ঢাকা, শুক্রবার 13 July 2018, ২৯ আষাঢ় ১৪২৫, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়াকে আইনি অধিকার  থেকেও বঞ্চিত করছে সরকার  ----ড. মঈন খান

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইলকে কেন বাংলাদেশের ভিসা দেয়া হলো না। অথচ আগরতলা মামলায় লড়তে স্যার টমাস উইলিয়ামকে ঠিকই বাংলাদেশে এসে আইনি লড়াই করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। একজন মানুষের আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার আছে। আইনি অধিকার জন্মগত অধিকার। বেগম খালেদা জিয়াকে সেই আইনি অধিকার থেকেও বঞ্চিত করছে সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের ব্রিটিশ আইনি পরামর্শক লর্ড কার্লাইলকে দিল্লীর বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, তাকে দিল্লী থেকে ব্রিটেনে ফেরত যেতে বলা হয়েছে। ভারতে তাকে আসতে দিলো বা না দিলো, তা নিয়ে আমি কিছু বলব না। এটা ভারত সরকারের বিষয়। কিন্তু তিনি বাংলাদেশে আসতে পারলেন না কেন? প্রশ্নটি আজ সরকারের কাছে করতে চাই। একজন মানুষের আইনি অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে। মানুষের অধিকারের আইন পার্লামেন্টে পাস হয় না। আইনি অধিকার জন্মগত অধিকার। খালেদা জিয়া সে অধিকার থেকেও বঞ্চিত।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেকটি মানুষের গণতান্ত্রিক, আইনি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে সেটি দেয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে, কেউ যদি তা ভেবে থাকে তা ভুল। ২০০৮ সালের মতো একটি পাতানো নির্বাচন করে সরকার বিএনপিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। সরকার নাকি ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। আমি বলছি তারা ২০১৪ সালের মতো নয়, ২০০৮ সালের মতো পাতানো নির্বাচন করতে চাইলেও আমরা তা হতে দেবো না। আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যেন সরকার তাদের এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পারে। সরকারকে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বাধ্য করা হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বিএনপি আগামী ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে।

মঈন খান বলেন, চুপ থাকার সময় শেষ। আমাদের ওপর যেমন অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছে, আপনাদের ওপরও তা আসবে। চুপ থাকলে বাঁচতে পারবেন না। কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে। দেশে যেটা চলছে, সেটা জঙ্গল আইন। শুধু মানবধিকার নয়, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ৷ তিনি যদি চিকিৎসা চান, সেটা মৌলিক অধিকার। সরকার সেটা তাকে না দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, সরকারের নেতারা ঠাট্টা করে বলেন, বিএনপি নাকি আন্দোলন করতে জানে না। আমিও সেটা স্বীকার করি। আমরা আওয়ামী লীগের মতো লগি-বৈঠার আন্দোলন করতে জানি না। বিএনপি লাঠি দিয়ে সাপ পেটানোর মতো মানুষ মেরে আন্দোলন করে না। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে আমরা সরকারকে বিদায় করব। আমি একটি ছোট্ট চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আসুন পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্যবাহিনীকে ব্যারাকে রেখে রাস্তায় নামুন, আমরাও নামব। দেখি কে জেতে, আর কে পরাজিত হয়। লাঠি দিয়ে শাপ মারার মতো মানুষ হত্যা করা কোনো আন্দোলন নয়।

মঈন খান আরো বলেন, দরিদ্র মানুষের অর্থ ব্যয় করে কিছু সার্টিফিকেট নিতে পারে সরকার। কিন্তু এতে তারা টিকে থাকতে পারবে না। বিশ্ববাসী ধীরে ধীরে এই সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দিক থেকে সেসব নিয়ে প্রতিবাদ আসছে। 

বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের অত্যাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ৯ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ১৮ লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপরও খালেদা জিয়া আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

সরকারের সঙ্গে কারও মতবিরোধ হলেই তার ওপর অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে এমন অভিযোগ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, মাদক দমনের নামে বিচার বহির্ভূতভাবে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রে মানবাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করেও কিভাবে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। জাতিসংঘ কেন বাংলাদেশকে জবাবদিহি করে না? আজকের বাংলাদেশের পরিস্থিতি ২০১৪ সালের থেকেও খারাপ।

উল্লেখ্য, ব্রিটেনের সেরা আইনজীবীদের একজন লর্ড কার্লাইল। গত মার্চ মাসে তাকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারপর থেকে লর্ড কার্লাইল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশের আদালতে খালেদা জিয়ার হয়ে মামলা লড়ার জন্য আসতে চাইলেও তার জন্য ভিসা দেয়া হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ