ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার কথা যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলবে

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার কথা যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলবে বলে জানিয়েছেন  মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট । এছাড়া আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন যতটা সম্ভব অনিয়মমুক্ত করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বনানীতে সেতুভবনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এমন আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে আরও বলেন, ওয়াশিংটন আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথাও তারা বলেছেন। তারা বলেছেন- এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ভালোভাবে হোক।
ওবায়দুল কাদের জানান, গাজীপুরের নির্বাচনে কিছু অনিয়ম হয়েছে বলে তারা বলেছেন। এছাড়া খুলনা সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন। সামনের নির্বাচনগুলো যতটা সম্ভব অনিয়মমুক্ত করার জন্য তারা সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছেন।
তিনি বলেন, তিনি (কাদের) রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন- সরকার বরাবর একই অবস্থানে আছে। অনিয়ম যেখানে, সেখানেই নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা (নির্বাচন কমিশন) যদি আরও অন্য অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করতে চায়, সেটাও করবে। সামনের নির্বাচনগুলো যেন আরও ভালো হয়, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনই নজর দিতে পারে। সরকার এ ব্যাপারে সব রকমের সহযোগিতা করবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে। রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, এ ব্যাপারে তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তাদের পর্যবেক্ষকদেরও স্বাগত জানানো হবে। তারা যত পর্যবেক্ষক পাঠাতে চান কিংবা অন্য দেশ থেকে যত পর্যবেক্ষক আসুক- কোনো বাধা নেই।
তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রদূত গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে যে বিষয়টি বলেছেন, সেটা নিয়ে আমাদের কথা বলা উচিত। আমি বিষয়টাকে এমনভাবে বলেছি, আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে যেন কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়। কিংবা বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো ধরনের ফাটল যেন না ধরে। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে অ্যাটাক করে কোনো সমালোচনা করতে যাইনি। বলেছি দেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে কোনো রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বা বন্ধুত্বে কোনো ধরনের ছেদ হয়- এ ধরনের মন্তব্য থেকে আমাদের সবাইকে দূরে থাকতে হবে।'
এর আগে থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সমালোচনা করে আসছিলেন ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো ঘাটতি নেই। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের সীমান্ত খুলে দিয়েছেন, তখন সারাবিশ্বে মানবতার জননী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রেরও এতে সমর্থন আছে- এটা শক্তি ও সাহসের বিষয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ব্যাপারে তিনি বলেন, 'তারাও (যুক্তরাষ্ট্র) তো আমাকে বলছেন যে বিএনপি নির্বাচনে আসবে। কাজেই এখানে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো সন্দেহ কিংবা সংশয় আছে বলে মনে করি না। সরকার কোনো বাধা দেবে না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যদি বিএনপি আসতো সরকার কী বাধা দিত? তারা আসেনি- এটা তাদের বিষয়, তাদের ভুল। এবার আসবে কী আসবে না- সেটাও তাদের সিদ্ধান্ত। বিএনপি নির্বাচনে আসবে তাদের নেতারাই তো বলেছেন, বিএনপি না এলে তাদের ‘আসুন আসুন আসুন’ বলে টেনে আনার কোনো দায়িত্ব আমাদের নয়।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারকারীদের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার গঠিত এ সংক্রান্ত কমিটি দেশ-বিদেশের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা আছেন, তাদের অনুরোধ করব ধৈর্য ধরার জন্য। প্রধানমন্ত্রী যে স্টেপ নিয়েছেন, এই পদক্ষেপের প্রতি আস্থা রেখে আরেকটু ধৈর্য ধরতে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা এসব বিষয়ে কেন কথা বলছেন, সেটা তাদের বিষয়। আমি বলতে চাই, কোটা সমস্যার সমাধানে সরকার এখন একেবারে রাইট ট্র্যাকে আছে, ফর্মালি একটা কমিটি গঠন হয়েছে কেবিনেট সেক্রেটারির নেতৃত্বে। এই কমিটি খোঁজ-খবর নিচ্ছে, অন্যান্য দেশের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। বিষয়টা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যেটা বক্তব্য সেটা হচ্ছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলরের বাড়িতে যে নারকীয় তান্ডব; তার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরই কেবল তারা গ্রেফতার করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ