ঢাকা, শুক্রবার 13 July 2018, ২৯ আষাঢ় ১৪২৫, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরায় গ্রেফতার আতঙ্ক

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :  সাতক্ষীরায় গত দু’দিনে বিএনপি জামায়াতের ১০ নেতাকর্মীসহ ১৩৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ বাসা বাড়ি থেকে ঘুমান্ত ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকরা মামলায় আসামী করা হচ্ছে আটককৃতদের। জামিন নিতে দীর্ঘ সময় ও উচ্চ আদালতে যেতে হবে আসামীদের। নিম্ন আদালত বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন দিচেচ্ছ না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব গ্রেফতার অভিযান বলে জেলার বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের অভিযোগ। তবে জেলা পুলিশের অভিযোগ  নাশকতার পরিকল্পনা ও আটককৃতদেও বিরুদ্ধে থানায় মামলা থাকায় আসামীদের আটক করা হচ্ছে। এছাড়া এটা পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। গ্রেফতার কিম্বা আটকের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

মাওলানা নুরউদ্দীন। ইটাগাছা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক। শহরের পুরাতন সাতক্ষীরায় নিজ বাড়িতে প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। থানাতে কর্তব্যরত পুলিশের সাথে দফায় দফায় তার পরিবারের সাথে কথা হয়। কিন্তু বুধবার সন্ধায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে আসামী করা হয় বলে জানিয়েছে নুরউদ্দীনের স্ত্রী জয়নব।  

 পুলিশ জানায়, নাশকতার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিনেয়ার সময় সদর উপজেলার আগরদাড়ি এলাকা থেকে ৫ব্যক্তিকে আটক হয়েছে । পুলিশের দাবি বুধবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে কতিপয় বিএনপি-জামাতের উচ্ছৃংখল নেতা কর্মী আগরদাড়ি মাদ্রাসার মাঠের দক্ষিণ পাশে ফাঁকা জায়গায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন প্রকার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার জন্য এবং আসন্ন ২০১৯ সালের নির্বাচনকে বানচাল করার লক্ষ্যে একত্রিত হয়ে নাশকতামূলক কার্যকলাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে গোপন বৈঠক ও ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে গেলে পুলিশকে উদ্দেশ্যে করে পরপর ৩টি ককটেল বোমার বিস্ফারণ ঘটায় বিএনপি-জামাতের উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে বিস্ফোরিত বোমার আলামত ও ৪টি জিহাদী বই উদ্ধার করে। পুলিশ এসময় গদাঘাটার মহিউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে কামরুজ্জামান (২৪), কাটিয়া গদাইবিল এলাকার জোহর আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৫), শিয়ালডাঙ্গার মৃত আকরাম গাইনের ছেলে আলফাজ গাইন (৪১), পুরাতন সাতক্ষীরার কুলিনপাড়ার মৃত ছমিরউদ্দিনের ছেলে নূর উদ্দিন (৫৫) ও রইচপুরের নূরুল আমিন সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে আলমকে আটক করে। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহ জানান, তার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার এ্যাক্ট এর ১৫(৩)/২৫-ঘ তৎসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের ৩/৬ ধারা মামলা হয়েছে। যার নং- ৩১, তারিখ- ১১-০৭-২০১৮।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পযন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত শিবিরের ৭ জন কর্মীসহ ৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে,সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ২০ জন,কলারোয়া থানা থেকে ৭ জন, তালা থানা ৩ জন,কালিগঞ্জ থানা ৮ জন, শ্যামনগর থানা ১১ জন, আশাশুনি থানা ৯ জন,দেবহাটা থানা ৩ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের তিন কর্মীসহ ৭২ জনকে আটক করা হয়েছে। 

আটককৃতদের মধ্যে,সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ২৯ জন, কলারোয়া থানা থেকে ৭ জন, তালা থানা ৩ জন,কালিগঞ্জ থানা ১৮ জন, শ্যামনগর থানা ৫ জন, আশাশুনি থানা ৫ জন,দেবহাটা থানা ২ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ২০ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ