ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে

নাটোর সংবাদদাতা : বাবা কাঠের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কোন রকমের সংসার চালান। ব্যবসাও মন্দা। সংসারে আগে সচ্ছলতা থাকলেও বর্তমানে নেই। ছেলে মেয়েদের চাহিদাও ঠিক মতো পুরণ করতে পারেন না। দীর্ঘ দিন থেকে মোটর সাইকেল কিনে চাচ্ছিলেন। বাবার আর্থিক অনটনে দিতে পারেননি। ভাল পোশাকও জুটে না। অন্য বন্ধুদের মতো দামী পোশাক, দামী গাড়িতে চড়তে পারেন না। তাই মনের দুঃখে একসাথে অনেকগুলি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। বাড়ির লোকজন বুঝতে পেরে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে বেঁচে যান। কী কারণে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন জানতে চাইলে নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে নাটোরের বাগাতিপাড়ার এক যুবক এসব কথা বলছিলেন। অন্যদিকে প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাচ্ছে এখবর জানতে পেরে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন অপর যুবক। তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে ফিরেন। এভাবে কেউ কেউ বেঁচে ফিরলেও আত্মহত্যায় অনেকের জীবনই অকালে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি নাটোরের বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মডেল থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষনে দেখা যায়, বাগাতিপাড়া উপজেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। শুধু চলতি বছরের জুন মাসেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ১৮জন নারী-পুরুষ। এদের মধ্যে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছে চারজন। আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের মধ্যে ১৩ জনই নারী এবং মারা যাওয়া চারজনের মধ্যেও রয়েছে তিনজন নারী। শিক্ষার্থী, যুবক-যুবতী, গৃহবধূসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এ আত্মহত্যার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যাদের একটি বড় অংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ফলে দেখা যাচ্ছে ছাত্রী, গৃহবধূ ও কম শিক্ষিত নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ