ঢাকা, শুক্রবার 13 July 2018, ২৯ আষাঢ় ১৪২৫, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হাতি দেখা

মোহাম্মদ অংকন : একদিন কোথায় থেকে যেন বাজারে মস্ত বড় একটি হাতি আসলো। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাতি আসার এই খবরটি আশেপাশে ছড়িয়ে গেল। সবাই একে অপরকে বলতে লাগল, ‘এই শোনো, বাজারে  আজ একটি হাতি এসেছে।’ অনেকে বিশ^াস করল। আবার অনেকে বিশ^াস করল না। যারা বিশ^াস করল, তাদের সকলেরই একই চিন্তা হতে লাগল, ‘আশেপাশে তো বন-জঙ্গল নেই, তাহলে হাতি আসলো কোথা থেকে?’ সবাই যেন নিজ চোখে না দেখলে বিশ^াস করতে পারছে না। আর যারা দেখেছে তারা তো একেবারে অবাক হয়েছে। হাতি আগমনের কথাটি বাজারের পাশের স্কুলে পৌঁছাতেও আর বেশি সময় লাগল না। 

পঞ্চম শ্রেণিতে তখন বাংলা স্যারের ক্লাস চলছিল। কিন্তু হাতি আসার কথা শুনে কেউ আর সে পড়ায় মনোযোগী নেই। সবাই জানালায় উঁকি দিয়ে দেখছিল, রাস্তায় হাতিটিকে দেখা যায় কিনা! অনেকেই ভাবছিল, ‘বোধহয় পাগলা হাতি বন থেকে পালিয়ে এসেছে।’ এসব নিয়ে সবাই কানাকানি শুরু করে দিল। তাই অসময়ে স্যার ক্লাসটা শেষ করতে বাধ্য হলেন। আর তৎক্ষণাৎ জারিফ ও তার বন্ধুরা বাজারে হাতি দেখতে দ্রুত ছুটে গেল। তারা দেখতে পেল, হাতিটি বেশ উঁচু ও লম্বা আকৃতির। গায়ের রং নীলচে কালো। বইতে তারা হাতির অনেক ছবি দেখেছে; কিন্তু আজই প্রথম বাস্তবে দেখল। তারা যেন বিশ^াস করতে পারছিল না যে তাদের বাজারে হাতি এসেছে। তারা দেখছে, হাতিটির উপর একটি বালক বসে আছে। তার বয়স জারিফের বয়সের মতো হবে। দশ-এগারোর বেশি নয়। মূলত সেই হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আর হাতিটি তার লম্বা লম্বা পা ফেলে হেঁটে হেঁটে লম্বা সুর দিয়ে দোকান থেকে টাকা তুলছে। কেউ পাঁচ টাকা দিচ্ছে, কেউ দশ টাকা দিচ্ছে। কেউ আবার টাকা দিতে দেরী করলে হাতিটি সুর উঁচু করে ডাক ছাড়ছে। 

হাতি টাকা তুলছে ভেবে জারিফ ও তার বন্ধুরা একটু অবাক হল। তারা ভাবল, ‘হাতি টাকা তুলে কি করে? হাতি তো কথা বলতে পারে না কিংবা টাকা দিয়ে জিনিসপত্র কিনে খায় না। হাতি তো জঙ্গলে বাস করে। আর সবাই হাতিকে টাকা দিচ্ছেই বা কেন?’ তার খুব শখ হল এসব জানার। হাতির উপর বসে থাকা ছেলেটাকে সে জিজ্ঞেস করল, ‘এই যে বন্ধু, তোমরা হাতি দিয়ে টাকা তুলছ কেন?’ ছেলেটি জারিফের কথা শুনে গালভরে হেসে দিল। ‘তুমি কি এখনও বোঝ নাই কিছু? আমরা হাতি দেখিয়ে দেখিয়ে টাকা নিচ্ছি। চিড়িয়াখানায় হাতি দেখতে গেলে কি টাকা দিতে হয় না?’ তারপর জারিফ আবার প্রশ্ন করল, ‘তোমরা এই টাকা দিয়ে কি কর?’ বালকটি এবার খুব সহজেই উত্তর করল, ‘সারাদিনে যা আয় হয়, তা দিয়ে আমরা হাতির খাবার কিনি, আমাদেরও খাবার কিনি। আর আমরা এভাবেই বেঁচে থাকি। আমাদের বাড়িঘর পাহাড়ী এলাকায়। আমরা তো চাষাবাদ করতে পারি না।’ 

এসব কথা শুনে জারিফ চিন্তা করে, ‘আসলেই, হাতি দেখলাম, আর টাকা না দিলে কেমন হয়!’ তারপর জারিফ তার প্যান্টের পকেটে হাত দেয়। টিফিনের জন্য আনা পাঁচটাকা হাতিকে দেয়। টাকাটি নেওয়ার সময় হাতিটি যখন জারিফের দিকে সুর এগিয়ে দেয়, তখন সে একটু ভয়ই পায়। সবাই হেসে দেয়। আর তার ভয় কেটে যায়। জারিফের টাকা দেওয়া দেখে তার সাথের সহপাঠিরাও দুই টাকা, পাঁচ টাকা করে দেয়। তারপর হাতিটি টাকা নিয়ে পিঠে বসে থাকা বালকটি কাছে পৌঁছে দেয়। বালকটি টাকা নিয়ে ব্যাগে রাখে। এভাবেই বাজারের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে হাতিটি ঘুরে বেড়ায় আর টাকা তোলে। অনেক লোকজন হাতি দেখার জন্য ভিড় করে। অনেকে হাতির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে। তারপর কয়েক ঘন্টার মধ্যে হাতি বাজার থেকে চলে যায়। হয়তো অন্য বাজারে গিয়ে একইভাবে টাকা তুলবে। মানুষজন হাতি দেখবে আর টাকা দিবে। অতঃপর জারিফরাও শ্রেণিতে ফিরে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ