ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানী দিনের পর দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে

আখতার হামিদ খান : ঢাকায় ক্রমবর্ধমান হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বাসস্থান, যানজট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা, বায়ু দূষণ, সন্ত্রাস প্রভৃতি আইন শৃংখলাজনিত পরিস্থিতির চরম অবনতিসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে ঢাকা দিনের পর দিন মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। স্রোতের মতো লোক আসছে। এর গতিরোধ করতে না পারলে আগামী ১০/১২ বছরের মধ্যে এখানে পা রাখার একটু জায়গা পাওয়াও যাবে না। এসব সমস্যা সমাধানের সুদূর অতীতের মতো বর্তমানেও নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আজ যে পদক্ষেপ নেয়া  হচ্ছে কাল তার উপযোগিতা শেষ হয়ে যাচ্ছে। আবার নতুন করে আর একটা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এটা যেনো একটা ওয়ান টাইম ইউজড বলপেনের মতন অবস্থা। আসলে আমরা মূল সমস্যার গভীরে যেতে পারছি না। উপর উপর চিন্তা করছি।
গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করে সমাধানের চিন্তা না করলে ঢাকার অস্তিত্ব বিপন্ন হতে বাধ্য। আর তার বিনিময়ে ব্যয় হবে কোটি কোটি টাকা এবং এই খরচের কোনো মূল্যই থাকবে না একদিন।
ঢাকায় কেন লোক আসছে : ঢাকায় কেনো লোক আসছে এর কোনো সঠিক উত্তর দেয়া এক কথায় সম্ভব নয়। এর অনেক কারণ আছে। বাংলাদেশ বলতেই ঢাকা-পুরা দেশটাই যেনো ঢাকাকেন্দ্রিক। বাংলাদেশে যা কিছুই আছে এবং যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে তার সবটাই ঢাকাতে পাওয়া যায়। বাইরের জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। তবুও প্রায়শই দেখা যায় সেখানে কোনো যন্ত্রপাতি নেই। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। ফলে অধিকাংশ জটিল রোগীকেই ঢাকায় রেফার করে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
শিক্ষার যতো ভালো ব্যবস্থা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকাতেই সব চাকরির উৎস। বিদেশে গমনাগমনের পথ ও পন্থা উপায় ও উপকরণ চাকরির ট্রেনিং প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা সবই এখানে। পুরো গার্মেন্টস শিল্প ও অন্যান্য কারখানাদি সবই এ মহানগরীর আশপাশে। গ্রামে কাজ না পেলেও ঢাকায় আসলে একটা না একটা কাজ জুটেই যাবে। আর তো রয়েছে পড়ে সরকারি জায়গা জমি। সেখানে একটা কুঁড়ে ঘর তো তোলা যাবে এই তো ঢাকা। গ্রামে ক্ষেতের কাজের লোক পাওয়া যায় না আর এখানে লোকের কোনো অভাব নেই। খাদ্যদ্রব্য চারদিক থেকে ঢাকায় আসছে। গ্রামে বহু জিনিস পাওয়া যায় না সত্য কিন্তু ঢাকাতে কোনোই অভাব নেই। ঢাকার সুস্বাদু মাগুর, কই, রুই প্রভৃতি মাছ অধিকাংশ জেলাতে ঠিকমত পাওয়া যায় না অথচ ঢাকাতে বারো মাস এ সকল ভালো ভালো মাছ পাওয়া যায়। ফল ফলাদি মুরগী ও খাসির মাংস কোনোটিারই অভাব নেই এই শহরে। এমন কোনো জিনিস নেই বা কোনো খাদ্যদ্রব্য নেই যা ঢাকাতে পাওয়া যায় না। অথচ বহু জেলা শহরে এসব কিছুর অনেকই পাওয়া যায় না।
অতিরিক্ত আকর্ষণ : প্রাইভেট হাউজিং, এপার্টমেন্ট প্লাজা, সপিং সেন্টার, অভিজাত আবাসিক এলাকা তৈরি ঢাকার আকর্ষণকে আরো একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। অবৈধ পথে কোটি কোটি টাকা অর্জন করে নিরাপদ ও নির্ভয়ে ঢাকায় অবস্থানে কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতা নেই, যেকোনো লোক যেকোনোভাবে রাজকীয় পরিবেশে ঢাকায় বসবাস করতে পারে। দেশের যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সন্ত্রাসী ঢাকায় নির্ভয়ে নিরাপদে অবস্থান করতে পারে। যেকোনো লোক প্লট নিয়ে সুরম্য প্রাসাদ নির্মাণ করে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ভোগের একমাত্র সুযোগ ঢাকাতেই পেতে পারে। ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণের সুযোগ এবং পরবর্তীতে ঋণের টাকা কিভাবে ব্যয় হলো তা দেখার কোনো লোক নেই এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধ করা লাগবে কি না তার এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এসব কারণে ঢাকা গোটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
মানুষের মন-মানসিকতা : এমন অনেক লোক আছে যাদের কোনোদিনই ঢাকায় আসার বা বসবাসের দরকার হবে না তারাও ঢাকায় একটা বাড়ি করতে চায় বা করছে। নিজের স্বামী জেলা বা বিভাগীয় শহরে অবস্থান করছে স্ত্রী বাসা ভাড়া করে ছেলে- মেয়েদের ঢাকায় লেখাপড়া করাচ্ছেন।
কেউ বা একাই থাকছেন। কেউ বা চান ঢাকায় থাকা হোক বা না হোক একটা বাড়ি করে রাখি। ডাক্তারদের বাইরে পোস্টিং দিলে কেউ যেতে চায় না বাধ্য হয়ে গেলেও স্ত্রী ঢাকাতে থাকেন। যেকোনো কর্মকর্তা কর্মচারী চাকরির কারণে ঢাকার বাইরে যেতে বাধ্য হলেও তার ফ্যামিলি ঢাকায় থাকেন। বিদেশে অবস্থানরত লোকজনের পরিবার ঢাকাতেই অবস্থান করেন। গ্রাম থেকে কেহ একবার ঢাকায় এলে আর যেতে চায় না। কুমার, কামার, ছুতার, লেবার সবাই ছুটে আসেন ঢাকাতে। একবার ঢাকায় প্রবেশ করতে পারলে যাওয়ার কথা মনে করে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ