ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিক্ষানগরীর গর্বিত প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজ

সরদার আবদুর রহমান : ব্রিটিশ সময় থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত অসংখ্য শিক্ষা কেন্দ্র রাজশাহী শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পরেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করেই উত্তরাঞ্চলের প্রধান নগরী আজকের রাজশাহী প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এখানকার শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মানুষেরা। বাংলাদেশের অন্য কোন শহর বা নগরে এজাতীয় অবস্থা পরিলক্ষিত হয় না। এসকল বিষয় বিবেচনা করেই রাজশাহী এদেশের মানুষের কাছে শিক্ষানগরী হিসেবে স্বগৌরবে প্রতিষ্ঠিত। এই গৌরবের অন্যতম অংশীদার ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজ। ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে একজন মুসলমানসহ মোট ৬ জন ছাত্র নিয়ে রাজশাহী জেলা স্কুলে (পরবর্তীতে কলেজিয়েট স্কুল) রাজশাহী কলেজের এফএ ক্লাশ শুরু হয়। এর প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রী হরগোবিন্দ সেন। শুরু হয় পূর্ববঙ্গে উচ্চ শিক্ষার পথে প্রথম যাত্রা। ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের মূল ভবন নির্মিত হয়। ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে কলেজে বিএ ক্লাশ এবং ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে এমএ ক্লাশ চালু হয়। পরে অবশ্য ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে এমএ ক্লাশ প্রত্যাহার করা হয়। ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের প্রথম ভবন (বর্তমানে প্রশাসনিক ভবন) নির্মিত হয়। ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের প্রথম ছাত্রাবাস পি.এন (প্রমদানাথ) হোস্টেল এবং ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে ‘হেমন্তকুমারী হোস্টেল’ নির্মিত হয়। কলেজিয়েট স্কুলের তৎকালিন প্রধান শিক্ষক খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ’র উদ্যোগে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয় ‘ফুলার মোহামেডান হোস্টেল’। বর্তমানে (২০১৭ খ্রি.) কলেজটিতে ১৯টি বিষয়ে অনার্স কোর্স এবং ২১টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স পড়ানো হয়। কলেজে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার রয়েছে। এতে পুস্তকের সংখ্যা প্রায় ৬৯,৪৩৯। গ্রন্থাগার ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি সুপরিসর অডিটোরিয়াম রয়েছে। রাজশাহী কলেজ বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে অগ্রগণ্য পথিকৃত কলেজ হিসেবে স্বীকৃত। রাজশাহী কলেজের কারণেই রাজশাহী নগরী একসময়ে বিখ্যাত নগরী হিসেবে অবিভক্ত ভারতবর্ষে সুপরিচিত হয়ে উঠেছিল। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পরপরই তৎকালীন সরকার কলেজটি উচ্ছেদের পরিকল্পনা গ্রহণ করে, কিন্তু রাজশাহী এসোসিয়েশনের চেষ্টা ও সাহায্য সহযোগিতায় উচ্ছেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে পারেনি। বরং কলেজটি দ্বিতীয় শ্রেণীর কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণীর কলেজে উন্নীত করার চেষ্টা শুরু হয়। ১৮৭৮ সালে এই কলেজে বিএ ক্লাস চালু করা হয় এবং একই বছরে কলেজটিকে নিজস্ব আবাসভূমিতে স্থানান্তর করে রাজশাহী কলেজ নামকরণ করা হয়। ১৮৮১ সালে এই কলেজে এমএ এবং ১৮৮৩ সালে আইন ক্লাস চালু করা হয়। পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম অনুযায়ী কলেজ থেকে এমএ ও ল ক্লাস বিলুপ্ত করা হয়। রাজশাহী কলেজের ভবন নির্মাণ, কলেজ হোস্টেল নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়নের জন্য রাজশাহীর তৎকালীন জমিদার ও রাজাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের মধ্যে দুবলহাটির জমিদার হরনাথ রায় চৌধুরী, দিঘাপতিয়ার রাজা প্রমথনাথ রায়, রাজা প্রমোদ রায় ও বসন্ত রায়, পুঠিয়ার রানী শরৎসুন্দরী দেবী ও হেমন্তকুমারী দেবী, বলিহারের কুমার শরবিন্দু রায়, খান বাহাদুর এমাদউদ্দীন  আহমেদ,  কিমিয়া-ই- সাদাত  এর  অনুবাদক মীর্যা  মো. ইউসুফ  আলী,  হাজী  লাল  মোহাম্মদ,  নাটোরের  জমিদার  পরিবারের  খান বাহাদুর রশিদ খান চৌধুরী, খান বাহাদুর এরশাদ আলী খান চৌধুরী ও বঙ্গীয় আইন পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার আশরাফ আলী খান চৌধুরী ছিলেন বিশেষভাবে স্মরণীয়। স্থানীয় অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অনেকেই রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের থাকা খাওয়ার সুবিধা প্রদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে নাটোরের খান চৌধুরী জমিদার পরিবার রাজশাহী শহরের হেতম খাঁ এলাকায় তাঁদের পারিবারিক বাসস্থান ‘চৌধুরী লজ’ এ প্রায় বিশজন ছাত্রের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তদানীন্তন পশ্চাৎপদ মুসলমান সমাজের শিক্ষার উন্নয়নে তাদের এই উৎসাহ ছিল প্রেরণাদায়ক। একটি প্রথম শ্রেণির প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজশাহী কলেজ শুরু থেকেই দ্রুত প্রসিদ্ধি লাভ করতে থাকে।
রাজশাহী কলেজ কম্পাউন্ড বৃদ্ধিতে কলেজ সংলগ্ন হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ:) এর মাযার কর্তৃপক্ষের আন্তরিক উদারতা ও সহযোগিতা ছিল। ‘হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ:) ওয়াকফ এস্টেট’ রাজশাহী কলেজকে প্রায় চার একর জমি দান করে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তানে রাজশাহী কলেজ প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং পরে ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্নাতক পাশ ও স্নাতক সম্মান কোর্স রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকার পর ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে স্নাতক পর্যায়ের কোর্সগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভূক্ত হয়। বর্তমানে ২৩ টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও ২৪টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে। যে সকল প্রথিতযশা শিক্ষাবিদের অবদানে রাজশাহী কলেজের ঐতিহ্য সমুন্নত হয়েছে তাঁদের মধ্যে শ্রীকুমার ব্যানার্জী, সুনীতি কুমার ভট্টাচার্য, ড.পি.ভি শাস্ত্রী, ড. কুদরত ই-খুদা, হুমায়ুন কবির (সাহিত্যিক-রাজনীতিক), আবু হেনা, স্নেহময় দত্ত, বি.সি. কুন্ড, শিব প্রসন্ন লাহেড়ী, ড. এনামুল হক, ড.গোলাম মকসুদ হিলালী, জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, ড. এ আর মল্লিক, এম. শামস্ উল হক (প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ড. আব্দুল্লাহ আল মুতি শরফুদ্দীন, ড. এম. এ. বারী, ড. কাজী আব্দুল মান্নান, ড. আবুহেনা মোস্তফা কামাল, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অধ্যক্ষ হিসেবে যে সকল প্রথিতযশা প-িত ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করে গেছেন তাঁদের মধ্যে ৭ জন ব্রিটিশ নাগরিকসহ অন্যতম মি. হরগোবিন্দ সেন, রায় কুমুদিনী কান্ত ব্যানার্জি বাহাদুর, মি. এস.এন. মৈত্র, মি. এ.কে. মুখার্জী, ড. পি.ডি. শাস্ত্রী, মি. জে.এম. বোস, ড. এস.কে. ব্যানার্জী, ড. স্নেহময় দত্ত, ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ড. আই,এইচ, জুবেরী, এম. তাহের জামিল, এ. করিম মন্ডল, এ. মুনেম , সলমন চৌধুরী, প্রফেসর ড. আবদুল হক, প্রফেসর এম.এ. হাই প্রমুখ। অসংখ্য কৃতি শিক্ষার্থী রাজশাহী কলেজ থেকে শিক্ষালাভ করে পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শ্রী রাধিকা মোহন মৈত্র, প্রমথ নাথ বিশী, স্যার যদুনাথ সরকার, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, কবি রজনী কান্ত সেন, কাজী মোতাহার হোসেন, খান বাহাদুর এমাদউদ্দীন আহমেদ, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ. এম. কামারুজ্জামান, মীর্জা গোলাম হাফিজ, ড. কাজী আব্দুল মান্নান, ড. মযহারুল ইসলাম, ড. এম.আর. সরকার, ড. এম.এ. রকীব, মাদারবকশ, ডা. গোলাম মওলা, বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ঋত্বিক ঘটক (প্রখ্যাত চলচিত্রকার), এ কে খন্দকার (মুক্তি বাহিনীর উপ-সর্বাধিনায়ক) আনোয়ার পাশা, ড. এবনে গোলাম সামাদ, ড. এমাজউদ্দীন আহমদ (সাবেক ভিসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ড. ওয়াজেদ আলী মিয়া (পরমাণু বিজ্ঞানী), নাজমা জেসমিন চৌধুরী, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক প্রফেসর হাসান আজিজুল হক, প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক (প্রাক্তন ভিসি‘, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), নাট্যকার মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, প্রাক্তন শিক্ষা সচিব কাজী জালাল উদ্দীন আহমেদ, প্রফেসর সনৎ কুমার সাহা (প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও রবীন্দ্র গবেষক) এমিরেটাস প্রফেসর অরুণ কুমার বসাক (পদার্থ বিজ্ঞানী) অন্যতম। একজন ইংরেজ প্রকৌশলীর পরিকল্পনায় ১৮৮৪ সালে একষট্টি হাজার সাতশ টাকা ব্যয়ে বর্তমান প্রশাসন ভবনটি নির্মিত হয়। গাঢ় লাল বর্ণের দোতলা ভবনটি কালের গ্রাস জয় করে নগরীর প্রধান ও প্রাচীনতম সড়কের পাশে আজো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এর পর একে একে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, শিক্ষকদের আবাসস্থল, অধ্যক্ষের বাসভবন। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজশাহী কলেজে গড়ে উঠেছে পাঁচটি বিজ্ঞান ভবন, দুইটি কলাভবন, ইংরেজি বিভাগের জন্য একটি পৃথক ভবন; পুকুরের পশ্চিম পাড়ে ‘গ্যালারি ভবন’ যা প্রখ্যাত দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসীন ভবন নামে পরিচিত। রাজশাহী কলেজে ১৯২৯ সালে ডিসেম্বরে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের আগমন ঘটেছিল। তিনি রাজশাহী কলেজের সে সময়ের শিক্ষার্থীদের সাথে তিন রাত্রি যাপন করেছিলেন। ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের শহীদ মিনারটি প্রথম নির্মিত হয়েছিল রাজশাহী কলেজেই। রাজশাহী কলেজে পরীক্ষার ফলাফল বরাবরের মত বর্তমানেও অনেক ভাল। শিক্ষাবোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের সাফল্য কলেজের উন্নত শিক্ষামানের সাক্ষ্য বহন করে। উল্লেখ্য, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত তদানীন্তন পূর্ববাংলায় একমাত্র রাজশাহী কলেজেই স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে পাঠদান করা হতো। সে সময় অবিভক্ত বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও আসাম, বিহার ও উড়িষ্যা থেকে শিক্ষার্থীরা এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের জন্য আসতেন। শতাব্দী প্রাচীন এ প্রতিষ্ঠানটি কেবলমাত্র শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং পন্ডিত ও গবেষকদের জন্য এক অনন্য গবেষণাক্ষেত্র হিসাবেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বর্তমান রাজশাহী কলেজ পঁয়ত্রিশ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। এর রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর ক্যাম্পাস। সামনে তাকালে যেখানেই ফাঁকা জায়গা সেখানেই একটি ফুলের বাগান। ধুমপান ও মাদকমুক্ত এই ক্যাম্পাস গ্রীন ক্যাম্পাস ও ক্লিন ক্যাম্পাস নামে পরিচিত। পঁয়ত্রিশ একর পরিসীমার এ কলেজ ক্যাম্পাসে রয়েছে দৃষ্টি নন্দন বিভিন্ন ভবন, শহীদ মিনার, রবীন্দ্র-নজরুল চত্বর, পাড় বাঁধানো একটি পুকুর, সুদৃশ্য মসজিদ, মন্দির এবং দুটি খেলার মাঠ। ক্যাম্পাসটি নানান বিরল প্রজাতির বৃক্ষ দ্বারা শোভিত।১৮৮৪ সালে ব্রিটিশ স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত ঐতিহ্য ভবন খ্যাত একটি দ্বিতল প্রশাসন ভবনসহ ১২টি একাডেমিক ভবন রয়েছে। এগুলো হলো, প্রশাসনিক ভবন, হাজী মুহম্মদ মহসীন ভবন, ফুলার ভবন, পদার্থবিজ্ঞান ভবন, প্রথম বিজ্ঞান ভবন, দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবন, তৃতীয় বিজ্ঞান ভবন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ভবন, শহীদ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান একাডেমিক কাম এক্সামিনেশন ভবন, কলা ভবন, ইংরেজি ভবন এবং রসায়ন ভবন। সুপরিসর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ ২৩টি বিভাগের ২৩টি সেমিনার লাইব্রেরি এই কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগকে বিস্তৃত করেছে। বর্তমান অধ্যক্ষ মহোদয় প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান এবং উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আল ফারুক চৌধুরী কলেজ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য হস্ত লিখিত পুঁথি, পুস্তক, সাময়িকীসহ ২,৫৬,৫২০ (দুই লক্ষ ছাপান্ন হাজার পাঁচশত বিশ) খানা বই রয়েছে এই কলেজের লাইব্রেরিতে। এই কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ছাব্বিশ হাজার। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে হোস্টেলের এবং হোস্টেলের আসনের সংখ্যা একেবারেই সীমিত। এখানে দুটি ছাত্রদের এবং দুটি ছাত্রীদের হোস্টেল রয়েছে।  এগুলোর মধ্যে একটি হলো মুসলিম ছাত্রাবাস যেটিতে আটটি ব্লক রয়েছে। এখানে আসন সংখ্যা হলো পাঁচশত পঞ্চাশটি। মহারানী হেমন্তকুমারী হিন্দু হোস্টেলে রয়েলে তেপ্পান্নটি আসন, রাজশাহী কলেজ ছাত্রীনিবাসে রয়েছে তিনশত আটাত্তরটি এবং রহমতুন্নেছা ছাত্রীনিবাসে মোট আসন সংখ্যা একশত চৌষট্টিটি।
সবমিলিয়ে হলো একহাজার একশত পঁয়তাল্লিশটি আসন। এই কলেজে আরো রয়েছে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র যেখানে একজন চিকিৎসক স্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত রয়েছেন। আরো আছে একটি পুলিশ স্টেশন ও একটি ক্যান্টিন। স্বাধীনতা উত্তরকাল হতে বর্তমান পর্যন্ত রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক ফলাফলের ভিত্তিতে রাজশাহী কলেজের অবস্থান শীর্ষেই ছিল। এমনকি সারাদেশে সরকারি কলেজসমূহের মধ্যে রাজশাহী কলেজ ফলাফলের দিক থেকে তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং-এ সারাদেশের কলেজসমূহের মধ্যে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের জন্য বিবেচিত হয় এবং শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে মহামান্য প্রেসিডেণ্ট আবদুল হামিদের নিকট থেকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করে। এ ছাড়াও এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ সম্মেলন-২০১৭ এ সরকারি কলেজের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে মানসম্মত শিক্ষার সেরা প্রতিষ্ঠান তথা মডেল কলেজ হিসেবে রাজশাহী কলেজ বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। রাজশাহী কলেজে অনন্য অবদানের জন্য বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান জাতীয় পর্যায়ে পাঁচটি পুরস্কার লাভ করেছেন। যা প্রমাণ করে বর্তমান রাজশাহী কলেজ শিক্ষাক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ