ঢাকা, শনিবার 17 November 2018, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঢাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর আবারো ‘ছাত্রলীগের’ হামলা

সংগ্রাম অনলাইন : কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদ ও গ্রেপ্তার ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আবারো হামলা চালিয়েছে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’।

আজ রোববার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধনরত অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন এ হামলা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১২টার দিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে অন্তত তিনজন শিক্ষক ও ছয়জন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে।

শারীরিক নির্যাতনের শিকার তিন শিক্ষক হলেন- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক খান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মাদ তানজিমুদ্দিন খান।

অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাস শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কারো জন্য নিরাপদ নয়। সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ জানানোর কোনো অধিকার নেই।

এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগের ব্যাপারে যোগযোগা করা হলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন তা অস্বীকার করেন।

তিনি দাবি করে বলেন, এখানে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি ছিল আন্দোলনকারী দু’পক্ষের সংঘর্ষ।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন দাবিকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেছেন, কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়নি। তারা হামলার শিকার হয়েছেন।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসসহ (বিসিএস) সকল ধরনের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারি চাকরিতে সকল ধরনের কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপর জারি না হওয়ায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ব্যানারে সারাদেশে শিক্ষার্থীরা আবারো আন্দোলনে নামলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বার বার হামলার শিকার হয়।

কোটা সংস্কারের চলমান দাবি ও ছাত্রলীগের হামলার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, হাইকোর্টের রায় থাকায় মুক্তিযুদ্ধা কোটা সংস্কার করা সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলপাদেশের সরকারি চাকরিতে ৪৪ শতাংশ মেধায় এবং ৫৬ শতাংশ বিভিন্ন কোটার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০ শতাংশ, নারী কোটায় ১০ শতাংশ, জেলা কোটায় ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটায় ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী কোটায় ১ শতাংশ। সূত্র: ইউএনবি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ