ঢাকা, শনিবার 14 July 2018, ৩০ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাদক বাণিজ্য ও অপব্যবহার ভয়ংকর মাত্রায়

জিবলু রহমান : নেশার জগতে দীর্ঘদিন যাবৎ রাজা হয়ে বসে আছে হেরোইন, তারপরের স্থান ছিল দ্য কুইন। নেশার জগতে নতুন সংস্করণ ইয়াবা এখন বাজারে এসেছে ‘ইয়াবা প্লাস’ নামে। তরুণ-তরুণীদের ভাষায় দ্য কুইন। কারণ হচ্ছে, হেরোইন সাধারণত ছেলেরা সেবন করে, মেয়েদের মধ্যে হেরোইনসেবীর সংখ্যা নেই কিন্তু ইয়াবার নেশায় মেয়েরা মোটেও পিছিয়ে নেই। ইয়াবা দিয়ে নেশার জগতে প্রবেশের পর ইয়াবাসক্তরা এখন অন্যান্য নেশাতেও জড়িয়ে পড়ছে।
ইয়াবা নিয়মিত গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক কোষে dopamine কমে গিয়ে parkinsons disease হতে পারে। ইয়াবা মস্তিষ্কের রক্তবাহী সূক্ষ্ম নালীগুলোকে ধ্বংস করে ব্রেইন স্ট্রোক ঘটাতে পারে। ইয়াবা কোকেনের চেয়েও মারাত্মক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মাদক এবং প্রতিক্রিয়া কোকেনের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। (সূত্র : দৈনিক ভোরের কাগজ ২২ আগস্ট ২০১৩)
প্রখ্যাত মনোরোগ বিজ্ঞানী ডাঃ মোহিত কামাল বলেছেন, দেশে ইয়াবা (অ্যামফিটামিন) ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে চলেছে। আর এ কারণে সমাজে নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা ও হত্যাকা-সহ নানা অপরাধ বাড়ছে। তিনি বলেন, ইয়াবা আসক্তরা জন্মদাতা বাবা-মাকে খুন করতেও দ্বিধা করে না। ইয়াবা খেতে খেতে তারা একেকজন ‘মানববোমা’য় পরিণত হয়। মনুষ্যত্ব বলে কোন কিছু তাদের ভিতরে আর থাকে না। খুনের পর খুন কিংবা অপরাধ করলেও এনিয়ে তাদের ভিতরে কোন অনুশোচনা হয় না। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক ৯ নভেম্বর ২০১৪)
মাদকাসক্তি সমস্যা সৃষ্টি কোন একক কারণে হয় না। এর পেছনে থাকে একাধিক কারণÑঅর্থনৈতিক, মনস্তাত্বিক, সামাজিক, ধর্মীয় ইত্যাদি। মানুষের ধর্মীয় ও পারিবারিক আদর্শ তার মনস্তত্ব গঠনে প্রভাব বিস্তার করে। একইভাবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা যে কোন মানুষের মনস্তত্বসহ গোটা জীবনকে যে প্রভাবিত করে, এ এক অনস্বীকার্য সত্য। ধর্মীয় ও পারিবারিক আদর্শের প্রভাবে কেউ হয়ত অভাবে পড়লেও স্বভাব নষ্ট করে না। আবার কারো হয়ত তার ধর্মীয় ও পারিবারিক পটভূমিতে অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়।
দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও নৈতিক জীবনে শিথিলতার কারণে মাদকাসক্তি দেখা দিতে পারে। যার নৈতিক বিশ্বাস যথেষ্ট জোরদার, ছোটখাট সমস্যা তার নৈতিকতার স্খলন ঘটাতে পারে না। তাছাড়া শুধু দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণেই যে মাদকাসক্তি দ্রুত বিস্তার লাভ করে, তাও নয়। মাদকাসক্তির শিকার হয় প্রচুর ধনী পরিবারের সন্তান। প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও কেন তারা মাদকাসক্তির শিকার হয়? কারণ তাদের নৈতিক আদর্শ দুর্বল। আর রাঘববোয়াল দুর্নীতিবাজরা কিন্তু কেউই দরিদ্র নয়।
মাদকের বিস্তার বর্তমানে ভয়াবহ। বহু সময় নিয়েই ধীরে ধীরে সে এই আকার ধারণ করেছে। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই আমরা ঘটনা ঘটার পর সচেতন হই। টেলিভিশন দেখে বাবা-মায়েরা এখন দোষারোপ করছেন তাদের সন্তানদের; বকাঝকা করছেন, সমালোচনা করছেন-‘আজকালকার ছেলে-মেয়েরা এমনই হয়...এই ছেলে-মেয়ে মানুষ করে কী হবে...?’ ইত্যাদি আরো অনেক কিছু। এ ধরনের সমালোচনা বাচ্চাদের সামনে তারা অনবরত করছেন। যে সব ছেলে-মেয়েরা ইতোমধ্যেই নেশাগ্রস্ত, তাদের তো কথাই নেই। দিনরাত সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। বাবা-মায়ের মনে এতোটুকুও প্রশ্ন জাগছে না, এসব নেতিবাচক মন্তব্য আমাদের সন্তানদের রুখতে পারছে কি-না!
দেশে ৫০ থেকে ৬০ লাখ মাদকাসক্ত ব্যক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে নারী-পুরুষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, উপার্জনকারী, বেকার, শিশু পর্যন্ত রয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের ৮৫% মাদকাসক্তের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছর। এর মধ্যে ৫৫% অবিবাহিতরাই বেশি মাদক সেবনে অভ্যস্ত। ৪৪% মাদকাসক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানাবিধ আইন ভঙ্গের অভিযোগ আছে। এছাড়া মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের ৪২% বিরুদ্ধে অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকের পেছনে প্রতিদিন দেশের প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা অপচয় হয়, যা জিডিপির ২.২% বেশি। অর্থাৎ একদিন মাদক রোধ করা গেলে সে অর্থে একটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাদক মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ব্যক্তি তখন বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়ে ভালমন্দ যাচাই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মাদকের নেশায় বুদ হলে ব্যক্তি তার স্ত্রী, সন্তান বা মা-বাবার সাথে স্বাভাবিক বনিবনার সম্পর্ক রাখতে পারে না। ঊর্ধ্বতনদের সাথেও মিশতে পারে না সে। কুরুচিপূর্ণ কথা বা ভাষা ব্যবহারের মাত্রা বেড়ে যায়, এমনকি বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও মাদকের ফলে আলসার, ক্যান্সার বা লিভার জটিলতাসহ গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা যায়, যা বিভিন্ন লেখনীতে বহুবার উঠে এসেছে।
কেউ একবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে মাদক গ্রহণ না করলে সে ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়ে। সে নিয়মিত মাদক গ্রহণ করেই কেবল ‘সুস্থ’ থাকতে পারে। দীর্ঘদিনের অভ্যাস যে কোন মানুষের প্রকৃতির অংশ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই প্রকৃতি তার স্বাভাবিক প্রকৃতি নয়, অভ্যাস সৃষ্ট অস্বাভাবিক প্রকৃতি। বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত মাদক গ্রহণের ফলে তার মধ্যে একটা নকল প্রকৃতি সৃষ্টি হয় বটে। কিন্তু আবার বেশ কিছুদিন ক্রমাগতভাবে মাদক বর্জন করে চললে যে কোন ব্যক্তি তার কু-অভ্যাসের প্রভাব কাটিয়েও উঠতে পারে। কেউ যদি মাদকাসক্তির কু-প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সংকল্পবদ্ধ হয় এটা তার জন্য কোনক্রমেই অসাধ্য হয়ে দাঁড়ায় না।
রাজধানী ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর ক্যাম্পাস ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বেঁচাকেনার নিরাপদ স্থান। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল ও হাসপাতাল ক্যাম্পাস (জরুরি বিভাগ ছাড়া) নিরিবিলি পরিবেশ থাকে। ওই সময়ে ইয়াবাসহ মাদক বেঁচাকেনা ও সেবন চলে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক শ্রেণির কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ইয়াবা বেঁচাকেনা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী, আশপাশের দোকানদার, এমনকি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারাও শিক্ষার্থীদের হাতে মাদকদ্রব্য তুলে দিচ্ছে।
যুব সমাজকে কারা মাদকের বিষে ধ্বংস করে দিচ্ছে, সেটা জানতে গোয়েন্দারা সারাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে মাদক কারবারিদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করেছেন। সরকার সেই তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অভিযান চালাতে চায়। কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ মাদক কারবারে জড়িত শিক্ষার্থীদের সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য সময় চেয়ে নেয়। এর মধ্যে দফায় দফায় প্রতিবেদন চালাচালি হলেও সংশোধন বা অভিযানের কোনো সুরাহা হয়নি। কারবারিরা বহাল তবিয়তে আর শিক্ষাঙ্গনে ছড়িয়ে যাচ্ছে মাদকের বিষ। যারা সংশোধনের সুযোগ গ্রহণ না করে অবাধে মাদক সেবন ও ব্যবসা করে যাচ্ছে তাদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক ৩১ মে ২০১৮)
সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিন সহস্রাধিক মাদক বাণিজ্যে জড়িত। এর মধ্যে ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক কারবারে জড়িত ৫৬০ জনের তালিকা করেছেন গোয়েন্দারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয় ও আটটি কলেজ রয়েছে।
তালিকাভুক্ত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই অবাধে পাচার হচ্ছে মাদক। একটি ছাত্র সংগঠনের কতিপয় নেতা ও এক শ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তার মদদে সেখানে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হয়। তালিকাভুক্তদের অনেকে পাস করে বের হলেও ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক অপকর্মে এখনো জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের নাম তালিকায় থাকায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে সংশ্লিরা। বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।
২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে তিন দফায় মন্ত্রণালয় থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে (ডিএনসি) তালিকা দিয়ে যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ডিএনসির কর্মকর্তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও প্রক্টরকে তালিকার ব্যাপারে এরই মধ্যে জানিয়েছেন। বাকিগুলোতেও জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাইছে ডিএনসি। বুয়েট, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের মাদক কারবারিদের তালিকা চূড়ান্ত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ ছাত্রনেতার ছত্রছায়ায় চলছে মাদক ব্যবসা। শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে মাদকের কারবার চলছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, চানখাঁরপুল মোড়, পলাশী, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, বুয়েট, আনন্দবাজার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, নীলক্ষেত, কাঁটাবন ও নিউ মার্কেট এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা। ফুটপাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে চলছে মাদক সেবন। প্রভাবশালী ছাত্রনেতাদের দোহাই দিয়ে টোকাইরাও মাদক বিক্রি করছে।
পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক কারবারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ১০ জন। ১০ জনই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। তাঁরাও একটি ছাত্রসংগঠনের মদদপুষ্ট। ক্যাম্পাসের অনেকেই তাকে মাদকসম্রাট বলে চেনে। এদিকে নিউ মার্কেট থেকে ঢাকা কলেজ এলাকা পর্যন্ত বেশ কয়েকজন মাদক কারবার করে। তবে কলেজকেন্দ্রিক কারবারের নিয়ন্ত্রক ৫ জন। ঢাকার হাজারীবাগের লেদার টেকনোলজি কলেজকেন্দ্রিক মাদক বাণিজ্য চালাচ্ছে ৭ জন। ধানমন্ডির ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিকেন্দ্রিক মাদক কারবার চালাচ্ছে ১৫ জন। সবচেয়ে বেশি মাদক কারবারি টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আশপাশ মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্য। তালিকায় তৃতীয় সর্বোচ্চ হিসেবে নাম আছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন। কিশোরগঞ্জের ঈশা খাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে ১৫ জন, মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে ৩২ জন, মুন্সীগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ৮ জন, নারায়ণগঞ্জের রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬ জন, গাজীপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৩০ জন, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, গণবিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ জন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ৪ জন, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে ৪ জন, পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটিতে ২ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ৪ জন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ৫ জন, চাঁদপুর সরকারি কলেজে ১০ জন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ জন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ জন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ জন, খুলনার নর্থ-ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও নর্দান ইউনিভার্সিটিতে ১৫ জন, যশোরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ জন, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন জন, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ জন এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
মাদকাসক্তির ব্যাপক বিস্তারে দেশে এইডস মহামারীর আশংকা দেখা দিয়েছে। যুবতী ও কিশোরীদের মধ্যেও মাদকাসক্তির ব্যাপক বিস্তার ঘটছে। রাজধানীর পাঁচ শতাধিক স্পটে চলছে অবাধ জমজমাট মাদক ব্যবসা। নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে। রাজধানীতে মাদক সম্রাজ্ঞীরা প্রতি দিনে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। নারী বিধায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন নিতে পারে না।
রাজধানী ঢাকা মহানগরীতে বহু এলাকায় ট্রেনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য বিতরণ হয়। কাজটা মোটেই কঠিন নয়। ট্রেনের ড্রাইভার সংশ্লিষ্ট অঞ্চল দিয়ে ট্রেন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের গতি খুব স্লো করে দেয়। সেই ফাঁকে সংশ্লিষ্টরা মালামালসহ সহজেই নেমে যেতে পারে। কখনও মাদক ব্যবসায়ী চক্রের কেউ ট্রেন থেকে মালভর্তি পোঁটলা নামিয়ে দেয়। স্থানীয় এজেন্টদের নিযুক্ত বাচ্চা-কুলীরা ওগুলো সংগ্রহ করে যথাস্থানে পৌঁছে দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ