ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশী মুরগী পালন করে স্বাবলম্বী তিন হাজার নারী

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : হাজল পদ্ধতিতে মুরগী পালন -সংগ্রাম

আমিষসহ পুষ্টি চাহিদা মেটাতে যখন বাইরে থেকে আমদানি করা বিভিন্ন প্রজাতির মুরগী পালন হচ্ছে, তখন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে হাজল পদ্ধতিতে দেশী জাতের মুরগীর ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন ও পালন করে এখন স্বাবলম্বী কুমারখালী উপজেলার অন্তত ৩ হাজার নারী। তাদের পরিবারের জন্য আমিষসহ পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে এখানকার উৎপাদিত ১হাজার ২৬টন দেশীয় মুরগী ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের পাইকারী বাজারগুলোতে যাচ্ছে প্রতি বছরেই। আর তা থেকে আয় হয় ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। গৃহস্থালীর পাশাপাশি এখানকার প্রতিটি নারী প্রতি মাসে আয় করছেন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা, কাঞ্চনপুর, শ্যামপুর, পাইকপাড়া, ইচ্ছাখালী ও শিংদহ নিয়ে গঠিত উপজেলা কৃষি-সম্প্রসারণ সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাঁওতা ব্লক। এখানে দ্বায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন নিজ গবেষণালব্ধ চিন্তা-চেতনায় এলাকার ২ হাজার ৮’শত ৫০টি কৃষক পরিবারের অন্তত ৩ হাজার মহিলাকে নিয়ে গড়ে তোলেন ছয়টি কৃষি পাঠাগার। তাঁদেরকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাজল পদ্ধতিতে দেশী জাতের মুরগীর ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরী ও লালন-পালনে উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান তৈরী এবং খাবার ব্যবস্থাপনায় উপযুক্তরুপে গড়ে তোলেন তিনি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের প্রত্যেকের বসতবাড়ির উঠানে একটি করে মুরগীর ঘর ও বসবাসরত ঘরের মধ্যে ডিম ফোটানোর জন্য একটি-দুটি করে হাজল তৈরী করা হয়। যেখানে প্রতিমাসে প্রত্যেকটি বাড়িতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে। সেগুলো লালন-পালনের মধ্যদিয়ে ২ হাজার ৮’শত ৫০টি বাড়িতে প্রতিবছরে গড়ে উৎপাদন করা হচ্ছে ১ হাজার ২৬ টন দেশী জাতের মুরগী। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীরা এলাকা থেকে মুরগীগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যান রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে। বিক্রি করে প্রতিবছরে আয় করছেন অন্তত দুই কোটি টাকা। সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা কম্পোনেন্ট (আইএফএমসি) প্রকল্পের প্রযুক্তিতে মৎসচাষ-সম্প্রসারণ, ছাগলপালন, ইউএমএস পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ, খামারজাত সার তৈরী, ফলগাছ ব্যবস্থাপনা ও খামারের উপাদানের উপজাতের ব্যবহারসহ নানাবিধ কার্যক্রমে এখানকার নারীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করছেন পুরুষেরাও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ