ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ কুমারখালী

কুষ্টিয়ার কুমারখালী শত ঐতিহ্য আর গৌরবের এক সোনালী নাম। বিখ্যাত মনীষীদের জন্ম আর পদচারণায় ধন্য ও গর্বিত এখানকার মাটি। ১৮২৮ সালে পাবনা জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলে কুমারখালী পাবনা জেলার অর্ন্তভুক্ত হয়। এর আগে যশোরের মধ্যে ছিল। ১৮৫৭ সালে কুমারখালীতে মহকুমা প্রতিষ্ঠা হয়। কুমারখালী মহকুমার অধীনে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি, পাংশা, কুমারখালী, খোকসা ও অধুনালুপ্ত ভালুকা থানা অর্ন্তভূক্ত হয়। ১৮৭১ সালে কুমারখালী মহকুমা বিলুপ্ত হলে কুমারখালী থানা হিসাবে জন্ম লাভ করে এবং নবগঠিত কুষ্টিয়া মহকুমার অর্ন্তভুক্ত হয়।
প্রাচীন জনপদ কুমারখালী একটি তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ উপজেলা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীন একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বর্তমানে এর আয়তন ৩’শত ২৮ দশমিক ৯৪ বর্গ কিলোমিটার। প্রায় ২০ কিলোমিটার রেল পথসহ কুমারখালীর কাঁচা-পাকা সড়কের পরিমাণ প্রায় ৯’শত কিলোমিটার। পশ্চিমে জেলা সদর, পূর্বে খোকসা, উত্তরে পাবনা ও দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলা অবস্থিত। পদ্মা নদী কুমারখালীর উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে রাজবাড়ী জেলায় ঢুকেছে। গড়াই নদী শহরের পাশ ঘেঁসে উপজেলার মধ্যভাগ দিয়ে চলে গেছে ফরিদপুরের মধুখালীর দিকে।
১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমারখালী পৌরসভা বর্তমানে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। কুমারখালীর মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছে, খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ক্রীড়াবিদসহ অনেক গুণীজন। সাহিত্যিক সাংবাদিক কাঙালহরিনাথ মজুমদার’র সম্পাদনায় কুমারখালী থেকেই বাংলার প্রাচীন অন্যতম সংবাদপত্র “গ্রাম বার্তা” প্রকাশিত হয়। পদ্মা-গড়াই বিধৌত কুমারখালীর রূপ-রস আর সীমাহীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রাচীন কাল থেকেই বিশ্বখ্যাত পর্যটক, মনীষী আর বিখ্যাত ব্যক্তিরা ছুটে এসেছেন এই জনপদে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক মীর মশাররফ হোসেন, বাউল সম্রাট ফকির লালনশাহ প্রমুখ বিশ্বখ্যাত মনীষীরা আস্তানা গড়েন এই কুমারখালীতে। এ দেশের শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে বিচরণ করেছেন। কুমারখালীর মাটি ও মানুষ শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে সব সময় গৌরবময় ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুমারখালীর শিলাইদহে এসে কিছু সময় সাহিত্য চর্চা করেছেন।
এছাড়ও বাউল সম্রাট লালন ফকির, বিষাদ সিন্ধু রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন, কাঙ্গাল হরিণাথ মজুমদার, কবি ডক্টর হরগোপাল বিশ্বাস, বাউল সাধক গগণ হরকরা, কবি আজিজুল হক, ড. আবুল আহসান চৌধুরী. শিশু সাহিত্যিক জোবেদা খানম ও কবি জলধর সেন, বিপ্লবী নেতা কাজী মিয়াজান, বাঘা যতীন, কলকাতার বিখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপধ্যায়, ছড়াকার নাসের মাহমুদ, সোহেল আমিন বাবু, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক রকিবুল হাসান প্রমুখ কুমারখালীর অহংকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ