ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় টিফিন পিরিয়ডে স্কুল ছাড়ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

খুলনা অফিস : খুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড ডে মিল বাধ্যতামূলক। মিড ডে মিলের নামে টিফিন পিরিয়ডে স্কুল ছাড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। টিফিনের পরের ক্লাসগুলোতে কমছে উপস্থিতির হার। কর্মকর্তারা বলেছেন এমন বিষয় থাকলে শিক্ষকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
জানা গেছে, স্কুলগুলোতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মিড ডে মিল চালু বাধ্যতামূলক। রিপোর্টেও শতভাগ দেখিয়েছে প্রাথমিকের বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়। মিড ডে মিলে খাবার সরবরাহ নয় বাসা থেকে টিফিন বক্সে খাবার আনা বাধ্যতামূলক। তাও আনতে ব্যর্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অবশ্যই কিছু শিক্ষার্থী খাবার নিয়ে আসে। ব্যর্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা খাবার না আনায় টিফিন পিরিয়ডে স্কুল ছাড়ে। পরবর্তী ক্লাসগুলোতে তারা আর উপস্থিত হয় না। বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অসহায় হয়ে পড়ে শিক্ষকরা। তাদেরও কিছু করার থাকে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টার্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, তার মা অন্যের বাসায় কাজ করায় সকালে আসার সময় খাবার আনতে পারে না। টিফিনের পরে ক্লাসে খুব কষ্ট হয়। পড়ায় মনোযোগ থাকে না।
চতুর্থ শ্রেণির হিরামনি আক্তার জানান, তার টিফিন বক্স রয়েছে। কিন্তু তিনি নিয়মিত তাতে খাবার আনতে পারেন না। সরেজমিন বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টার্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিন পিরিয়ডের পরে ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। একই সাথে শিক্ষকরাও বিষয়টি স্বীকার করেন। ৯ জুলাই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী হলেও অনুপস্থিত ছিল ১১ জন। চতুর্থ শ্রেণিতে ১৯ জনের মধ্যে সকালে অনুপস্থিতি ৭ জন কিন্তু টিফিনের পরে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ১৩ জন। পঞ্চম শ্রেণিতে ২৬ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ১০ জন শিক্ষার্থী। স্কুলটিতে সততা স্টোর রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টার্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নারগিস আক্তার বলেন, সকল শিক্ষার্থী বাসা থেকে সকালে খেয়ে আসতে পারে না। আর বাসা থেকে খাবার দেয়ার মতো সামর্থ্যও অনেক শিক্ষার্থীর নেই। টিফিন বক্সে খাবার ও পানির বোতল শিক্ষার্থীদের আনা বাধ্যতামূলক। তাও সবাই আনে না। তারপরেও টিফিন দিলে অনেক শিক্ষার্থী খাবার নাম করে বাসায় যায় আর আসে না। এজন্য অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় তাদের অনেক কষ্ট হয়।
খুলনা সদর থানা শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এমন কোনো বিষয় তার জানা নেই। এমন ঘটনা থাকলে শিক্ষকদের সাথে বসে আলোচনা করে উন্নতির চেষ্টা করা হবে।
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ পোদ্দার বলেন, এমন কোনো বিষয় নেই। আর বিষয়টি নিয়ে থানা শিক্ষা অফিসারের (টিইও) সাথে কথা বলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ