ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাখা পল্লী মটমালিয়াট

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : তালের পাখা তৈরী -সংগ্রাম

প্রচন্ড গরমে তালের পাখা নিয়ে একটি কথা অনেকের মুখে শোনা যায়। ‘তালের পাখা প্রাণের সখা’ শীতকালে দেয় না দেখা, গরমকালে পরম পাখা’। আর সেই হাত পাখা নিজ বাড়িতে তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মট-মালিয়াট গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা। তাই গ্রামটির নাম কখনো পাখা গ্রাম আবার কখনো পাকা পল্লী নামে ডাকা হয়। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত পরিবারের ছোট বড় প্রায় সব সদস্য পাখা তৈরীতে ব্যস্ত থাকে। দেশ জুড়ে বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং ও প্রচন্ড গরমের কারণে গত বছরের তুলনায় এবার পাখার চাহিদা বেড়েছে অনেক বেশি। পাখা তৈরির উপকরণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে এবার পাখার দাম বেড়ে গেছে। গ্রামে গেলে দেখা যায়, গ্রামজুড়ে ৬’শ নারী পুরুষ কেউ পাখা রঙ করছে, কেউবা হাতল অথবা তালপাতার দু’পাশে বাঁশের খিলে সুতা বাঁধায় ব্যস্ত রয়েছে। পাখা তৈরী শ্রমিকদের কয়েকজন জানান, তাল গাছের ১’শ পিস পাতা ৫০০ টাকা দরে করলে ৬’শ পিস পাখা হয়। পাখার হাতল তৈরীর জন্য ২০০ টাকা দরে এক পিস বাঁশ কিনলে ‘শ থেকে দেড়শ পিস হাতল হয়। হাতলের সঙ্গে তার, বাঁশের খিলের সঙ্গে সুতা দিয়ে বাঁধন এবং রঙ খরচ হয় প্রতি ১’শ পিস পাখার জন্য ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই শ্রমিক আবার নিজেরাই মালিক। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১ হাজার পাখা তৈরী হয়ে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ