ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দাকোপে দেড়মাস পর প্রকাশ্যে আসলো শিশু নির্যাতনের এক নিষ্ঠুর কাহিনী

খুলনা অফিস : খুলনার দাকোপে মাদরাসার শিক্ষক অমানুষিক নির্যাতন ও নির্দয়ভাবে পিটিয়ে এক শিশুকে রক্তাক্ত করার ঘটনাটি দেড়মাস পর অবশেষে মোবাইল হেল্প লাইন ১০৯৮ এর সহায়তায় প্রশাসনের নজরে এসেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। উপজেলা প্রশাসন ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি করেছে। দাকোপের সুতারখালী কাছারি বাড়ি আশরাফুল উলুম মাদরাসায় এ অমানুবিক ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিশু ও তার পরিবার জানায়, হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান রায়হান সানা (১০) মাদরাসায় কুরআন (নাজেরা) শিক্ষা গ্রহণ করছে। শিক্ষক হাফেজ মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ অত্যন্ত বদ মেজাজি ছাত্রদের তুচ্ছ কারণে প্রতিনিয়ত মারপিট ও নির্যাতন করে থাকে। ঘটনার দিন গত ৭ রমযান ২৩ মে পড়ার বিষয় নিয়ে রায়হানকে বেঁধে বেত দিয়ে বেদম মারপিট করে রক্তাক্ত করে। এক পর্যায়ে শিক্ষকের পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেও নিস্তার পাইনি বলে জানা যায়। রক্তাক্ত জখম শিশুটিকে দিয়ে ওই অবস্থায় পাইপ টানার মত ভারী কাজে বাধ্য করে ওই শিক্ষক। শিশুটির নানী ওই মাদরাসায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করে। নাতীর রক্তাক্ত শরীরে কাজ না করানোর অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষকের হাতে পায়ে ধরে নিজে সেই কাজ করে দিতে চায়। কিন্তু শিক্ষকের মন গলেনি। এ অবস্থায় শিশুটিকে ১৫ দিন সেখানে আটকে রাখে। শিশুটির পিতা ওই গ্রামের রফিকুল সানা ফকিরহাট থেকে দিন মজুরীর কাজ শেষে ঘটনার ১৫ দিন পর বাড়ি ফিরে সব জেনে মাদরাসায় গিয়ে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে। সন্তানের উপর অমানুষিক নির্যাতনের বিচার চেয়ে তিনি অনেকের দ্বারে দ্বারে গেলে শিক্ষক এবং মাদরাসার ক্ষতির আশংকায় তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এমন অবস্থায় গত ৫ জুলাই তিনি শিশু সহায়তার ফোন ১০৯৮ নাম্বারে কল করে বিষয়টি জানায়। প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা দাকোপ উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। তারই আলোকে গত সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম শিশুটিকে তার দপ্তরে হাজির করলে নির্দয় ঘটনাটি প্রকাশ পায়। দেড়মাস আগের আঘাতের চিহ্ন শিশুটির শরীরে দেখে উপস্থিত সকলে হতবাক হয়ে যায়। শিশুটির পাছা ও পায়ের বিভিন্ন অংশে মোটা দাগের চিহৃ পড়ে আছে। নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষনিক বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড এবং ওসি দাকোপ থানাকে পৃথকভাবে নির্দেশ দেন।
নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অমানুষিক এই নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তকে কোন মতে ছাড় দেয়া হবে না। তবে, অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মাওলানা হেদায়েত উল্লাহর কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ