ঢাকা, শুক্রবার 13 July 2018, ২৯ আষাঢ় ১৪২৫, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

দুপুরের কল্লোল

মুহাম্মদ রেজাউল করিম

 

প্রজাপতি দাঁড়িয়েছো পুষ্পের পর

ঠাঁসা ভরা সব, জানো না কৌশল

মৌমাছি হও, অনুকূল হাওয়া

সমুদ্র বাতাস ওড়ে দেয়ালের ভেতর

ক্ষিপ্র নদী হও, মাটি উর্বর

নক্ষত্র জ্বলে দেয়ালের ’পর

যখন বরফ সব পাবে না ভোর

ক্লান্তির ভাঁজে ভাঁজে স্তব্ধ দুপুরের কল্লোল।

 

 

বেহেশ্তের বাড়ি

মোহাম্মাদ রবিউল হোসেন

 

আমি বেহেশ্তে একটি বাড়ি কিনবো বলে

আমৃত্যু আত্মার সঙ্গে যুদ্ধ করে যাই

ক্কাল্বে শেওলার মতো দাগ জমে আছে

নিয়মিত এবাদতে মশগুল থেকেও

মাঝে মাঝে মনে হয় শুদ্ধ নই আমি

না জানি কোথায় কোন্ ভুল রয়ে গেল

অনর্থক অর্থ যশ খ্যাতির পিছনে 

ঘুরে ঘুরে কী ভীষণ হাঁপিয়ে উঠেছি।

 

যত সামনে যেতে চাই কে যেন পিছনে

দু’পায় শিকল বেঁধে টানে অহরহ

আলেয়ার পিছু মিথ্যে এই ছুটে চলা।

আমার অর্থের কোনো লোভ নেই আর

আবু বকরের শ্রেষ্ঠ দানের মতোন

বিলিয়ে দিলাম আজ অকাতরে সব

এই নাক মুখ চোখ হাত-পা আঙুল

কোহিনুর থেকে আরও কোটি কোটি দামী।

 

শুকরিয়ায় নত হয়ে কেঁদে কেঁদে বলি

পাকপরওয়ারদিগার এই দুনিয়ায়

তোমার নৈকট্যলাভে যাকিছু করেছি

তার বিনিময়ে দিও বেহেশ্তের বাড়ি।

 

 

 

আমি যেন পিতা 

আরিফুল ইসলাম সাহাজি

 

লিখব না !

 

কি হবে লিখে : কমবে কি আঁধার ?

তবে ডায়রির সাদা পাতা লোভ দেখায়

 

               উপুড় হয়ে থাকা হৃদয়কে

                জাগিয়ে তুলি আবার

 

একটা একটা করে শব্দ বসাই

উপমা : অলংকার দিয়ে সাজাই

 

                  আমি যেন পিতা

                   কবিতা আমার সন্তান ।

 

নিজ সন্তানকে রোজ সাজিয়ে তুলি

থাকি পাত্রপক্ষের অপেক্ষায় ।

 

 

 

ঘুমোতে পারে না কেউ

হাসান নাজমুল

 

কারও হৃদয়ে কষ্ট দিয়ে-

ঘুমানো যায় না;

ঘুম তো বিরাজ করে প্রকৃতির চোখে!

পৃথিবীর বুকে রাত নেমে এলে

ঘুম চলে যায়- নিসর্গপাড়ায়;

দিবালোক শেষে যখন ঘনিয়ে আসে-

অন্ধকার; পাপীর হৃদয়জুড়ে তখনই

হাহাকারগুলো সমুদ্রের ঢেউ হয়ে-

আছড়ে আছড়ে পড়ে;

ঘুম তো বিরাজ করে প্রকৃতির মতো-

শান্ত উদার মানুষের চোখে,

কাউকে কাঁদিয়ে ঘুমোতে পারে না কেউ।

 

 

পুষ্পিত মধ্যমণি

আমিন আল আসাদ

 

কবি আল মাহমুদকে নিবেদিত 

আপনাকে দেখলেই মনে পড়ে নৌকাবাধা ঘাট

 শ্বেতশুভ্র পদ্ম, পাললিক মাঝিদের সংগ্রাম

অকস্মাৎ বজ্রাঘাতে ভেঙ্গে পড়া মোহের কপাট

তিতাসের দুইপাড়ে নিরলস নাগরিক ঘাম।

 

পালতোলা হাসিকান্না সূদূরের ডানামেলা মেঘ

দ্রোহ ঝড় জলোচ্ছ্বাস স্বপ্নময় সাগরের নুন

কর্দমাক্ত মানুষের গেরস্থালী-প্রেমের আবেগ

বর্ণমালা, স্বাধীনতা, ঐতিহ্যিক চেতনা আগুন

 

আপনাকে দেখলেই হেসে ওঠে কবিতার হাস

ফুলপাখি, ধান-নদী, ছন্দবদ্ধ চরাচর, পাড়া

চরাঞ্চলে শুরু হয় মৌসুম, স্বর্ণালী চাষবাস

অকবিও পেয়ে যায় খনিকটা সুশীতল ধারা।

 

টেবিলের মধ্যভাগে সজ্জিত পুষ্পিত মধ্যমণি

কাব্যের আসরে প্রার্থিত প্রার্থনা কেবলি আপনি।

 

বেকারের গল্প

বশিরুজ্জামান বশির

 

ইদানিং ঢাকা শহর আবর্জনায় ভর্তি

ডাস্টবিনের মতো...

একটা পুরাতন বাঁশের অ্যাশট্রে'’র উপর

ধীরে ধীরে কষ্টের জল ফেলে

কেটে যাচ্ছে

বেকার

জীবন!

 

স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসো

শাফিউল কায়েস

 

স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসো,

কষ্টের মাঝে তবুও হাসো।

মৃত্যুকে হার মানাতে শেখো,

পৃথিবীকে ঘুরে ঘুরে দেখো।

 

নিজেকে শিক্ষিত বলে গর্ববোধ করো না,

অহংকারের মায়ায় কখনো জড়িয়ো না।

সকলকে ভালোবাসতে শেখো,

নিম্ন শ্রেনির লোকদের অন্তত  একবার ভালোবেসে দেখো।

 

সময়কে অপচয় করো না,

সময় বড় নিষ্ঠুর সকলের তা জানা।

মা'কে ভালোবাসো,

অন্যায় থেকে নিজে বাঁচো।

 

কল্পনা বিলাসী ভালো,

বহুবিলাসিতা হতে পারেনা কখনো ভালো।

ভালোবাসো অনাথ শিশুদের,

তারাই মূল্যবান সম্পদ আমাদের দেশের।

 

বৃদ্ধাশ্রমকে না বলো,

মা'কে সর্বদা সম্মান দিয়ে চলো।

বউকে রাখো আদরে,

মুক্ত ভালোবাসার চাদরে।

 স্বপ্নকে ভালোবাসো বেশ,

বিশ্বদুয়ারে সু আলোচিত হয় যেন সোনার বাংলাদেশ।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ