ঢাকা, শনিবার 14 July 2018, ৩০ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করতে হবে -মিয়া গোলাম পরওয়ার

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা অঞ্চল আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমাদের দেশে শ্রমিকের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত নয়, নানা ক্ষেত্রে নানাভাবে উপেক্ষিত। অনেক কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীন ও ন্যায্য মজুরি হতে বঞ্চিত হয়। তাই ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার ঢাকা অঞ্চল আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে  তিনি এই কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিভাগ দক্ষিণের সভাপতি মোহাম্মাদ উল্লাহ এর সভাপতিত্বে  ঢাকা বিভাগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ড.আজগর আলীর পরিচালনায়  উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ  সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ বাছির, নারায়ণগঞ্জ জেলার উপদেষ্টা মমিনুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিকের সার্বিক সমস্যার কথা বলতে গিয়ে বলেন, দেশের সবচেয়ে শ্রমঘন শিল্প গার্মেন্ট খাতে শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারিত হলেও সর্বক্ষেত্রে তা অনুসৃত হচ্ছে না। অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রের অবস্থা আরো নাজুক। বহু প্রতীক্ষার পর দেশে একটি শ্রম আইন প্রণীত হয়েছে যেখানে কৃষি শ্রমিকরা স্বীকৃতি পেয়েছেন। মহিলা ও পুরুষ গৃহকর্মীদেরও শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার নীতিমালা হচ্ছে। এগুলো আশার কথা। তবে এর বাইরেও অধিকার বঞ্চিত রয়ে গেছেন অনেক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকরা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে মালিক পক্ষের রয়েছে ব্যাপক ভীতি। কারখানাগুলোতে নামে দলবাজি ও উৎপাদনে বাধা দেয়াই তাদের ভয়ের মূল কারণ। এই অমূলক ভীতি দূর করে মালিক শ্রমিকের স্বার্থেই শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার পরিবেশ  তৈরি করার জন্য ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, যে কারখানায় শ্রমিকদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়, সে কারখানার ক্ষতি তারা কখনই করে না, করতে পারে না। মালিকের সাথে শ্রমিকের সুসম্পর্ক থাকলে এবং সুষ্ঠু ট্রেড ইউনিয়ন রক্ষিত হলে আইন মেনেই শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আদায় করা কোনো বিষয় নয়। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আদায়ে কখনো রাস্তায় নামা প্রয়োজন পড়বে না। উৎপাদন বৃদ্ধির প্রধান উপাদনই হলো মালিক শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক। আর ট্রেড ইউনিয়ন হচ্ছে মালিক শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ার মাধ্যম। কাজেই ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ইচ্ছা, মালিক পক্ষের সহযোগিতা ও সরকার সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতাই গড়ে উঠতে পারে প্রতিটি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমেই দূর হতে পারে  শিল্প-কারখানার সকল সমস্যা এবং এনে দিতে পারে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি। আর সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করতে হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ