ঢাকা, শনিবার 14 July 2018, ৩০ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মহাদেবপুরে অবৈধ দখল থেকে সরকারি রাস্তা উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর মহাদেবপুরে ১৪ ফুট চওড়া সরকারি রাস্তা প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে চলাচল করছে গ্রামবাসীরা। গত ৫ বছর ধরে সরকারি রাস্তা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে বার বার গ্রামবাসীরা ধর্ণা দিলেও রাস্তা উদ্ধারের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কেউ। উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের অধিবাসীদের অভিযোগ, মহাদেবপুর-নজিপুর পাকা সড়ক থেকে গ্রামে ঢোকার জন্য স্থানীয় ব্র্যাক অফিসের দক্ষিণ পাশ দিয়ে ফাজিলপুর মৌজায় সরকারি ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত ১৪ ফুট চওড়া প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা ছিল। কিন্তু পুরো রাস্তাটি পাশের জমির মালিকেরা দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় কাঞ্চন রায় ওরফে পাখী রায়ের মালিকানাধীন মাত্র ৪ ফুট চওড়া জমির ওপর দিয়ে গ্রামবাসীরা চলাচল করছে। পাখী রায় তার ওই জমির ওপর সম্প্রতি দোকান ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ ব্যপারে শিবপুর গ্রামের ৩২ জন অধিবাসী গত ১৫ জানুয়ারী পাখী রায়ের দোকান ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া শিবপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে পাখী রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৪ মে নওগাঁর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের লোকেরা একাধিকবার সরেজমিন জমিগুলো মাপজোক করে। যোগাযোগ করা হলে পাখী রায় জানান, তিনি গত ৫ বছর ধরে সরকারি রাস্তাটি উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিয়ে আসছেন। কিন্তু তা উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি কেউ। জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম হাবিবুল হাসান স্বীকার করেন যে, পাখী রায় যে জমির ওপর দোকান ঘর নির্মাণ করছে তার মালিক সে নিজেই। তার জমি সংলগ্ন সরকারি রাস্তা পাশ আইলা ব্যক্তিরা দখল করে নিয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তার ওপর আবুল কালাম আজাদ একটি টিনশেড নির্মিত দোকান ঘর ও একটি বাড়ি এবং একটি ছোট স্থাপনা নির্মাণ করে রেখেছেন। বাঁকি সম্পত্তি পাশের জমির সাথে এক হয়ে গেলেও তার ওপর দিয়ে সরকারি রাস্তা নির্মাণে কোন বাধা নেই। কিন্তু সে রাস্তা নির্মাণে উদ্যোগ নিচ্ছেনা কেউ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, অবৈধ স্থাপনাগুলো ৭ দিনের মধ্যে উঠিয়ে নেয়ার জন্য গত ১০ জুন সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাঁকি জায়গা উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ গত ৫ বছর ধরে একাধিকবার প্রশাসনের লোকেরা সরেজমিন মাপজোক করলেও একটি প্রভাবশালী মহলের তদবিরে রাস্তাটি উদ্ধারের কাজ বারে বারে থেমে যায়। তারা এ ব্যাপারে উর্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ