ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

মারিও মানজুকিচের গোলের পর ক্রোয়েশিয়ার উৎসব। ১০৯ মিনিটে তিনি দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করায় ক্রোয়েশিয়া প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে যায়

ক্রোয়েশিয়া ২ :  ইংল্যান্ড ১

কামরুজ্জামান হিরু: ইতিহাস গড়ে প্রথমবারেরমত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো ক্রোয়েশিয়া। সেমিফাইনালে ২-১ গোলে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। অপরদিকে স্থান নির্ধারনী ম্যাচে ইংলিশদের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ড্র থাকায় অতিরিক্ত সময়ে ভাগ্য নির্ধারিত হয়। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কিরান ট্রিপিয়ারের গোলে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান ইভান পেরিসিচ। অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের গোলে জয় পায় ক্রোয়েটরা।

মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে যাবার লড়াইটি ছিল তীব্রপ্রতিদ্বন্ধীতাপূর্ণ। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলা শুরু হলেও ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটেই কেইরান ট্রিপারের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়ান অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ ডি বক্সের বাইরে দেলে আলিকে ফাউল করলে ফ্রি কিক পায় ইংল্যান্ড। সরাসরি শটে গোল করে নিজ দলকে এগিয়ে দেন ট্রিপার। ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফ্রি কিক থেকে গোল পায় ইংল্যান্ড।এছাড়া চলতি বিশ্বকাপে সেট পিসে করা তাদের নবম গোল ছিল এটি। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে মানসিকভাবে এগিয়ে যায় থ্রি লায়নসরা।

অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার সুখস্মৃতিকে আরো বাড়িয়ে নেয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামা ক্রোয়েশিয়া সমতায় আসতে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে। যদিও ২২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করার একটি সুযোগ নস্ট করে ইংলিশরা। ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিচ বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি দিয়ে দেন রহিম স্টার্লিংয়ের পায়ে। স্টার্লিং দুর্দান্ত চতুরতায় তা কেইনকে দিলেও, অফসাইডের ফাঁদে ধরা পড়েন ইংলিশ অধিনায়ক। সেই যাত্রায় বেঁচে যান সুবাসিচ।কিছু সময় পর উইং দিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণে আক্রমণ সাজায় ক্রোয়েশিয়া। ছোট ছোট পাসে সামনে এগিয়ে হুট করেই বুলেট গতির শট নেন আনতে রেবিক। তবে ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড সতর্ক থাকায় গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় ক্রোয়েশিয়া।

বিরতির পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠে ৬৫ মিনিটে সমতা সূচক গোলের দেখা পায় ক্রোয়েশিয়া। ডি-বক্স থেকে ইভান পেরিসিচের শট ফেরে রক্ষণে দুই জনের গায়ে লেগে। তবে তিন মিনিট পর ডান দিক থেকে শিমে ভারসালকোর ক্রসে পা অনেক উঁচিয়ে বল জালে পাঠান পেরিসিচ ১-১।নির্ধারিত সময়েই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতো ক্রোয়েশিয়া। চার মিনিট পর ভাগ্যের সহায়তায় বেঁচে যায় ইংল্যান্ড। পেরিসিচের শট পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিলেও বল পোস্টে লেগে ফিরেছে। ম্যাচের নির্ধারিত সময় ও যোগ করা ৩ মিনিটেও ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়ার সেমিফাইনালটি ১-১ গোলে সমতা থাকে। ফলে অতিরিক্ত আরও ৩০ মিনিটের বাঁশি বাজান রেফারি।

অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের অসাধারণ এক গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারেরমত বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেলো ক্রোয়েশিয়া। ১০৯ মিনিটে অসাধারণ গোলটি করেন মারিও মানজুকিচ। ইংল্যান্ডের বক্সের মধ্য থেকেই বলটা প্রথমে ফিরে আসে। লাফ দিয়ে আলতো করে হেডে আবারও ইংল্যান্ডের জালের সামনে বলটা ঠেলে দেনেইভান পেরিসিচ। জন স্টোনকে পেছনে ফেলে বলটির নিয়ন্ত্রণ নিলেন মারিও মানজুকিচ। গোলরক্ষক পিকফোর্ডও বলের কাছে আর পৌঁছাতে পারলেন না। তার আগেই মানজুকিচ বাম পায়ের শটে অসাধারণ এক গোল করে ২-১ দলকে আনন্দে ভাসান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ