ঢাকা, শনিবার 14 July 2018, ৩০ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অন্ধকার ঘরে আটকে পায়ে শেকল দিয়ে বেঁধে পিঠে ও পায়ের তালুতে পেটানোর অভিযোগ

খুলনা অফিস : রাজধানী থেকে নিখোঁজ আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেলটেকের প্রিন্সিপ্যাল আর্কিটেক্ট (প্রধান স্থপতি) বি এম এ মাহফুজ নবীন নিখোঁজের চার দিন পর সন্ধান পাওয়া গেছে। নগরীর খালিশপুর গোয়ালখালী এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে ফেলে রেখে যায়। পরে তিনি নগরীর খালিশপুরে তার বোনের বাসায় উঠেছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি অপহরণ নাকি অন্য কিছু তা তারা তদন্ত করে দেখছেন। 
স্থপতি মাহফুজ নবীন জানান, গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ‘অপহরণকারীরা’ মাইক্রোবাস থেকে তাকে নগরীর গোয়ালখালী এলাকায় ফেলে রেখে যায়। তারা তাকে পেছনে না তাকিয়ে সোজা হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তিনি কিছু দূর পায়ে হেঁটে যাওয়ার পর ভ্যানে করে খালিশপুর এলাকার ১৭নং সড়কের ১৯/১নং বাড়িতে যান। বাড়িটি তার ভগ্নিপতি ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলুর। 
এরপর ওই বাড়িতে তিনি বিশ্রাম নেন। তার আত্মীয়-স্বজনরা বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। দুপুর ২টার দিকে তিনি আবার তার ভগ্নিপতির বাড়িতে ফিরে আসেন।
ভগ্নিপতি কামরুজ্জামান বাবলুর বাড়িতে বসে স্থপতি মাহফুজ নবীন জানান, তিনি গত ৮ জুলাই সকালে ঢাকার ভাসানটেক এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে শেলটেক অফিসে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ফার্মগেট খামারবাড়ি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাইক্রোবাস থেকে এক লোক কাগজে লেখা একটি ঠিকানা দেখিয়ে সেখানে কীভাবে যাওয়া যায় তা জানতে চায়। তিনি ঠিকানাটি দেখার সময় তার জামার কলার ও গলা চেপে ধরে টেনেহিঁচড়ে তাকে গাড়িতে তোলা হয়। তখন তিনি জ্ঞান হারান।
মাহফুজ নবীনের ভাষ্য মতে, তাকে নিয়ে অন্ধকার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। ঘরটির কোনো জানালা নেই। তার পায়ে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। একপর্যায়ে বেল্ট দিয়ে তার পিঠে ও পায়ের তালুতে পেটানো হয়। বুধবার ট্রিমার দিয়ে তার ফেঞ্চ কাট দাড়ি ও চুল কেটে দেয়। পরবর্তীতে তাকে মাইক্রোবাসে করে বুধবার গভীর রাতে খুলনার গোয়ালখালী এলাকায় ছেড়ে দেয়। তখন তার মোবাইল ফোনটিও দিয়ে দেয়।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তার ধারণা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। কিন্তু তার নিখোঁজের ঘটনায় জিডি এবং বিষয়টি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় পুলিশ তাকে খুঁজতে থাকে। সে কারণে তাকে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ ছাড়াই ছেড়ে দিয়েছে।
স্থপতি মাহফুজের জন্ম খুলনার খালিশপুর এলাকায়। তার বাবা মারা গেছেন এবং মা ঢাকায় তার সাথে থাকেন। আগে খালিশপুরে তাদের বাড়ি ছিল। ঢাকার আশপাশে এতো জায়গা থাকতে তাকে জন্মস্থান খুলনায় এনে ছেড়ে দেয়ার কারণ কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে স্থপতি মাহফুজ বলেন, বিষয়টি তিনিও বুঝতে পারছেন না। তার ভগ্নিপতি কামরুজ্জামান বাবলু বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের মনেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 
স্থপতি মাহফুজের আরেক ভগ্নিপতি ইমরান হোসেন জানান, মাহফুজ নিখোঁজ হওয়ার পর অপহরণকারীরা মাহফুজের মোবাইল নম্বর থেকে একবার এবং অপর দু’টি মোবাইল নম্বর থেকে দুইবার তাকে ফোন করে। মাহফুজ তাদের কাছে রয়েছে উল্লেখ করে টাকা দিতে হবে বলে জানায়। কিন্তু তিনি বলেন যে, আগে মাহফুজের সাথে কথা বলবো। তারপর কত টাকা চান এবং কোথায় দিতে হবে সেটা বলবেন। ৩ বারই তিনি একই কথা বলার পর অপরহণকারীরা তার সাথে আর যোগাযোগ করেনি। তিনি পরে চেষ্টা করে ওই নম্বরগুলো বন্ধ পান। বিষয়টি ভাসানটেক থানায়ও জানানো হয়।
এ ব্যাপারে খুলনার খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাকে মোবাইল ফোন করে জানান যে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া স্থপতি মাহফুজকে পাওয়া গেছে। মাহফুজ তার ভাগ্নে। তখন তারা হাসপাতালে গিয়ে মাহফুজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার কিছু কথায় অসংলগ্নতা রয়েছে। বিষয়টি ভাসানটেক থানাকে জানানো হয়েছে। আসলে ঘটনাটি অপহরণ নাকি অন্য কিছু সে সম্পর্কে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।  
প্রসঙ্গত, স্থপতি মাহফুজ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার স্ত্রী জান্নাতুল এশা ৯ জুলাই রাজধানীর ভাসানটেক থানায় জিডি করেছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ