ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মৎস্য চাষে অগ্রগতি এবং শংকা

প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও’র ৯ জুলাই তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চীন ও ভারতের অবস্থান যথাক্রমে এক ও দুই নম্বরে। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এমন খবর বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। উল্লেখ্য যে, দুই বছর আগে প্রাকৃতিক উৎসের মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম। এবার বড় ধরনের অগ্রগতির পেছনে মূল অবদান রেখেছে ইলিশ মাছ। প্রাকৃতিক উৎস থেকে বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ১০ লাখ ৪৮ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ইলিশ ছিল প্রায় ৫ লাখ টন। জাটকা নিধন বন্ধে সরকারের নানা উদ্যোগ ও ইলিশের নতুন নতুন অভয়ারণ্য সৃষ্টির ফলে গত তিন বছরে ইলিশের উৎপাদন প্রায় দেড় লাখ টন বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সাতটি দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের অর্ধেকেরও বেশি আসে মাছ থেকে। প্রাণিজ আমিষের ৫৮ শতাংশ মাছ দিয়ে মিটিয়ে শীর্ষস্থানীয় দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ। উল্লেখ্য যে, বিশ্বে গড়ে প্রাণিজ আমিষের ২০ শতাংশ আসে মাছ থেকে।
প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশের মৎস্য ইনস্টিটিউট থেকে ইতোমধ্যে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ৬০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ১৮টি মাছের পোনা উৎপাদন করেছে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা। এছাড়া তারা কৈ মাছের রোগ প্রতিরোধে টিকাও উদ্ভাবন করেছেন। ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এসব প্রযুক্তি ও মৎস্য অধিদফতর ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের ফলে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৩৪ লাখ মেট্রিক টন।
দেশের মৎস্যচাষিরা বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত জাতগুলো সঠিকভাবে চাষ করে দেশের মৎস্য খাতকে বিশ্ব দরবারে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে মৎস্য খাতে কিছু সমস্যাও রয়েছে। মাছের খাবার, পুকুর সেচসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে জ্বালানির অর্থ জোগাড় করতে মৎস্যচাষিদের যে পরিমাণে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে তা অব্যাহত রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। মাছের খাবারের দাম কমানো, মৎস্যচাষিদের ঋণ দেয়া ও জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রদান না করা হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই খাতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই এ ব্যাপারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ