ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রূপগঞ্জে কৃষকের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার পর মামলা তুলে নিতে হত্যার হুমকি

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের শিমুলিয়া এলাকায় জমি লিখে না দেয়ায় এক প্রভাবশালী ভুমিদস্যুর নির্দেশে তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী আব্দুল ওহাব নামে এক কৃষকের হাত-পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই কৃষক মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার সকালে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দিবালোকে ওই কৃষকসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিবে বলে হুমকি দিয়েছে। হুমকির পর থেকেই কৃষক পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, জমি লিখে না দিলেই ওই প্রভাবশালী তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নিরীহদের বসতবাড়িতে হামলা ভাংচুর চালিয়ে আহতের ঘটনা ঘটায়। আর এতেও ব্যর্থ হলে জাল-জালিয়াতি করে কৃষকদের জমি কেড়ে নেয় তারা। এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল ফাতে মোঃ সফিকুল ইসলামের কাছেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
শিমুলিয়া এলাকার আবু তাহের অভিযোগ করে জানান, তার বাবা এক জন কৃষক। বাবার সঙ্গে কৃষি কাজে তিনি নিজেও সহযোগিতা করে থাকেন। শিমুলিয়া এলাকায় এএইচএম গোলাম কবির নামে এক প্রভাবশালী নামে-বেনামে বেশ কিছু জমি ক্রয় করেন। এএইচএম গোলাম কবিরের পালিত সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলাম হিরাসহ এ গ্রুপের লোকজন তাদের ৮৪ শতাংশের একটি কৃষি জমি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। প্রভাবশালী এএইচএম গোলাম কবিরের কাছে জমিটি বিক্রি করতে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এতে রাজি না হলে এএইচএম গোলাম কবিরের নির্দেশে সাইফুল ইসলাম হিরা বাহিনী সশস্ত্র অবস্থায় গত ৯ জুন দুপুরে আবু তাহেরের বাবা আব্দুল ওহাবের হাত-পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দেয়। প্রতিবাদ করায় আবু তাহেরকেও পিটিয়ে আহত করে। শুধু তাই নয়, বাড়িঘরের পাশাপাশি দোকানপাটও আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।
মামলা তুলে না নিলে আবু তাহের, বাবা আব্দুল হকসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়। শুক্রবার প্রকাশ্যে দিবালোকে এ হুমকি দেয়ার পর থেকেই পরিবারের  লোকজন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল ফাতে মোঃ সফিকুল ইসলামের কাছেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী কৃষক পরিবার।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, জমি জবরদখল বা হুমকির বিষয়ে আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে অব্যশই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকরা এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অবৈধ ভাবে কারো জমি জবরদখল করলে বা কৃষকদের উপর হামলা, বাড়িঘর ভাংচুর করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবেনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ