ঢাকা, শনিবার 14 July 2018, ৩০ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ন্যাটোর সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি॥ ট্রাম্পের দাবি নাকচ ইতালি ও ফ্রান্সের

১৩ জুলাই, এপি,রয়টার্স : সামরিক জোট ন্যাটোর ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে সদস্য দেশগুলো রাজি হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা নাকচ করেছে ইতালি ও ফ্রান্স। তারা জানিয়েছে, এক্ষুণি ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনও সমঝোতা হয়নি। ২০২৪ সাল থেকে ব্যয় বাড়ানোর ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে শুরু হয়েছে দুই দিনের ন্যাটো সম্মেলন। এতে যোগ দিচ্ছেন সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা। ২০১৭ সালের জানুযারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ন্যাটো মিত্রদের প্রকাশ্য সমালোচনা করে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। বারবার তিনি বলে আসছেন যুক্তরাষ্ট্র অন্যায্য অতিরিক্ত ব্যয় করছে। তার দাবি অন্য ন্যাটো দেশগুলোর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জিডিপির বহুগুন বেশি সামরিক ব্যয় করে আসছে। সম্মেলন সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সদস্য দেশগুলোকে ব্যয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সম্মেলনের শেষ দিনে ট্রাম্প টুইটার বার্তায় দাবি করেন, “ন্যাটো সদস্য দেশগুলো জোটের জন্য তাদের জিডিপি’র শতকরা দুই ভাগের জায়গায় চার ভাগ ব্যয় করতে রাজি হয়েছে।” কিন্তু ম্যাক্রোঁ এক সংবাদ সমঝোতার দাবি নাকচ করে বলেন, সম্মেলনের যে চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ন্যাটো জোটের জন্য ২০২৪ সাল থেকে শতকরা দুই ভাগ ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে; এর চেয়ে বেশি কিছু না।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপে কোন্তেও ফরাসি প্রেসিডেন্টের সুরে কথা বলেছেন। তিনি ন্যাটো সামরিক বাজেট বাড়ানোর কথা নাকচ করে বলেন, “ইতালি তার প্রতিশ্রুতি মতো অর্থ দিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যয় বাড়নোর বিষয়ে তাকে কিছু বলা হয় নি। ফলে নতুন বাড়তি ব্যয়ের প্রশ্নও নেই।” তিনি আরো বলেন, “আমার কান কখনো শোনে নি যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটো জোট ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। ফলে আমি খবরটি নিশ্চিত করতে পারছি না। যদি সম্মেলনের অবকাশে তিনি এমন কোনো কিছু বলে থাকনে তাহলে আমি তা জানি না।”   বুধবার ন্যাটো সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ন্যাটো সেক্রেটারি জেনস স্টোলেনবার্গ বলেছেন, সামনের বছরগুলোতে আরও বেশি ব্যয় করতে সদস্য দেশগুলো সম্মত হয়েছে। ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সব সদস্য দেশই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে। এই বছরে কমপক্ষে আটটি ন্যাটো সদস্য দেশ তাদের জিডিপির দুই শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর আমাদের বেশিরভাগ সদস্যদেশের ২০২৪ সালের মধ্যে এমনটি করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, জোটের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, অন্যরা তা করে না। সম্প্রতি এমন গুঞ্জনও ওঠে যে ট্রাম্প যেকোনো সময় ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন।

তারই প্রেক্ষিতে সামরিক খরচ বাড়ানোর ‘মার্কিন দাবি’ মেনে নিয়েছে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ব্রাসেলসে গত বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া ন্যাটো সম্মেলনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  এমনটাই জানান, জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা নিজেদের জিডিপির ২ শতাংশের বেশি অর্থ সামরিক খাতে খরচ করবে।

গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের সম্মেলন শুরুর আগেও টুইটার বার্তায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপর সম্মেলনের শুরুতেই তিনি দাবি তোলেন, জোটের সদস্যদের সামরিক ব্যয় বাড়াতে হবে। শেষমেশ ট্রাম্পের দাবি নিয়ে নির্ধারিত অধিবেশনের বাইরেও আলাদা করে বৈঠকে বসেন জোটের নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, গতকাল সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২৪ সাল নয়, আগামী বছরেই জোটের সব সদস্যকে জিডিপির ২ শতাংশের বেশি অর্থ সামরিক খাতে খরচ করতে হবে। 

এ ছাড়া ভবিষ্যতে এই হার ৪ শতাংশ করার দাবিও তোলেন তিনি। এ ছাড়া সামরিক খাতে কম অর্থ খরচ করায় জার্মানি এবং চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলেরও সমালোচনা করেন তিনি। ওই কূটনীতি বলেন, ‘ট্রাম্প কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এসব দেশের মধ্যে জার্মানির নামই তিনি বেশিবার নিয়েছেন।’ সূত্রটি জানায়, মূলত এর পরই নির্ধারিত অধিবেশনের বাইরে আলাদা করে বৈঠক ডাকেন ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ