ঢাকা, শুক্রবার 13 July 2018, ২৯ আষাঢ় ১৪২৫, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছোটগল্পকার আল মাহমুদ

মীম মিজান ; আল মাহমুদ বাংলা সাহিত্যের এক বিরল প্রতিভা। যে ক'জন কবি তাদের কবিত্বের পাশাপাশি কথাসাহিত্যেও পোক্ত  অবস্থান করে নিয়েছেন তাদের মধ্যে কবি আল মাহমুদ অন্যতম। যার সাহিত্যজীবন শুরুই হয়েছিল সুনিপুণ হাতে রচিত একটি ছোটগল্প ১৯৫৪ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘সত্যযুগ’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশের মাধ্যমে। তিনি কতটা মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন ছোটগল্পকার হিসেবে তা পর্যালোচনার বিষয়। তার ছোটগল্পের ভূগোল সুবিস্তৃত। বাংলাদেশ, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃতি ও মানুষ নিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে, পুরান ঢাকা থেকে রাজধানীর অত্যাধুনিক মানুষের মনন ও অনুভূতি, এমনকি সমুদ্রের আবহও রূপায়িত হয়েছে আল মাহমুদের স্বতন্ত্র মনোভঙ্গি ও দৃষ্টিকোণ থেকে। আমাদের অন্যতম সেরা কথাশিল্পী ও সমালোচক আবু রুশদ তাই তার গল্পের বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। আল মাহমুদ (জন্মঃ ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১১জুলাই) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তিনি একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও ছোটগল্প লেখক। 

১৯৩০-এর কবিদের হাতে বাংলা কবিতায় যে আধুনিকতার ঊণ্মেষ, তার সাফল্যের ঝা-া আল মাহমুদ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে অদ্যাবধি তুলনারহিত কৃতিত্বের সঙ্গে বহন ক'রে চলেছেন। তিনি বাংলা সাহিত্যকে করেছেন ঋদ্ধ তার

সৃজনশীলতায়। কবিতা, ছোট গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই মিলিয়ে শতাধিক সাহিত্য প্রকাশনা সাহিত্যরস রসিকদের পিপাসা পূরণ করছে।

তার গদ্যের মায়াজাল, বর্ণনার বিশ্বস্ততা ও অনুপুঙ্খতা তার গল্পের পাঠককে বাধ্য করে তার অন্যান্য গল্পগুলোকে পাঠে। পাশাপাশি আল মাহমুদের গল্পের মূল আকর্ষণ পাঠককে গল্পের ভিতর টেনে নিয়ে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে।

এই ক্ষমতা যতটা কাহিনীর কারণে তার চেয়ে বেশী ভাষার কারুকাজে ও উপমার ব্যঞ্জনায়।

আল মাহমুদ কি খেয়ালিপনায় গল্পের জগতে ডুব দিয়েছিলেন? না, প্রবল জীবনমুখী দৃষ্টি নিয়ে আল মাহমুদের গল্পে আর্বিভাব। কত সামান্য ঘটনাকে এই কবি ও কথা শিল্পী, একটি নিখুত গল্পে পরিণত করতে পারেন তার গল্পগুলোই সু-স্পষ্ট প্রমাণ। পানকৌড়ি থেকে শুরু করে তার সর্বশেষ গল্প গ্রন্থ চার পাতার প্রেম পর্যন্ত বিশাল এই গল্প ভান্ডারে কি নেই! মানবজীবনের এক রহস্যময় বিশ্বাস যেন আল মাহমুদের গল্পগুলো।

তার গল্পজগৎ বিচরণ করলে শৈশব, কৈশোর, যৌবনের উচ্ছলা নদীসহ জীবনের পরতে পরতে মোড় নেয়া ঘটনাপঞ্জি ও শব্দাবলীর সাক্ষাৎ মেলে। পানকৌড়ির রক্ত থেকে শুরু করে কালো নৌকা, কিংবা , জলবেশ্যা অথবা নীল নাকফুল, নফস কিংবা ইভের ছাড়া নিশিন্দা নারী, অথবা নিলফার চর। প্রতিটি গল্পের ভেতর দিয়েই জীবন নদীর তীব্র স্রোত হৈ হুল্লোড় চমক, এবং গমকে গমকে জীবন নদীর পার ভেঙে যাওয়ার শব্দ পাওয়া যায়। অনিশ্চিত এক ধোয়াশা জীবনের সন্ধান পাওয়া যায় আল মাহমুদের গল্পে যে জীবন কাল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে অজানার পথে। যে জীবন ঘুরে ফিরেছে কারাগারে অচিন প্রেমে আর শৈশবে।

অনেক কবি গল্প লিখেছেন তবে তারা সফল হতে পারেন নি এ ধারায়। বিস্ময়কর কিছু কবি ব্যক্তিত্ব যেমন রবি ঠাকুর ও নজরুলের গদ্য ছিল অসাধারণ। তাদের কাব্য ছিল অনন্য। অনুরূপ কবির গদ্য , উপমায় উৎপেক্ষায় চিত্রকল্পে সময় শানিত। আল মাহমুদের গল্পগুলো তারই প্রমাণ, কবির গল্প পাঠ করতে করতে সাহিত্য প্রেমে পাঠক একই সাথে পাবেন কবিতা ও গদ্যের স্বাদ। তার সাথে আছে আল মাহমুদের নিজস্ব দক্ষতার কাহিনীর চিত্রায়ন। যে কাহিনী শুধু আল মাহমুদের নয় তার আশে পাশের দৃশ্যপটেরও। ষাটের দশকে কথা শিল্পী আল মাহমুদের গদ্যভঙ্গির প্রশংসা করে কবি জসীমউদ্দীন তাকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, 'তোমার গদ্য লেখার বেশ ভালো ক্ষমতা। এদিকটা যদি আর ও অনেক খানি প্রসারিত কর।'

সন্দেহ নেই আল মাহমুদ তা প্রবলভাবেই প্রসারিত করেছেন।

তার গল্পেও কবিতার মতই রসালো ও আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার তার গল্পকে দিয়েছে এক অনন্য মান। যেমনটি  'জলবেশ্যার' খানিকটা অংশ, 'নাম জিগাইয়া কি অইব?

নাম আমার বেউলা সুন্দরী!'

আমার নাম আবিদ বেপারি। আমি অই হাডে দালালি করি।' চিবুকটা চুলকাতে চুলকাতে বললো, আবিদ বেপারি।

'অ আল্লাহ, আপনে তইলে লখিন্দর না! আর আমি ভাবতাছি, আমার নাওয়ে লখাই আইছে।'

তিনি তার গল্পে মানব প্রকৃতির একেবারেই অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। মানব প্রকৃতির বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ ও একসাথে বিহার এবং বিহারে সূর্যাস্তের সময় মননে প্রফুল্লতা এঁকেছেন নিপুণ হাতে। যেমন ‘কালো নৌকা’ গল্পে তিনি বর্ণনা করেছেন, ‘মেয়েরা শাড়ি টেনে গোড়ালি উদোম করে হাঁটছিল। কেউ কেউ কাদা মাড়িয়ে বাহাদুরি দেখাতে সমুদ্রের জলসীমায় গিয়ে হাঁটুর ওপর ঢেউয়ের বাড়ি লাগাচ্ছে। ছোট ছোট ঢেউ এসে তাদের শাড়ির নিচের দিকটা হাঁটু পর্যন্ত ভিজিয়ে দিচ্ছে। তাদের সঙ্গী পুরুষরা জুতো হাতে ডাঙায় শুকনো বালিতে দাঁড়িয়ে দেখছে। সূর্যাস্তের প্রাকৃতিক মোহকে উপভোগ করার একটা প্রবণতা কিংবা বলা যায় প্রস্তুতি আছে মানুষের মধ্যে। যা ক্ষণস্থায়ী তন্ময়তা এনে দিয়েছে এইসব নরনারীর মুখে।'

গল্পকার আল মাহমুদ গ্রামীণ, শহুরে জীবনের চিত্র এঁকেছেন। এঁকেছিলেন নর-নারীর প্রেম, বেদেদের জীবন, সংসারহীন যুবকের সপ্তাহান্তে রোজগারের টাকার যাচ্ছেতাই অপচয়, বাবাদের নূতন সংসারের প্রতি মোহ ইত্যাদি। তবে তার কলমে আমরা নদী, নৌকা, ঢেউ, রাতের দৃশ্য, বাজারের ব্যস্ততা ও নারীর সৌন্দর্যের এক মনোহরী বর্ণনা পাই। যেমনটি তিনি 'তৃতীয় এক নৌকা' গল্পে পাটনী ইদুর নূতন বউয়ের রূপের বর্ণনায় বলতেছেন, 'এবার আমি ইদুর বউয়ের দিকে ভালোকরে দেখলাম। সুন্দর শ্যামবর্ণের চেহারা। মনে হয় নাকে একটা নাকফুল আছে। কথাবার্তায় নাওয়ের নাড়াচাড়ায় ইদুর বউয়ের গতরের খদ্দরের চাদরটা সরেগেলে আমি তার উঁচু বুক দুটো দেখতে পেলাম। গলায় একটা কালোতাগা পরা। এর মধ্যে ছিদ্র করা কয়েকটি কড়ির অলংকার।গায়ে কোনো ব্লাউজ নাথাকায় তার শ্যামবর্ণ শরীরের আভাস আমাকে বলা যায় মুগ্ধই করল।’

আল মাহমুদের আচরিত গল্পগুলোর অধিকাংশই নদী সম্পর্কিত সভ্যতার। জেলে জীবন, পাটনী জীবন, নদী কূলস্থ গ্রাম ও সম্প্রদায়ের জীবনে সুখ-দুখ শিল্পীত হয়েছে তার গল্পে। তার গল্পসমগ্রে যদি কোনো পাঠক প্রবেশ করে তবে সে পাঠক চর জীবন, হাওর জীবন ও নদী-হাওরে ডাকাতদের ভয় ইত্যাদি দেখতে পাবে। পাশাপাশি নব্য দম্পতির খুনসুটিও এসেছে রস্বাদন হিশেবে। 'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পে সেই দৃশ্যের অবতারণা, 'আমি যাতে ঘুমাতে পারি আদিনাকে সে চেষ্টা করতে বলে শ্বশুর-শাশুড়ি ঘরের দরজা ভেজিয়ে দিয়ে বেড়িয়ে গেলেন। তারা চলে গেলে আদিনা দরজার খিল এঁটে দিল। তারপর একটি রুমাল ভিজিয়ে আমার কপালের উপর জলপট্টি চেপে ধরে আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, 'আজ হবে। ব্যাপারটা বন্ধ হয়েছে।'

স্বামীরা তাদের বউদের ভয়ে অনেক সময় তটস্ত থাকে। আল মাহমুদ একজন জীবন ঘনিষ্ট গল্পকার হিশেবে এই অনুষঙ্গ তিনি এনে তার গল্পগুলোকে বাস্তবতায় রূপ দিয়েছেন। 'রোকনের স্বপ্নদোলা' নামক গল্পে রোকন যেমনটি স্ত্রী ভয়ে পরিচিতা এক মহিলার সঙ্গে সৌজন্যতাও দেখানোর সাহস করে উঠতে পারছেনা। 'রোকন একবার ভাবলো ভদ্রমহিলাকে বলবে, তাঁকে চেনা লাগছে। কিন্তু রোকেয়ার দিকে চোখ পড়তেই আর উৎসাহ রইল না।'

আমরা রবি ঠাকুর কিংবা সৈয়দ মুজতবা আলীর গল্প পড়লে সেখানে দেখি যে রবি ঠাকুর কিংবা সৈয়দ সাহেব নিজেই কোনো না কোনো গল্পের এক চরিত্র। এই ধারাটিও আল মাহমুদ রপ্ত করেছিলেন। যেমনটি 'বুনো বৃষ্টির প্ররোচনা' গল্পে তিনি নিজের নামটিকে(মাহমুদ) একটি চরিত্র হিসেবে চিত্রায়ন করেছেন।

গ্রামের মানুষদের মধ্যে শহুরে মানুষদের থেকে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা অনেকখানিই বেশি। 'মাংসের তোরণ' গল্পে এই ভালোবাসা ও আন্তরিকতার একটি দৃশ্য দৃশ্যায়ন করেছেন মেধাবী গল্পকার আল মাহমুদ। বৃদ্ধা ও নববধূর সংলাপে পরিস্ফূটন হয়েছে তা। এছাড়াও যদি আমরা তার ভেজা কাফন, নীল নাকফুল, মীরবাড়ীর কুরসিনামা, একটি চুম্বনের জন্য প্রার্থনা, গন্ধবণিক, এক পলক, ভেতরের মানুষসহ অন্যান্য গল্পগুলো পড়ি তাহলে এক কথায় স্বীকার করতে হয়যে, তিনি গল্পকার হিশেবেও এক শক্তিমান সাহিত্যিক।

‘শ্রেষ্ঠ আল মাহমুদ' গ্রন্থের ফ্লাপ কভারে আল মাহমুদকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী গল্পকার হিসেবে আখ্যায়িত করে লিখা হয়েছে, 'তিনি আমাদের সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবিই শুধু নন, অপ্রতিদ্বন্দ্বী গল্পকারও।'

 আল মাহমুদের গল্প নিয়ে কথা শিল্পী আবু রুশদ মন্তব্য করেছিলেন 'বাংলাদেশে আল মাহমুদের সমতূল্য অন্য কোনো কবির হাত থেকে এত কয়টা ভালো গল্প বেরিয়েছে বলে আমার জানা নেই। এটা তার সাহিত্যিক গুরুত্বে ঈর্ষণীয় এক মাত্রা যোগ করবে বলে আমার বিশ্বাস।  শুধু কবি নয় গল্পকারদের হাত থেকে এত ভালো গল্প বাংলা ছোটগল্পে বিরল।'

আল মাহমুদ একজন সফল গল্পকার হিশেবে বর্তমান সময়ে সাহিত্য পরিম-লে প্রশংসিত ও নন্দিত। অনেকেই তার তিনটি অসাধারণ গল্প হিশেবে 'পানকৌড়ির রক্ত', ' জলবেশ্যা' ও 'মীরবাড়ির কুরসীনামা'র নাম উল্লেখ করেছেন।

'শ্রেষ্ঠ আল মাহমুদ' গ্রন্থের মুখবন্ধে নন্দিত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন কবি আল মাহমুদের গল্পের স্তুতি লিখেছেন, 'কী অসাধারণ সব বিষয় গল্পের, কী অসাধারণ ভাষা, কী অসাধারণ বর্ণনা!

তরুণ উপন্যাসিক ও গল্পকার স্বকৃত নোমান আল মাহমুদের গল্পসমগ্র মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ে অতি সম্প্রতি একটি মন্তব্যে লিখেছেন- 'আল মাহমুদের গল্পসমগ্রের মোট ৬৭টি গল্প পড়ে অসাধারণ চারটি গল্প খুঁজে পেলাম―জলবেশ্যা, পানকৌড়ির রক্ত, কালোনৌকা ও গন্ধবণিক। গল্পসমগ্রের সর্বশেষ গল্পটি পড়ে চোখ বন্ধ করি। কল্পনা করি একটি বিশাল আকাশ। আকাশটিতে পৃথিবীর বহু ভাষার বহু গল্প তারকারাজির মতো ফুটে আছে। সবচেয়ে উজ্জ্বল যে কটি তারা আছে তার মধ্যে 'জলবেশ্যা' একটি।'

তিনি কতটা কিংবদন্তী ছোটগল্পকার তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে, তার আলোচিত ছোটগল্প ‘জলবেশ্যা’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘টান’। কলকাতার পরিচালক মুকুল রায় চৌধুরী ছবিটি নির্মাণ করেছেন(প্রথম আলো, ২৩

ফেব্রুয়ারী, ২০১৪)।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য তিনি আজ অপরিহার্য। তার আগমন আশীর্বাদ  হয়ে দেখা দেয়। এই দেশ, দেশের মানুষ, প্রকৃতি, গৌরব ইতিহাস সবই একসমন্তরাল হয়ে তার আগমন প্রত্যক্ষ করে। তার শ্রম সাধনা, কবিতা-গল্পের প্রতি ভালোবাসা তাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করে। তিনিও নিজেকে ইতিহাসের সমান্তরালে নিজেকে নিয়ে আসতে পেরেছেন সার্থক ভাবে। কবিতা তাকে যেরকম খ্যাতি যশ এনে দিয়েছে গল্পও তাকে করেছে অমর এবং পাঠক মনে চিরজাগরুক। তিনি কথাসাহিত্যে তার মৌলিক শৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি গল্পকে দিয়েছেন তার

অহঙ্কারে অলঙ্কারাবদ্ধ আবেগতাড়িত হৃদয়। সূতরাং একথা অবিসংবিদিত যে, কবি ও কথাশিল্পীরূপে বর্তমানে তিনি এমন এক প্রাশস্ত্য অর্জন করেছেন, যা তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিস্তৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ