ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভারতসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলো একমত -মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে ভারতসহ বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো একমত হয়েছে। বিএনপি ছাড়া এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না বলে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠ ছেড়ে না দেওয়ার কথা জানিয়ে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া আদর্শ একাডেমি আয়োজিত খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবিতে প্রতিবাদ সভায় তিনি এমন কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি মো. আজম খানের সভাপতিত্বে এবং ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনে’র সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চলনায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ও ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ।
সংগঠনের সভাপতি মো. আজম খানের সভাপতিত্বে এবং ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনে’র সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চলনায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ও ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিলেও বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে আটকে রেখেছে। তারা আবারও ক্ষমতায় বসতে নীলনকশা তৈরি করে ফেলেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় আসবে না- এমন মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র আড়াই মাস সময় রয়েছে। তার আগেই বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে, বিচারবিভাগ ও আইন বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে হবে এবং বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনকে পরিবর্তন করে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিতে হবে। তবেই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার যতই ষড়যন্ত্রের নীলনকশা তৈরি করুক আমরা তা সফল হতে দেব না। আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারকে দমন করতে হবে।
মওদুদ বলেন, আমাদেরকে গভীরভাবে চিন্তা করে দেখতে হবে যে খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবো কি পারবো না। সরকারকে আমাদের শর্তগুলো মানতে হবে। সরকারকে বাধ্য করা হবে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে নির্দলীয় ও তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। তাহলে এই বাংলাদেশে আবার সুষ্ঠু গণতন্ত্র ফিরে আসবে।
 কোটা আন্দোলনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়ে বললেন যে কোটা থাকবে না। আবার ২৭ জুন বললেন কোটা থাকবে। আমি শুধু এইটুকু বলতে চাই গ্রেফতার বন্ধ করুন। যাদেরকে গ্রেফতার করেছেন তাদের মুক্তি দিন। এই শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করুন। যদি না করেন তাদের যে আন্দোলন দেখেছেন এর চেয়ে বৃহত্তর আন্দোলন এই শিক্ষার্থীরা করবে এবং দেশের জনগণ তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে না। তারা তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একই সঙ্গে দাবি আদায় করবে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আড়াই মাসের মধ্যে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে যে, আমরা ২০১৮ সালের নির্বাচন হতে দেব না। বিনা চ্যালেঞ্জে নির্বাচন ছেড়েও দেব না। একদলীয় নির্বাচনের ষড়যন্ত্র কৌশল সফল হতেও দেব না।
‘প্রতিবাদ করার সময় এসেছে। যথাসময়ে কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমাদের মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশী-বিদেশী বন্ধুমহল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা যে যাই বলুক বিএনপিকে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। একমাত্র বিএনপির অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে’, বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে প্রথম শর্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি। দ্বিতীয়ত সংসদ ভেঙে দিতে হবে, তৃতীয়ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে এবং চতুর্থ হচ্ছে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।’ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ‘জিয়া আর্দশ একাডেমি’ নামের একটি সংগঠন। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন অযোগ্য, অদক্ষ। এরা সরকারের স্বার্থরক্ষায় গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রমাণ করছেন, এরা সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ।’ আগামীতে তিনটি স্থানীয় নির্বাচনের ওপর জাতীয় নির্বাচন কীভাবে হবে তা নির্ভর করছে বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ