ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশের উন্নয়নে নৌকায় ভোট চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার পাবনায় পুলিশ লাইন মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেন -পিআইডি

পাবনা সংবাদদাতা : মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সবাইকে হাত তুলে সম্মতি জানাতে বললে অনেকেই ইতিবাচক সাড়া দেন প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। বিএনপি-জামায়াত হত্যা, খুন, আগুন সন্ত্রাস আর ধ্বংস করা ছাড়া আর কিছুই জানে না। এতিমের টাকা চুরি করে আজ জেলখানায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ইতিমধ্যে সক্ষম হয়েছে। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা সহায়তা, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণসহ প্রভৃতি উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের সেবা করছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে পুলিশ লাইন্স মাঠে পাবনায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে জনগণের দোরগোড়ায় কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই ৩০টি ওষুধ বিনামূল্যে পাচ্ছেন। কৃষি ঋণ সহজ, বেকারদের বেকারত্ব দূরকরণে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ ঋণ, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা, গৃহহারাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহদান, একটি বাড়ি একটি খামারের মাধ্যমে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, বিনা জামানতে কৃষি ঋণ ব্যবস্থা, কৃষকের নিজস্ব ব্যাংক এ্যাকাউন্টে ভর্তূকির টাকা দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে মহাকাশ জয় করেছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন বা লুটপাট করতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। আমরা জনগণের সেবার  ব্রত নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি।
তিনি বলেন, মানুষের সুখ শান্তি ও নিরাপদে থাকার জন্য আইন-শৃংখলা রক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। দেশ থেকে সন্ত্রাস, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকা- নির্মূল করতে অভিযান শুরু করেছি। কারণ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের জনগণের কল্যাণে, দেশের উন্নয়নে সবসময় বড় বড় বাজেট দিয়েছি। আজকে পাবনায় ৪৯টি কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর করে গেলাম।
শেখ হাসিনা বলেন, নদী শাসন, রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠির মধ্যে ক্রমাগতভাবে নগর, শহর সুবিধা প্রদান করবো। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবারও ক্ষমতায় বসতে পারলে প্রত্যেক জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে দেবো। শেখ হাসিনা কখনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না। তিনি বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থেকে দেশকে অন্ধকারের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছিল। তারা ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রেখে গিয়েছিল। আমরা পরপর দুবার ক্ষমতায় এসে বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ-এর পরিমাণ ১৯ হাজার মেগাওয়াটে এসে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই আমরা এই প্রকল্প থেকে ২৪ শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবো। যা জাতীয় গ্রিড লাইনে সংযুক্ত হবে।
আওয়ামী লীগ প্রধান বিএনপি-জামায়াত কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আপনারা ক্ষমতায় থেকে দেশের উন্নয়নের চিন্তা না করে খুন, হত্যা ও জ্বালাও পোড়ায় সন্ত্রাসী কর্মকা-ে লিপ্ত ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সুযোগ সুবিধা সব সময়ে নিশ্চিত করেছে।
দেশের মানুষ জানে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে কখনো চাইতে হয় না এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নত করতে নিজ তাগিদেই উন্নয়নমূলক কর্মকা- অব্যাহত রেখেছি। 'আমরা আর ভিক্ষা করে দেশ চালাতে চাই না' মন্তব্য করে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সকলকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী ।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপির সঞ্চালনে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, রেলপথমন্ত্রী মজিবুল হক প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ