ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বগুড়ায় বিআরটিসি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ৪ মাস যাবত বন্ধ

বগুড়া অফিস : রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চার মাস যাবত বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলেও বাস থেকে প্রতিমাসে চাঁদা তোলা হচ্ছে ১৫ লক্ষাধিক টাকা। এ নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার বিষয়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান নিজেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বেতন-ভাতা নিয়মিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তার নির্দেশের পরেও কোনো কাজ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি শ্রমিক-কর্মচারীরা।
জানাগেছে, বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপো থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটে ৪৫টি বাস চলাচল করে। এসব বাসে ব্যাপক যাত্রী হওয়ার পরেও লোকসান দেখিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মাসের পর মাস বকেয়া রাখা হয়। অথচ চলাচলকারী বাসগুলো ডিপো থেকে বের হওয়ার আগে প্রতিদিন ম্যানেজারের নামে চাঁদা বাবদ যে পরিমান টাকা কেটে রাখা হয় মাস শেষে তার পরিমান দাঁড়ায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা। এই চাঁদার টাকা ম্যানেজারসহ উপর মহলে ভাগ বাটোয়ারা হয় বলে শ্রমিক কর্মচারীরা জানান।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি, বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপো থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস গুলো যাত্রী নিয়ে বের হওয়ার আগেই রুট অনুযায়ি চাঁদার টাকা টিকেট কাউন্টার থেকে কেটে রাখা হয়। নওগা ও জয়পুরহাট রুটে ৫০০ টাকা, ভুরুঙ্গামারী-রাজশাহী রুটে ২ হাজার টাকা, বগুড়া-বাংলাবান্ধা রুটে ২ হাজার টাকা, কিশোরগঞ্জ রুটে ২ হাজার টাকা, দিনাজপুর রুটে ১ হাজার টাকা, বরিশাল রুটে ৩ হাজার টাকা, সেতাবগঞ্জ রুটে ১৫’শ টাকা, সাতক্ষিরা রুটে ২ হাজার টাকা। এ ছাড়াও অন্যান্য রুটে চলাচলকারী বাসগুলো থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। যা মাস শেষে পরিমান দাঁড়ায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা। চাঁদা ছাড়াও প্রতিমাসে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ভুয়া বিল ভাউচার করা হয় আরো প্রায় ৩ লাখ টাকা। অথচ বগুড়া বাস ডিপোতে ১৩০ জন শ্রমিক- কর্মচারীর মাসিক বেতন ভাতা বাবদ ব্যয় হয় ২৩ থেকে ২৪ লাখ টাকা।
বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপোর ফোরম্যান আব্দুর রশিদ গত মাসে ম্যানেজারের বিরুদ্ধে যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ভুয়া বিল ভাউচার করার অভিযোগ এনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানান। ফলে ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আব্দুর রশিদকে বগুড়া থেকে রংপুরে বদলী করে দেয়া হয়। বগুড়া বাস ডিপোর চালক পিন্টু জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। গত চারমাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। তার স্ত্রী ম্যানেজারের কাছে অনেক অনুরোধ করেও বকেয়া বেতন আদায় করতে পারেননি। এদিকে, বাস ডিপো গুলোতে বেতন-ভাতা নিয়মিত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভুঁইয়া। গত ২৮ জুন তিনি এক চিঠিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমুদয় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ বেতন হালনাগাদ করার জন্য পুনরায় নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকেই বেতন ভাতা-বকেয়া রয়েছে বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপোতে।
বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) মফিজ উদ্দিন বলেন বিআরটিসির যাত্রী বেড়েছে এটা ঠিক, কিন্তু বাড়েনি বাসের ভাড়া এবং বাসের সংখ্যা। ভাড়া আগে যা ছিল এখনও তাই রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে বাসের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কারণে যা আয় হয় তা থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধ হয় না। প্রতিটি বাস থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি তার জানা নেই বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ