ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেশবপুর হাসপাতালের সেকমো’র ভুল অপারেশনে নবজাতকের মৃত্যু

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা:  যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের উপসহকারি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) ফিরোজ কবীরের ভুল অপারেশনে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার হাসপাতাল সড়কের কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি রটে গেলে ওই নবজাতকের স্বজনরা ক্লিনিকটি ঘেরাও করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
জানা গেছে, কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিজস্ব কোন ডাক্তার নেই। এ সুযোগে ওই ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া যাবতীয় রোগীদের নিয়মিত অপারেশন করে থাকেন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের উপসহকারি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) ফিরোজ কবীর। গত ১১ জুলাই মনিরামপুর উপজেলার সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের মশিয়ার রহমান গাজীর স্ত্রী পান্না খাতুনের প্রসব বেদনা দেখা দেয়। এ সময় ক্লিনিকের দালাল উপজেলার মাদারডাঙ্গা গ্রামের আবুল মোড়লের স্ত্রী হাজেরা বেগম খুলনার বড় ডাক্তার দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানোর আশ্বাস দিয়ে পান্না খাতুনকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করে। অপারেশন করার কোন অনুমতি না থাকলেও ওই দিন রাতেই তাকে অপারেশন করে এক নবজাতকের জন্ম দেন সেকমো ফিরোজ কবীর।
নিহতের পিতা মশিয়ার রহমান গাজী অভিযোগ করে বলেন, সেকমো ফিরোজ কবীর অপারেশন করার পর তার নবজাতকের মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এরপর থেকে তার শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। তার নবজাতকের আবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রেফার না করে সেকমো ফিরোজ কবীরের প্রেসক্রিপশনেই চলতে থাকে চিকিৎসা সেবা। এক পর্যায়ে শুক্রবার সকালে (১৩ জুলাই) তার মৃত্যু হয়। এ খবর রটে গেলে তার স্বজনরা ক্লিনিকে জড়ো হয়ে ঘেরাও করার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক শেখ মাহফুজার রহমান বলেন, নবজাতকের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। কিন্তু স্বজনরা অভিযোগ করতে অস্বীকার করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সেকমো ফিরোজ কবীর বলেন, সিজারিয়ান অপারেশনের পর বাচ্চাটি সুস্থ ছিল। রাতে ঘুমের ঘোরে মায়ের হাত বাচ্চাটির নাকের ওপর পড়ায় সে দম বন্ধ হয়ে মারা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ