ঢাকা, রোববার 15 July 2018, ৩১ আষাঢ় ১৪২৫, ১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দলীয় কোন্দলে বেকায়দায় আ‘লীগ টেনশনমুক্ত বিএনপি

উপরে বাঁ থেকে- আব্দুর রউফ, বেগম সুলতানা তরুন, নুরুল ইসলাম আনছার প্রামানিক, জাহিদ হোসেন জাফর, আব্দুল মান্নান খান, মাঝে- মাওলানা শামসুদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, অভি চৌধুরী, সুফি ফারুক, সেলিম আলতাফ জজ, নিচে- সদর উদ্দিন খান, ফারহান খান, রানা সিদ্দিকী, রোকনুজ্জামান রোকন ও মিজানুর রহমান বিটু

কুমারখালীতে সরকারি জোটে দলীয় গ্রুপিং-কোন্দল এখন চরমে। ফলে বেকায়দায় রয়েছে নেতারা। পাশাপাশি অনেকটাই টেনশনমুক্ত বিএনপি। মিথ্যা হয়রানীমূলক রাজনৈতিক মামলা দিয়েও বিএনপি জোটকে দমানো যাচ্ছেনা। বিএনপি জোটের অন্যতম শরীক জামায়াতে ইসলামী ও সরকারী জোটের জাসদ (ইনু) পর্যবেক্ষকের ভুমিকায় আছে। তারাও এমপি প্রার্থী মনোনয়ন দিবেন।  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখানে আওয়ামীলীগের নবীন-প্রবীন মিলে এগারো জন, বিএনপির দুইজন, জাসদ ও জামায়াতে ইসলামীর একজন সম্ভাব্য প্রার্থী গণসংযোগ করছেন। আওয়ামীলীগের নেতারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এনিয়ে দলীয় গ্রুপিং এখন তুঙ্গে। বর্তমান এমপি আব্দুর রউফ, সাবেক এমপি সুলতানা তরুন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মান্নান খান, নবীনদের মধ্যে শিল্পপতি মিজানুর রহমান বিটু, প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় নেতা অভি চৌধুরী, সাবেক এমপি আনজুমান জামিলের ছেলে কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা কমিটি সদস্য মাসুদ জামিল খান ফারহান, আ‘লীগের কেন্দ্রীয় আইন উপ কমিটির সদস্য এ্যাডঃ রানা সিদ্দীকী, সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়ার নাতী ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জজ, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রোকনুজ্জামান রোকন নৌকার মাঝি হতে চান।
ব্যানার বিলবোর্ড, ফেসবুক আর গেট-তোরণে আ‘লীগের নেতাদের বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। তবে মনোনয়ন যাকেই দেয়া হোক নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজয় অর্জনে ঘাম ঝরাতে হবে অতীতের থেকে বেশী। কেননা কুমারখালীর মাটি বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি। প্রচার প্রচারণায় সুফি ফারুক ও জাহিদ হোসেন জাফর বেশ অগ্রগামী। বসে নেই বর্তমান এমপি আব্দুর রউফও। আলীগের নতুন মুখ এলে জাহিদ হোসেন জাফর ও সুফি ফারুক সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য বলে কর্মীদের মত। আব্দুর রউফ, সুলতানা তরুন, রোকনুজ্জামান রোকন, মান্নান খান রুটিন করে গনসংযোগ করছেন। মেহেদী রুমী ইদানিং বেশ সক্রিয়। বরাবরের ন্যায় ভোটারদের কাছে ছুটছেন আনছার প্রামানিকও। জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী এই আসনে প্রার্থী দিবেন। উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা শামসুদ্দিন আহমেদ প্রার্থী হবেন। এখানে বিএনপির মেহেদী রুমী ও আনছার প্রামানিকের মধ্যে দলীয় গ্রুপিং থাকলেও বর্তমানে সেটা বেশ দূর্বল। বিএনপির সাধারণ ভোটাররা এই আসনে জোটের প্রার্থী পরিবর্তন দেখতে চান। এ আসনে আ‘লীগের প্রার্থী বারবার পরিবর্তন হলেও বিএনপির পরিবর্তন না হওয়ায় দলে এক ঘেয়েমী বিরাজমান। জামায়াতের সাথে মেহেদী রুমীর স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে সম্পর্ক খারাপ। জামায়াত মেহেদী রুমীর পক্ষে কাজ না করার ইংগিত দিচ্ছে।  এদিকে কুমারখালীর রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলাগুলোর অধিকাংশই দেখভাল করছেন জেলা বিএনপি এবং আনছার প্রামানিক। কুমারখালীর তৃণমূল নেতাকর্মীরা এবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আনছার প্রমানিককে চান। তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন, তার প্রমান উপজেলা নির্বাচনে দেখা গেছে। তাকে হারিয়ে দেয়া হয় ভোট ডাকাতি করে। কেন্দ্র আনছার প্রামানিক বাদে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে জয়ী হওয়া দুরহ হবে। বিশ দলীয় জোটের শরীকরাও এমপি প্রার্থী পরিবর্তন চাচ্ছেন।
আওয়ামীলীগের মত ব্যাপক কোন্দল বিএনপিতে নেই। সে কারণে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি মেহেদী আহমেদ রুমী ও স্থানীয় কর্মীদের আশ্রয় স্থল নুরুল ইসলাম আনছার প্রামানিক। এখানে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক আওয়ামী জোটের জাসদ ইনু গ্রুপের রোকনুজ্জামান রোকন ও জামায়াতের মাওলানা শামসুদ্দিন আহমেদকে ম্যানেজ করেই আওয়ামীলীগ বা বিএনপির প্রার্থীকে নির্বাচন করতে হবে। কেননা রোকনুজ্জামান রোকন ও মাওলানা শামসুদ্দিন আহমেদ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন। জামায়াত ও জাসদের ভোট এই আসনে ভোটের ভারসাম্য রাখে। বর্তমানে কে কোন দল থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন সেই আলোচনা সবখানে। সব মিলে কুমারখালী-খোকসার রাজনৈতিক  হালচালের মাঠ এখন সংসদ নির্বাচনমুখী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ