ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছেউড়িয়ার একতারা কুটির শিল্প

আধুনিক প্রযুক্তির অসংখ্য বাদ্যযন্ত্রের মাঝে যে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রটি এখনো আদি ও অকৃত্রিমভাবে টিকে আছে সেটি হলো একতারা। আর কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহের মাজারকে কেন্দ্র করে এই একতারায় পেয়েছে ভিন্ন রূপ। একতারা বানানোর কাজ করে বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে শত শত নারী-পুরুষ। উপজেলার ছেউড়িয়া, বিশ্বাসপাড়া, মন্ডলপাড়া, জয়নাবাদ এলাকার শত শত নারী-পুরুষ এই কাজ করে হয়ে উঠেছেন আত্মনির্ভশীল। তবে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে এই বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে লাভ কিছুটা কম হচ্ছে বলে জানালেন কারুশিল্পীরা। একতারা বাজায়য়োনা-দোতারা বাজায়য়োনা, একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল, একতারাটা হাতে লইয়া হব বৈরাগি, তোমারো লাগি- এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে একতারা নিয়ে। এখনো এমন অনেক গান রয়েছে যা একতারা ছাড়া চিন্তাই করা যায় না।
এই বাদ্যযন্ত্রটির সুরের মূর্ছনায় আজও যেন পাওয়া যায় মাটির ঘ্রাণ। আর এই বাদ্যযন্ত্রকে কেন্দ্র করে কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে একতারা কুটির শিল্প। এলাকার শত শত যুবক একতারা তৈরি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। আর কারিগরদের তৈরি এই একতারা শুধু কুষ্টিয়া জেলায় নয়, ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। এদিকে, বিক্রেতারা জানান, দিনদিন বাড়ছে একতারার চাহিদা। সরেজমিনে দেখা যায়, ওই এলাকার সামাদ শেখ ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন বিভিন্ন আকৃতির চামড়া কাটছেন। পাশে বসে ছোট ছেলে ইমরান শেখ ও ছেলের স্ত্রী নূরজাহান খাতুন একতারায় রং দিচ্ছেন। পাঁচজন শ্রমিক একতারায় নকশা, বাঁশের ছোর, কান ও মুঠো তৈরিতে ব্যস্ত। শহরের গড়াই নদীর পারে আদর্শপাড়ার শর্তবর্ষী শেখ সামাদ আলী স্বাধীনতার পর থেকে একতারা তৈরি করে আসছেন। একই কাজ করে সামাদ আলীর তিন ছেলে আমজাদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও ইমরান শেখ জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের তৈরি একতারা আর কাঠে খোদাই করা লালনের প্রতিচ্ছবি প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। একতারা তৈরির মূল উপাদান বাঁশ, কাঠ আর চামড়া। তবে লাউয়ের বশ ও নারকেলের মালায়ও একতারা তৈরি হয়। মুলি বাঁশ মূলত পাশের জেলা ঝিনাইদহ, যশোর থেকে সংগ্রহ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ