ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাড়ছে উত্তেজনা ॥ গ্রেফতার অভিযান শুরু ॥ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা চায় ভোটাররা

শাহে আলম : বরিশাল সহ দেশের তিন সিটিতে নির্বাচন কালীন সময়ে ওয়ারেন্ট কিংবা পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্দেশনার পরেও  মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের এক সমর্থককে আটক করেছে নগরীর এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তির নাম নুর আলম মিলন (৭৫)। তার বাড়ি নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ড এলাকায়। কোন ওয়ারেন্ট কিংবা আদালতের কোন আদেশ ছাড়াই তাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
আটকের পরে পুলিশ মিলনকে গাড়ি ভাংচুরের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে চালান কোর্টে চালান দেয়। এতে ২০ দলীয় জোট ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক এনামুল হক বলেন, তার নামে কোন ওয়ারেন্ট নেই, তবে সে জামায়াতের সদস্য। নিয়মিত মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এই আটকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ভঙ্গ হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই এনামুল বলেন, এ ব্যাপারে ওসি স্যারের সাথে কথা বলেন, আমি জানিনা।
এ দিকে এমন গণগ্রেফতার এবং হয়রানির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিছ জাহান শিরিন বলেন, ইসির নির্দেশনার পরেও এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ এমন হয়রানি করে যাচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আতংক ছড়ানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য এমন গ্রেফতার দুঃখজনক। শুধু এয়ারপোর্ট থানা নয় অন্যান্য এলাকায় ধানেরশীষের সমর্থকদের নানান ভাবে হয়রানি করছে পুলিশ। আমরা শিঘ্রই নির্বাচন কমিশনে এ ব্যাপারের লিখিত অভিযোগ জানবো এদিকে আচরণ বিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ৫ম দিনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কাউন্সলর ও মেয়র প্রার্থীরা। বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এছাড়া প্রশাসনের বিরুদ্বে বৈষম্যমূলক আচরণসহ ক্ষমতাসীনদের হুমকি-ধামকি দেয়ার অভিযোগ করেন বিরোধী মেয়র প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস তার ২৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। অপরদিকে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডের খ্রিষ্টান কলোনি এলাকায় গণসংযোগ এবং ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করেন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। গণসংযোগকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। এ সময় মজিবর রহমান সরোয়ার আবারও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করে বলেন, বিগত দিনের ভোটের পরিসংখ্যান বলছে বরিশাল বিএনপি ঘাঁটি। অথচ বিএনপিকে মিছিল করতে দেয়া হচ্ছে না এবং কর্মী সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে তার অভিযোগ।
এদিকে সকাল পৌঁনে ১১টার দিকে নগরীর নাজিরের পোল এলাকায় গণসংযোগসহ লিফলেট বিতরণ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব। এ সময় তাদের দলীয় প্রতীক হাত পাখা নিয়ে ভাট প্রর্থনা করেন। তারা পরিকল্পিত নগরী গড়তে হাতপাখা মার্কায় ভোট চান। গণসংযোগকালে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব। সাংবাদিকরা প্রকৃত চিত্র তুলে ধরলে শঙ্কা দূর হবে বলে প্রত্যাশা তার। সুষ্ঠু ভোট হলে হাতপাখা মার্কার বিজয় হবে বলে আশাবাদী তিনি।
অপরদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর নূরিয়া স্কুল এলাকায় গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ। এ সময় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট চান সাদিক। গত কয়েক দিনের প্রচারণায় জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান সাদিক। কোনো এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো দলের ঘাঁটি বলে কিছু নেই দাবি করে আওয়ামী লীগও সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পক্ষে বলে দাবি সাদিকের। আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী বিরোধী কোন প্রার্থীর কর্মী সমর্থককে হুমকি-ধামকি দিলে তার বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন সাদিক আবদুল্লাহ।
অন্যদিকে সকাল পৌঁনে ১১টায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে সকল প্রচার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি মুক্ত করা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় রাতের মধ্যে বর্জ্য অপসারণসহ ২৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। এ সময় জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুলসহ জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দিন যতই গড়িয়ে যাচ্ছে ততই জমে উঠছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচন বাড়ছে উত্তেজনা। সুষ্ঠু ভোট ও নির্বাচন নিয়ে শংকায় রয়েছে নগরবাসী। বিএপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত এই নগরীতে সরকার দল চাচ্ছে যে কোন মূল্যে তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে। সরকার দলীয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা যেন ভেবেই নিচ্ছে তারা যে করেই হোক বিজয়ী হবেন। অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী এডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারও তার বিজয় নিশ্চিতে এবং জনগণের সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে প্রস্তত। এবিষয়ে নগরবাসির উৎকন্ঠা হলো খুলনা এবং গাজিপুরের মত প্রশাসন নির্ভর নির্বাচন হলে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেনা। তাই সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা চায়।
এদিকে ১০ জুলাই প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে প্রচারণার গতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পোস্টারিং, মাইকিং, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিলি, জনসংযোগ সহ নানান কাজে প্রার্থী ও কর্মীদের যেন দম ফেলার সময় নেই। কাউন্সিলর প্রার্থীদের চেয়ে মেয়র প্রার্থীরাই রয়েছেন আলোচনায় তুঙ্গে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা মার্কার প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং জাতীয়তা বাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার এর মধ্যেই হবে মুল লড়াই। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির মনোনিত লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী ওবায়েদুর রহমান মাহবুব নিজ নিজ লক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বসে নেই বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী এবং সিপিবি’র প্রার্থী এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। যদিও ইতিমধ্যেই খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ