ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনবল সংকট আর অবহেলায় খুলনার একমাত্র সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এখন নিজেই মুমূর্ষু!

খুলনা : নগরীর মীরেরডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বারান্দায় ছাগলের অবাধ বিচরণ (বামে)। হাসপাতালের টয়লেটগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে (ডানে)

খুলনা অফিস : জনবল সংকট, চারপাশে স্যাঁতস্যাঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, জরাজীর্ণ অবকাঠামো আর বখাটে মাদকসেবীদের আড্ডায় খুলনার একমাত্র সংক্রামকব্যাধি হাসপাতাল মুমূর্ষু অবস্থায় পতিত হয়েছে। নগরীতে ডায়রিয়া ও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এ হাসপাতালে নেই ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ। খোদ কর্তব্যরত চিকিৎসকরাই বলছেন এখানে রোগী আসলে সুস্থ হওয়ার চাইতে আরো অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ১৯৬৮ সালে ২০টি বেড নিয়ে চালু  হয় খুলনা বিভাগীয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। এরপর অর্ধ শতাব্দী পার হলেও অবহেলায় জনবল সংকট আর অস্বাস্থ্য পরিবেশে বয়সের ভারে মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে হাসপাতালটি। ১০টি বেড ডাইরিয়ায় ৫টি টিটিনাস ও ৫টি জলতন্ত্র, হাম ও পক্স রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কখনও কখনও এ সংখ্যা শতকে ছাড়ায়। অথচ মাত্র ২০ সীটের বিপরীতে এত সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের বারান্দা ছাড়াও বাইরে মাঠেও চিকিৎসা দেয়ার নজির রয়েছে। অপরদিকে জরাজীর্ণ ভবন পুরোনো এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে এখানের স্বাস্থ্য সেবা। সরেজমিনে ঘরে দেখা যায় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সম্মুখে গরু ও ছাগল নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপ পড়ে আছে। হাসপাতাল কমপ্লেক্সের পরিত্যাক্ত ভবন ও মাঠে নেশাজাতদ্রব্যের ব্যবহারিত মালামাল পড়ে থাকতে দেখা যায়। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিকাল হলেই এখানে এলাকার উঠতি বখাটে আর মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়।

হাসপাতালে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। মেডিকেল অফিসার তিনজন থাকলেও সার্বক্ষণিক একজনের বেশি ডাক্তার এখানে থাকেন না। পর্যায়ক্রমে ডিউটি দিতে হয় তাদের। অথচ শূন্য রয়েছে পদ। ডা. শাকিলা কবির নামে একজন চিকিৎসক থাকলেও, এখানে থাকেন না তিনি।

তাছাড়া সাত জন নার্সের পদ থাকলেও রয়েছে মাত্র ৩ জন। এছাড়া ফার্মাসিস্ট ১ জন, ওয়ার্ড বয় ২ জন। আয়া সার্বক্ষণিকভাবে ১ জন থাকলেও কেউ নেই। বাবুর্চী ২ জনের মধ্যে রয়েছে ১ জন। সবচেয়ে এই সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ৩ জন পরিচ্ছান্ন কর্মী (সুইপার) থাকার কথা থাকলেও কেউ নাই। ডাক্তার হাবিবুর রহমান জানান, পরিচ্ছন্ন কর্মী না থাকায় হাসপাতালের এই নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। খুলনার অন্য তিনটি সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া ও সংক্রামক ব্যাধি রোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি করা হয় না। ফলে এসব রোগীদের একমাত্র ভসরা এ হাসপাতালের বরাদ্দ বাড়িয়ে আধুনিকায়ণ করার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ