষ্টটা হচ্ছে পেনাল্টির আগে শেষ করতে পারিনি ম্যাচটি।’ পোল্যান্ড, সেনেগালের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও হেডে গোল করলেন মিনা। কলম্বিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিন গোল এই ডিফেন্ডারের। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর হেডে তিন গোল করা প্রথম ডিফেন্ডার তিনি। আর ১৯৬২ সালে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ভাভার পর প্রথম লাতিন হিসেবে হেডে বিশ্বকাপে করলেন তিন গোল। এ জন্য গর্বিত বার্সার এই তারকা। লাতিন দল হলেও ছন্দময় ফুটবলের ছোঁয়া ছিল না কলম্বিয়ার খেলায়। শিল্পের বদলে দেখা গেছে শক্তির প্রদর্শনী। দুই দলের মোট ফাউল ৩৬টি, এর ২৩টি কলম্বিয়ান খেলোয়াড়দের। আট হলুদ কার্ডের ছয়টিও দেখেছে তারা। এটাই মানতে পারছেন না কলম্বিয়ান তারকা রাদামেল ফালকাও। যুক্তরাষ্ট্রের রেফারি মার্ক গেইগেরকে ম্যাচের সময় বেশ কবার ঘিরে ধরেছিলেন তারা। ম্যাচ শেষেও তাঁকে একহাত নিতেও ছাড়েননি।
হারলে অভিযোগ করাটা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মাঠের খেলা চলে আসে মাঠের বাইরে। পর্তুগাল-মরক্কো ম্যাচের সময় গেইগর বিতর্কিত হয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জার্সি চেয়ে। পক্ষপাতের অভিযোগ টেনে ফালকাও আরো একবার বিতর্কিত করলেন তাঁকে। পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর পর রেফারিকে কিছুক্ষণ ঘিরে রেখেছিলেন কলম্বিয়ানরা। কাজ হয়নি তাতে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে বিদায় নিলেও লজ্জায় মাথা হেঁট করার কিছু দেখছেন না ফুটবল বিশ্লেষকরা। যদিও ম্যাচ শুরুর আগেই ধাক্কা খায় কলম্বিয়া। গত আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা হামেস রদ্রিগেস চোটের জন্য ছিলেন না বেঞ্চেও! খেলা দেখেছেন গ্যালারিতে বসে। টাইব্রেকারের সময় নিচে নেমে এসে একাকী ছিলেন বেঞ্চে। টুইটারে পোস্ট করেছেন কান্নার ছবি। গোলরক্ষক দাভিদ ওসপিনাও মানতে পারছেন না এমন হার। জর্ডান হেন্ডারসনের নেওয়া তৃতীয় শট ডাইভ দিয়ে রুখে কলম্বিয়ার আশা জাগিয়েছিলেন ওসপিনা। এসব যেন বিশ্বকাপের পরিচিত ছবি, আবার কারো কারো কাছে সৌন্দর্যের প্রতীকও। এর পরও হারতে হয়েছে দুভার্গ্যে। এ জন্য ভেঙে না পড়ে গর্ব নিয়ে দেশে ফেরার কথা ওসপিনা সবাইকে জানিয়ে গেছেন। একে স্পোর্টিং মনোভাব না বলে কি কোন উপায় আছে। বিশ্বকাপ হবে এমন একটি আসর যেখানে থাকবেনা ছোট দল কিংবা বড় দল। র‌্যাংকিংয়েও খুব বেশি তফাত থাকবেনা। এই যেমন বিশ্বকাপ শুরু আগে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে উপরের দল ছিল জার্মানী আর নিচের রাশিয়া। কোয়াটার ফাইনালে খেলা দলগুলোর র‌্যাংকিং বিবেচনা করলে কিন্তু র‌্যাংকিং নিয়ে আপনার মাথাটা একটু খারাপ হতেই পারে।
বিশ্বকাপ তিন সপ্তাহের যাত্রা পেরিয়ে ২১ তম আসর এখন শেষের প্রহর গুনছে। সবার নিচে থাকা রাশিয়া যেমন  সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নে বিভোর ছল, অন্যদিকে প্রথম রাউন্ড খেলেই বাড়ি চলে যেতে হয়েছে সবার উপরে থাকা জার্মানীকে। কেবল রাশিয়া আর জার্মানির ক্ষেত্রেই নয়, র‌্যাংকিংকে ‘বুড়ো’ আঙুল দেখিয়ে উত্থান আর পতন হয়েছে আরও বেশ কিছু দলের। এটাই বেশি আনন্দ দিয়েছে, পাশাপাশি এটা যে বিশ্বকাপ তার প্রমাণ দিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে র‌্যাংকিংয়ের প্রথম দশের দল আছে মাত্র তিনটি- ব্রাজিল (২), বেলজিয়াম (৩) আর ফ্রান্স (৭)। এক নম্বরের জার্মানি আর আট নম্বরের পোল্যান্ড বিদায় নিয়েছে প্রথম রাউন্ডেই। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল (৪), আর্জেন্টিনা (৫), সুইজারল্যান্ড (৬) ও স্পেন (১০)। প্রথম দশের তিনটি দলের সঙ্গে কোয়ার্টারে ওঠা বাকি পাঁচটি হচ্ছে ইংল্যান্ড (১২), উরুগুয়ে (১৪), ক্রোয়েশিয়া (২০), সুইডেন (২৪) এবং সত্তরের রাশিয়া। বিশ্বকাপ খেলতে আসা র‌্যাংকিংয়ের প্রথম ১৫টি দলের ১১টিই বাদ পড়ে গেছে কোয়ার্টারের আগে আগে। এ তো গেল বাদ পড়া আর টিকে থাকার খতিয়ান। মুখোমুখি লড়াইয়েও র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকে আটকে দিয়েছে পিছিয়ে থাকারা। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চমকটি দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ‘জি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-০-তে হারায় এশিয়ার দেশটি। অথচ দুই দলের র‌্যাংকিং ব্যবধান ছিল ৫৬! এশিয়াতে তৃতীয় হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার ফিফা র‌্যাংকিংয়ের অবস্থান ৫৭। র‌্যাংকিংয়ের পার্থক্যের দিক থেকে অঘটনের আরেকটি ম্যাচ স্পেন-রাশিয়ার। দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় পেনাল্টিতে জেতার আগে ১২০ মিনিটের উন্মুক্ত খেলায় রামোস-পিকেদের ১-১-এ রুখে দেয় রাশিয়া। এ দুই দলের র‌্যাংকিং ব্যবধান ৭০ - ১০= ৬০।  তার আগে বিশ্বকাপে নিজেদেও প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে জার্মানির হারেও ছিল র‌্যাংকিংয়ের পরাজয়। উত্তর আমেরিকা মহাদেশে এক নম্বর হলেও ফিফা র‌্যাংকিংয়ে মেক্সিকোর অবস্থান ১৫। এই মেক্সিকোই আবার উল্টো ধাক্কায় হারের খাদের পড়ে গিয়েছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হাভিয়ের হার্নান্দেজরা ০-৩-এ হেরে যান সুইডেনের কাছে। কোয়াটার ফাইনাল পর্যন্ত টিকে থাকা সুইডিশরা আছে র‌্যাংকিংয়ের ২৪ নম্বরে। সুইডেনের কাছে মেক্সিকো যেমন, তেমনি ০-৩-এ ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারে আর্জেন্টিনা। অথচ র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে ছিলেন লিওনেল মেসিরাই। দুই দলের ব্যবধান ২০-৫=১৫। মেসিদের আরেকটি ম্যাচেও র‌্যাংকিং কাজে আসেনি। দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ১-১-এ তাল মেলানো আইসল্যান্ড ছিল র‌্যাংকিংয়ের ২২-এ। এশিয়ার দেশ কোরিয়ার চেয়েও বড় চমক দেখিয়েছে জাপান। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই ২-১-এ হারিয়ে দেয় কলম্বিয়াকে। কোনো লাতিন আমেরিকান দেশের বিপক্ষে যে কোনো এশিয়ান দেশের প্রথম জয় ছিল এটি। জাপান ছিল ৬০-এ, কলম্বিয়া ১৬। কেবল কলম্বিয়া নয়, ষাট নম্বরের জাপান প্রায় হারিয়ে দিচ্ছিল তিন নম্বরের বেলজিয়ামকেও। দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় এডেন হ্যাজার্ডদের বিপক্ষে একপর্যায়ে ২-০-তে এগিয়ে ছিল জাপান। যদিও শেষ পঁচিশ মিনিটের ব্যর্থতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে হার নিয়েই। তবে র‌্যাংকিং যে শক্তিমত্তার মান নির্ণায়ক হলেও আসল মানদন্ড নয়, সেটিই প্রমাণ করে গেছে সূর্যোদয়ের দেশটি। প্রমাণ করে যাচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপও। ফুটবলের আসল পরিচয়ও দিয়েছে। শুধু ক্রিকেট কেন অঘটনের খেলা হবে, ফুটবল যে সেই জায়গা নিতে প্রস্তুত তার প্রমাণও পাওয়া গেল।
বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের ফায়দা সমসাময়িক অনেক দেশই নিতে পেরেছে। বাদ যায়নি এবার রাশিয়াও। শুধু ফুটবল নয় অন্য প্রায় সব খেলাই স্বাগতিকদের কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখে। ফুটবলে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ পরিভাষাটি আক্ষরিক অর্থের মতোই স্বাগতিকদের কাছে খুব ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। নিজেদের ঘরের মাঠ আর দর্শকদের অনুপ্রেরণায় ভালো খেলার সাহস পায় স্বাগতিকরা। হোম অ্যাডভান্টেজের কারণেই মানসিকভাবে এগিয়ে থাকে তারা। তবে বিশ্বকাপে ‘স্বাগতিক’ শব্দটি দিয়ে শুধু আয়োজক দেশকেই বুঝলে চলবে না। অনেক সময় স্বাগতিক দেশের মাঠ, পরিবেশ বা কন্ডিশনকে মানিয়ে নিয়ে আয়োজক না হয়েও যে কোনো দেশ হয়ে ওঠে ‘স্বাগতিক দেশ’। স্বাগতিক শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘আয়োজক দেশ’ হলেও বিশ্বকাপে তা যে কোনো একটি অঞ্চলকেই বোঝায়, সেটির প্রমাণ মেলে বিশ্বকাপের গত কয়েকটি আসরেই। আয়োজক ভিত্তিতে নয়, বরং অঞ্চলভিত্তিতেই স্বাগতিকদের রেকর্ড ভালো। বিশ্বকাপে সব সময় অঞ্চলভিত্তিক অর্থের ’স্বাগতিক’ দেশগুলোই ভালো করে। এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপ দিয়েই তার প্রমাণ মিলবে। প্রথমবারের মতো পূর্ব ইউরোপে ফিফা বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর প্রথমবারের মতো এ অঞ্চল থেকে একসঙ্গে দুটি দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া মুখোমুখি হয় প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ অঞ্চলের দেশ রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া। এটি রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়ার মতো কোয়ার্টারে ওঠার ঘটনার সঙ্গে পুরোপুরি না মিললেও অঞ্চল হিসেবে কোয়ার্টারে ওঠায় তাদের সাদৃশ্যতা রয়েছে।
তবে আবার অনেক সময় এর উল্টো চিত্রও রয়েছে। একই অঞ্চলের দলগুলো যে সব সময় ভালো করবে, তাও বলা মুশকিল। এবারের বিশ্বকাপের সার্বিয়া ও পোল্যান্ডের কথাই ধরুন। গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি তারা। তবে গত বিশ্বকাপে স্বাগতিক অঞ্চলের দেশগুলোর আধিপত্য দেখেছে ফুটবলবিশ্ব। কোয়ার্টার ফাইনালের আটটি দলের চারটিই ছিল দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশ। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও কোস্টারিকা সেবার ভালোই প্রভাব বিস্তার করেছিল। যদিও আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মানি শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল সেবার। আফ্রিকান অঞ্চলে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়। আর আফ্রিকানদের ঝান্ডা সেবার ছিল ঘানার কাছে। সেবার তারাই একমাত্র আফ্রিকান দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল। এশিয়া অঞ্চলে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় জাপান-কোরিয়ায়। ২০০২ সালের ওই বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া প্রথমবারের মতো এশিয়ান কোনো দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলেছিল। ইতালি ও স্পেনের মতো দলকে হারিয়ে সেবার সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা। ফুটবল কারিশমা দেখিয়ে মুগ্ধ করেছিল দর্শককে। তবে যে কোনো ফুটবল আসরে দল নিরাপদে থাকা বা ঘরের মতো পরিবেশে থাকতে পারাটা খুবই জরুরি। এখানেও ফুটবলের সৌন্দর্যের দেখা মেলে। জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে যে সমস্যায় পড়েছিল স্পেন। তাদের কোয়ার্টার ফাইনালের আগের রাতে ঘটেছিল একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা।
স্পেন যে হোটেলে ছিল, সেখানে ককটেল পড়েছিল এবং তাদের পরিবার সবাই আতঙ্কে ছিলেন। মাঠে নেমেও তাদের ভয়ে ভয়ে খেলতে হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া-রাশিয়া ম্যাচ নিয়েও তাই চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। যদিও ক্রোয়েশিয়া পূর্ব ইউরোপের দেশ হিসেবে অনেকটা সমর্থন পাবে বলে আশা করছেন ক্রোয়াটরা। ডিফেন্ডার ভেদ্রান করলুকা লোকোমটিভ মস্কো ক্লাবের হয়ে খেলে থাকেন। ক্রোয়াট সহকারী কোচ ইভিকা ওলিচও সিএসকে মস্কোর সাবেক একজন তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। তাই রাশিয়া থেকে মোটেও কম ‘হোম অ্যাডভান্টেজে’র দাবিদার নয় ক্রোয়েশিয়াও। স্বাগতিক হিসেবেও সুবিধা নিতে চায় তারা। এসব বিষয়কে সামনে এনে ভাবনা চিন্তার উর্ধ্বে উঠে ভাল খেলা দলটিই জিতবে শিরোপা, এটা বলেই দেয়া যায়। সেখানেও মিলতে পারে আসল সৌন্দর্যের দেখা, অপেক্ষা সে পর্যন্তই। এবারের আসরে শেষ চমকটা এসেছে ব্রাজিলের বিদায়ে।
গত আসরের সেমিফাইনালিষ্ট দলটি এবারো শিরোপার অন্যতম দাবীদার ছিল। সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন জার্মানী ও আর্জেন্টিনা বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব ও দ্বিতীয় রাউন্ডে। সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা সামনে পেয়েছিল বেলজিয়ামকে। ৫৫ বছরের ইতিহাসে ইউরোপের দলটির বিপক্ষে না হারার রেকর্ডটি আর অক্ষুন্ন থাকলনা। ২-১ গোলে হেরে বিদায়ের রাগিনী বেজে উঠেছে। আবারো চার বছরের অপেক্ষা করতে হবে। নতুনদের জায়গা দিতে আগ্রহী পুরোনরা ঠিক মানতে পারছেন না বিষয়গুলোকে। তবে এখানেও ফুটবলের সৌন্দর্য্য নিহিত থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ