ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হাইব্রীড ফসলে চাষীরা ঝুঁকছে

কুমারখালিতে কৃষি ব্যবস্থায় ঘটছে পরিবর্তন। পাশাপাশি হাইব্রীড এবং অর্থকরী স্বল্প সময়ের ফসলের প্রতি দিন দিন চাষীরা ঝুঁকছে। অন্যদিকে কম মুনাফা ও ঝামেলা যুক্ত ফসলের চাষ পাচ্ছে হ্রাস। কুমারখালি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আঁখ, ভূরো স্থানীয় বোনা আউস ও আমন ধান, মিষ্টি আলু, দেশীয় প্রজাতের বিভিন্ন ফসলের চাষ প্রতি বছরেই কমছে। অন্যদিকে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান, গম, পান, ওল, শাক ভূট্টা ও বিভিন্ন সবজীর চাষ পাচ্ছে বৃদ্ধি।
জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে উপজেলায় মশুর ডাল চাষ হয়েছিল ১ হাজার ৬’ শত ৬০ হেক্টর। চলতি বছরে সেটা কমে ১ হাজার ২ ’শত ৯০ হেক্টর পৌছেছে। মটর আবাদ গত বছরে ২ ’শত ৭৫ হেক্টর হলেও এবার কমে ১’শত ২ হেক্টরে নেমেছে। ছোলা গত বছরে ৮০ ও এ বছরে ২৪ হেক্টর আবাদ হয়েছে। খেশারী এক বছরের ব্যবধানে গত বছর ৮’শত ৫০ হেক্টর আবাদ হলেও এ বছর ৪ ’শত ৭০ হেক্টর চাষ হয়েছে। অন্য দিকে সবরী কলা এই অর্থ বছরে ৬’ শত ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এ বছর ৫ ’শত ৯০ হেক্টরে নেমে এসেছে। আঁখ চাষ হ্রাস পেয়েছে সব চেয়ে বেশি। গত বছর ২ হাজার ১ ’শত ৪০ হেক্টরের আবাদ হলেও এবার ১ হাজার ৬ শত ২০ হেক্টরে নেমে এসেছে। এছাড়াও পাট এক বছরের ব্যবধানে ৩ ’শত হেক্টর কমে গেছে। অন্যদিকে বনজ বৃক্ষের বাগান হ্রাস পেয়ে বাড়ছে ফলজ বৃক্ষের বাগান। তবে অর্থকরী ফসল হিসেবে পানের বরোজ বাড়ছে প্রতি বছর। এ ব্যাপারে উপজেলার কেশবপুরের সবজী চাষী আঃ বারী, আতিয়ার রহমান, দেলোয়ার হোসেন জানান, আঁখ বিক্রিতে ঝামেলা, গুড় তৈরীতে বাধা, পাটের দাম কম, ডাল জাতীয় ফসলে মুনাফা কম ইত্যাদি কারণেই ধান, গম, ভূট্টা ও সবজী চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা জানায়, অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে বেশি লাভের ফসলের জন্য চাষে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উপজেলায় রেকর্ড পরিমান ভূট্টা ও হাইব্রীড ওল চাষ বেড়েছে। খাদ্য ঘাটতির ক্ষতিপূরণের জন্যই ধান, গম, পান, শাক, ভূট্টা ও সবজীর আবাদ বাড়ছে বলে কৃষি বিভাগ মনে করে। এদিকে বিষ বৃক্ষ তামাক চাষে চাষীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ