ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে : শিক্ষামন্ত্রী

গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর সমাবর্তন কুমিরাস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ

চট্টগ্রাম ব্যুরো : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন, বিকল্প মাধ্যামের উদ্ভাবন, বিশ্বায়ানের প্রতিফলন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়ন, প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিতকরণ, প্রচলিত শিক্ষা কার্যক্রমের সংস্কার ও নতুন কার্যক্রমের সূচনা। বেসরকারি উদ্যোগ এইসব বিশ্ববিদ্যালয়সমুহে সেশনজট নিরসন করে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রাখছে। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রত্যাশিত মান নিশ্চিতকরণে ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার গুরুত্ব দিয়ে এই সেক্টর তদারকি করছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১ টায় কুমিরাস্থ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ৪র্থ সমাবর্তনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষার গুনগতমান বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আদর্শ জাতি গঠনে নৈতিক শিক্ষা খুবই জরুরি। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।
সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকার কোনো ধরনের পার্থক্য করে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও সুযোগ নিশ্চিত করবে সরকার। শর্ত পূরণে ব্যর্থ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশি দিন চলতে পারবে না বলেও মন্ত্রী জানান।
শিক্ষামন্ত্রী  নুরুল ইসলাম নাহিদ  বলেন, আজ আপনাদের জন্য আনন্দের দিন। আপনাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আজ পূরণ হচ্ছে। আজ আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত সনদ গ্রহণ করেছেন। আপনাদের এ সাফল্যের জন্য আপনাদেরকে জানাচ্ছি, আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এ সাফল্য ও গৌরব অর্জন করতে আপনাদেরকে এবং আপনাদের অভিভাবকগণকে, সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলীকে অনেক শ্রম ও মূল্য দিতে হয়েছে। আমি গ্রাজুয়েটদের পিতা-মাতা-অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন এখানে শেষ হলেও আপনাদের কর্মজীবন এখান থেকেই শুরু হলো। আপনাদের অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞান এখন বাস্তব কর্মজীবনে প্রয়োগ করতে হবে। জ্ঞান ও মেধার প্রয়োগে সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সীমা বা শেষ নেই।  জীবনভর তা আয়ত্ব করে আরও বড় সাফল্য অর্জন অব্যাহত রাখা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম-এর ৪র্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে আপনারা আমাকে সম্মানিত করেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বুকে ধারণ করে গড়ে ওঠা এ শিক্ষায়তনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার একাডেমিক কর্মপ্রক্রিয়া বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনা করে আসছে এবং জাতির সেবায় নিয়োজিত হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করে তোলায় বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা কৃতিত্বের জন্য স্বর্ণপদক পেয়েছেন সে সকল শিক্ষার্থীদের আমি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। 
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতায়  বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, আমি আশা করি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা আন্তরিকতা,সততা,নিষ্ঠার সাথে দেশের সেবায় নিয়োজিত হবে।তারা  দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে  যোগ্যতার প্রমাণ  রাখতে সক্ষম হবে এবং আমাদের জাতির টেকসই উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইআইইউসি’র প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তৃতা দেন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের আইন উপদেষ্টা আল সায়িদ আলী বিন সায়িদ আবদুর রহমান আল হাসিম, আরো বক্তব্য দেন আইআইইউসি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর কে.এম গোলাম মহিউদ্দীন ও সমাপনী বক্তৃতা দেন প্রফেসর মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন।
সমাবর্তনে ২২ হাজার ৮ শত ৫৯ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩৬ জনকে চ্যান্সেলর  গোল্ড মেডেল এবং ভাইস-চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয় ২ শত ৩০ জনকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ