ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে

কুমারখালীতে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ছোট-বড় মাছ বিলুপ্তির পথে। হারিয়ে যাওয়া ওই সব মাছের স্বাদ ভুলে যাচ্ছে মানুষেরা। কয়েক বছর আগেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ডোবায় এবং ফসলী ক্ষেতে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এক শ্রেণির মানুষ মাছ ধরাকে তাদের পেশা হিসেবে নিয়েছিল। কিন্ত যত্রতত্র মাছ আর পাওয়া না যাওয়ায় সে সকল জেলেরা বর্তমানে বিভিন্ন রকম পেশা বেছে নিয়েছে। বিলুপ্ত হওয়া মাছের মধ্যে রয়েছে, ঢেলা, পাবদা, দাড়কানা, মোয়া, কৈ, রয়না, গোরপে, তিন কাঁটা আইড়, তেলটুপি, গাড্ডু টাকি, ভেদা, মাগুড়, বড় শৈল প্রভৃতি। ইদানিং পুঁটি, জাতটাকি, চিংড়ী, তিতপুঁটি, টেংরা, জিয়ল শিং, বালিয়া, চান্দা, বাইম মাছগুলোও হাট-বাজারে তেমন চোখে পড়েনা। মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলেও দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের প্রায় সকল পরিবারের প্রধান পেশা ছিল গ্রামের চারপাশের বড় বড় চারটি বিলের মাছ ধরা আর পালকী বহন করা। কিন্ত এখন বিলে পানি না থাকায় আর মাছের সেই জৌলুস নেই, পালকীর দিনও গেছে। গ্রামের ৯০ বছর বয়সের বৃদ্ধ সলেমান শেখ, কিশোর বয়স থেকেই মাছ ধরাকে সে পেশা হিসেবে নিয়েছিল। বিল থেকে মাছ ধরে হাট-বাজারে বিক্রির মাধ্যমেই সলেমান শেখ তার সংসার চালাতো। তিন মেয়ে-চার ছেলেকে সে মাছ ধরেই বড় করেছে। ১২/১৪ বছর সলেমান শেখ মাছ ধরেনা বলে জানায়। তার মতে- দেড় যুগের মধ্যে কমপক্ষে ১০-১২ প্রকারের দেশীয় প্রজাতির মিঠা পানির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার কারণ হিসেবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, দেশীয় প্রজাতির মাছ যত্রতত্র ডিম ছেড়ে বংশ বিস্তারের মাধ্যমে বড় হয়, কিন্তু গ্রামের গরীব ও নিম্নবিত্ত মানুষেরা শুষ্ক মওসুমে সামান্য পানি থাকা ডোবাগুলো সেচে সকল মাছ নির্বিচারে ধরার ফলে মাছের বংশ বিস্তারে চরম বিঘ্ন ঘটে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ