ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গোসাইরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা

শরীয়তপুর : কাঁধে ব্যাগ আর জুতা হাতে নিয়ে বিদ্যালয় মাঠে জমে থাকা পচা পানি পার হয়ে ক্লাসে যেতে হচ্ছে এসব শিশু শিক্ষার্থীদের

শরীয়তপুর সংবাদদাতা: বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয় মাঠে বাজারের ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি ও বৃষ্টির পানি ঢুকে ব্যহত হচ্ছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থা। বিদ্যালয় মাঠে জমে থাকা ময়লা, পঁচা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি দিয়ে বই, খাতা, পেন্সিল আর স্কুল ব্যাগ নিয়ে শ্রেণী কক্ষে যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
দূষিত এ পানির কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সর্দি, কাশি জ¦র, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রায় অর্ধ শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা। এ চিত্র শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা সদরের পৌরসভার দাশেরজঙ্গল বাজারের পাশে ২নং দাশেরজঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়টির এ দুরাবস্থা দেখার যেন কেউ নেই। তবে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলা সদরের পৌরসভার দাশেরজঙ্গল বাজারের পশ্চিম পাশে ২ নং দাশেরজঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলার ৯৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২ নং দাশেরজঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। বিদ্যালয়টি দাশেরজঙ্গল বাজারের পাশেই অবস্থান। বিদ্যালয়টির আশে পার্শ্বের পুকুর ডোবা ভরাট  হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই পাশেই অবস্থিত মাছ ও সব্জি বাজারের ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি ঢুকে স্কুল মাঠটি সয়লাব হয়ে যায়। কোন ধরণের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় মাঠের এ বদ্ধ পানি পচে দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। দূষিত এ পানির কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সর্দি, কাশি জ¦র, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৫ শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের মধ্যে প্রাক প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা। প্রায় প্রতিদিনই বেশ কিছু শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে বিদ্যালয়ের এ পরিবেশের কারণে। আগামী ১২জুলাই শুর হবে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার্থীদের মডেল টেষ্ট। এ পরিবেশে শিক্ষার্থীরা কিভাবে পরিক্ষা দেবে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা রয়েয়েছেন দুশ্চিন্তায়। বিদ্যালয়টির বর্তমান এ দুরাবস্থা দেখার জন্য যেন কেউ নেই। 
অভিভাবক সেতু ঢালী  জানান, তার ছেলে এ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। বাচ্চা স্কুলে নিয়ে এলে ক্লাসের ফাঁকে সে মাঠে জমে থাকা পানিতে চলে যেতে চায় খেলা করার জন্য, বাধা দিয়ে রাখা যায়না। আর এসব ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে খেলা করে শিশুরা অনেকেই সর্দি, কাশি, জ¦র ও এলার্জিতে ভুগছে।
শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিলি আক্তার, লিখন দে, মাসুম বিল্লাহ, জেহাদ সরদার, হারুন বলেন, এ পঁচা পানি দিয়ে আমাদের শিশুরা বিদ্যালয় গিয়ে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আগামী ১২ জুলাই পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার্থীদের মডেল টেষ্ট শুরু হবে। এ পরিবেশে শিক্ষার্থীরা কিভাবে পরিক্ষা দেবে এ নিয়ে আমরা অনেক অভিভাবক দুশ্চিন্তা রয়েছি।  আমরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে দ্রুত সময়য়ের মধ্যে এ নোংরা পরিবেশ থেকে পরিত্রাণের দাবি করছি।
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী আয়েশা ও আখি বলেন, পচা পানি পার হয়ে ক্লাস রুমে যেতে হয়। এ কারনে অনেক ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে আসে না।
চতুর্থ শ্রেণীর সাজ্জাদুল বর্ষণ বলেন, পানি থাকায় গর্ত না দেখে পা পিছলে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি। ৫ম শ্রেণীর আদিবা ইসলাম ও নাহিয়ান কাব্য বলেন, পচা পানি দিয়ে যাওয়ার কারনে এলার্জি আর চুলকানিতে আমরা অসুস্থ হয়ে গেছি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওয়াহিদা আঞ্জুমান মুক্তা ও শিক্ষক আঃ ছাত্তার মিয়া বলেন, বদ্ধ পানির কারণে চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, তাতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে। বিদ্যালয় মাঠে পানি থাকার কারণে খেলাধুলা এবং দৈনন্দিন সমাবেশে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দিন মৃধা জানান, বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে থাকার বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা, সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় মাঠটি পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এবং আশেপাশের পুকুর ডোবা ভরাট  হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পানির জলাবদ্ধতার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। মাঠে মাটি ভরাট করা না হলে এ সমস্যা দূর হবে না। সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
গোসাইরহাট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কুদ্দুছ হাওলাদার বলেন, বিদ্যালয় মাঠ থেকে বাজার ও রাস্তা বেশী উচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ বছর থেকে এ সমস্যার সৃস্টি হয়েছে। বিষয়টি আমরা জেনেছি অর্থ বছরের শেষ হওয়ার পর। এ কারনে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মহোদয়কে অবহিত করার পৌরসভার পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এমপি মহোদয়ের কাছে বিষয়টি জানাতে বলেছি। আগামী জেলা উন্নয়ন সভায় বিষয়টি তুলে ধরে স্থায়ী ভাবে সমাধানের চেষ্টা করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর, এম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, পৌরসভার প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ