ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গাজার প্রধান বাণিজ্যিক ক্রসিং খুলে দিতে ইসরাইলকে ইইউ’র আহ্বান

১৪ জুলাই, দ্য টাইমস অব ইসরাইল: অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আনা-নেয়ার প্রধান বাণিজ্যিক ক্রসিং ‘কারেম শালোম’ বন্ধ করে দেয়ার জন্য ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

শুক্রবার ইইউ’র বাহ্যিক অ্যাকশন সার্ভিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইল তার এই সিদ্ধান্ত বাতিল করবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রত্যাশা করে।

সোমবার গাজার প্রধান এই বাণিজ্যিক ক্রসিংটি বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেন ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই ক্রসিং দিয়ে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য হামাস শাসিত গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নোটিস না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত চার মাস ধরে গাজা থেকে উড়ে আসা ঘুড়ি ও বেলুনে দক্ষিণ ইসরাইলে কয়েকশ’ একর জমির ফসল পুড়ে যাওয়ার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়, ইতিমধ্যে গাজার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। ইসরাইলী এই সিদ্ধান্ত তাদের অবস্থাকে আরো ঝুঁকিতে ফেলে দেবে।’

কারেম শালোম গাজা ও ইসরাইলের মধ্যে একমাত্র পণ্যবাহী যান আসা-যাওয়ার একমাত্র ক্রসিং। গত ১১ বছর ধরে এই উপত্যকায় কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। মিশরও সিনাইয়ের রাফা সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

শুক্রবারের বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র মাজা কোসিজানসিক বলেন, ‘আগ্নেয় ঘুড়ি এবং বেলুন উড়ানো বন্ধ করাসহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য হামাস এবং অন্যান্যদের আহ্বান জানাচ্ছি।’ এতে বলা হয়, ‘আন্তঃফিলিস্তিন পুনর্মিলন এবং গাজার মানবিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করা সহ উত্তেজনা প্রশমনে জাতিসংঘ ও অন্যান্য অংশীদারদের চলমান প্রচেষ্টাকে ইইউ সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করে। এই বিষয়টির প্রতি জোর দেয়া এখন সব পক্ষের জন্য আবশ্যক।’

এর আগে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী নিকোলে ম্লাদেনেভ অনুরুপ বিবৃতিতে বলেছিল, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ‘কারেম শালোম’ ক্রসিং দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্যের আনা-নেয়া বন্ধের ইসরাইলী সিদ্ধান্ত হামাসের সঙ্গে দ্বন্দ্বকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছিল, ‘কারেম শালোম ক্রসিং দিয়ে মৌলিক মানবিক সরবরাহ ছাড়া অন্য কোনো পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখার ইসরাইলী সিদ্ধান্তের ফলাফল নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’

তিনি সংঘাতের পথ পরিহারে হামাস ও ইসরাইল উভয়ইকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ