ঢাকা, শুক্রবার 13 July 2018, ২৯ আষাঢ় ১৪২৫, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মুন্নির ছয় বছর জেল

 

রহিদুল ইসলাম খান : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নিকে ছয় বছর জেল দিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রুজু করা একটি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত (৭) এর বিচারক শহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। মামলাটি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল।

মিথ্যা তথ্য দেয়া এবং অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবিরা সুলতানাকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদ- দেয়া হয়েছে। পৃথক দুটি ধারায় তাকে এই দ- দেয়া হয়। রায় ঘোষণাকালে বিচারক বলেন, ‘১ কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূল বাজেয়াপ্ত করেছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মকর্তা হাবিবুল হাছান জীবন এসব তথ্য জানান।’

হাবিবুল হাছান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় তিন বছর ও ২৭ (১) ধারায় তিন বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদলত। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘রায় ঘোষণাকালে আসামী আদালতে হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৪ মে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদুক) আসামী সাবিরা সুলতানা তার সম্পদ বিবরণীতে ৫৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকার হিসাব দেখিয়ে জমা দেন দুদকে। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা যায় ৪৫ লাখ টাকার সম্পদের বিষয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য দেয়াসহ ১ কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকার সম্পত্তি অসাধুভাবে অর্জন করেছেন তিনি। যা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। ওই ঘটনায় ২০১০ সালের ২০ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক সৈয়দ আহমেদ বাদি হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই বছর ২৫ জুলাই ৯ জনকে সাক্ষী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১১ সালের ৯ নবেম্বর এই আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

মামলার রায়ে দুর্নীতি দমন আইনের দুটি ধারায় পৃথকভাবে তিন বছর করে সাজা দেয়া হয়েছে মুন্নিকে। তবে এই সাজা একযোগে চলবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে সাবিরা নাজমুল মুন্নি আদালতের রায় বিপক্ষে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি জানান, ঠিক কী রায় হয়েছে, তা এখনো তিনি জানতে পারেননি। অসুস্থতার কারণে আজ তিনি আদালতেও হাজির হতে পারেননি। আইনজীবীর মাধ্যমে মেডিকেল ডকুমেন্ট পাঠিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘এই মামলায় আমাকে সাজা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি যে নির্দোষ, তার সমস্ত কাগজপত্র আদালতে সাবমিট করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও রায় আমার বিরুদ্ধে গেছে। আমি মনে করছি, এর পেছনে সরকারের চাপ রয়েছে। আগামী সপ্তাহেই আমি উচ্চ আদালতে যাব।’ আলাপকালে মুন্নি জানান, স্পাইনাল কর্ডের ব্যথায় তিনি কাতর। আদালতে যাওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই। আদালতে হাজির না হওয়ায় মুন্নিকে পলাতক দেখানো হয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ