ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নেতৃত্ব থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে অপসারণে আইন সংশোধনের পাঁয়তারা চলছে

স্টাফ রিপোর্টার : দলীয় নেতৃত্ব থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে অপসারনে সরকার গণপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধনের পাঁয়তারা করছে বলে আশংকা বিএনপির। গতকাল রোববার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আশংকার কথা জানান। তিনি বলেন,  সরকার দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুটিল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো- বিএনপি গঠনতন্ত্রে যে ধারা বিলুপ্ত করেছে তার সঙ্গে মিল রেখে অনুরুপ একটি ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্র তৈরি করা। এরপর ওই ধারার দোহাই দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া  ও তারেক রহমানকে দলের নেতৃত্ব থেকে সরানোর পদক্ষেপ নেবে তারা। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বিলপ্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অপপ্রচার ও  সরকারি ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুর কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে  নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণার জন্য কী আরপিও সংশোধন করা হচ্ছে বলে মনে করেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, সেই আশংকাই তো আমরা করছি।
দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে সংসদে গত ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তার বক্তব্য উদ্ভট, অলীক ও  অন্তঃসারশূণ্য। শুধু মাত্র প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অসত্য, বানোয়াট অপপ্রচার। আমরা মনে করি এই বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক ও সুদুরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ।
আমি বলতে চাই, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তন গত ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের দ্বারা সংশোধিত। যা পরবর্তিতে নির্বাচন কমিশনের জমা দেয়া হয়। আমাদের দলের দুর্নীতি বিরুদ্ধ অবস্থান স্পষ্টতর করার জন্য কাউন্সিলে দলীয় গঠনতন্ত্রের অংশ দলের সদস্য পদের আবেদনপত্র সংশোধন করে ‘আমি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবো না’- এই বাক্যটি সংযোজন করা হয়। আমাদের জানা মতে কোনো দলের গঠনতন্ত্রের সদস্যপদ লাভের জন্য এমন ঘোষণা দেওয়ার বিধান নেই।
প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত থেকে দুর্নীতির দায়ে ১৩ বছরের সাজা পেয়েও আদালতকে রাজনৈতিক প্রভাবিত করে আওয়ামী অবৈধ সরকারের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এখনো সংসদে, মন্ত্রিসভা এবং আওয়ামী লীগে তার সদস্যপদ এখনো বহাল রেখেছে। এছাড়াও মহীউদ্দিন খান আলমগীর এখনো তার সদস্যপদ বহাল রেখেছেন।
এগুলোতে কোনো দোষ নেই, কোনো পাপ নেই, কোনো অন্যায়  নেই। একমাত্র ত্রুটি হচ্ছে বিএনপি ও তার নেত্রীকে একটি সাজানো মামলা সাজা আপনারা দিয়েছেন। সেজন্য তাকে কি করে রাজনীতি থেকে দূরে সরানো যাবে সেই প্রক্রিয়ায় আপনারা নেমে পড়েছে। ষড়যন্ত্রটা ছিলো ১/১১ তে মাইনাস টু থেওরি। এখন উনারা মাইনাস ওয়ান করার চেষ্টা করছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, যখনই নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে নেওয়ার পর তাদেও (সরকার) যে আশা ছিলো-বিএনপিকে ভেঙে ফেলতে সক্ষম হবে সেটাতে ব্যর্থ হয়েই এখন তারা ভিন্ন কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে।
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে এতোই দেউলিয়া হয়ে গেছে। এদের মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই। তাকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন যন্ত্রকে ব্যবহার, গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে, সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনীতিতে টিকে থাকতে হচ্ছে। সেজন্য সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলকে কি করে ক্ষতিগ্রস্থ করা যায়, মামলা-মোকাদ্দমা দিয়ে বিভিন্ন রকমের অপপ্রচার করা যায় সমস্ত কৌশল তারা নিয়েছে। যে কাজটি করেছিলো ১/১১ ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিন সরকার। তারাও কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলো।
সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি বার বার করে বলছি এই নোংরা পথে, এই অনৈতিক পথে হাটবেন না। সোজা পথে হাটুন, সোজা পথে হেটে গণতন্ত্রকে সত্যিকার অর্থে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়ার যে সংগ্রাম করে আসছি আমরা  এবং জনগন, সেই সংগ্রামে শরিক হোন।
দলের গঠনতন্ত্রে ৭ ধারা পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর ও অলীক’ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপিকে বিপর্যস্ত করতে ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে শেখ হাসিনা (প্রধানমন্ত্রী)। ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের যে কায়দায় বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করেছিলো সেই একই কায়দায় এখন পুনরায় বিছানো হচ্ছে ষড়যন্ত্রের জ্বাল। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করার কথা আমরা শুনতে পারছি। এরই অংশ হিসেবে সরকারি সংস্থাগুলো নানামুখী তৎপরতায় যুক্ত হয়ে পড়েছে।
এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার তার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংক্রান্ত কিছু উদ্দেশ্যপূর্ণ রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রচার  ও প্রকাশ করার জন্য মাঠে নেমেছে। আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। আমার কাছে সেই কাগজ আছে। এটা গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার আগে একটি বিশেষ সংস্থা সাংবাদিক ভাইদের অনেকে ডেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই কাগজটি সরবারহ করেছেন। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার আগেই আমরা সেই কপি পেয়েছি।
মির্জা ফখরুল বলেন,  এটা জনগনের কাছে যেমন পরিষ্কার, আমাদের কাছেও পরিস্কার যে বিএনপিকে ডিসমেন্টাল করার জন্য, বিএনপিকে সব দিক দিয়ে বেকায়দায় ফেলে দেবার জন্য তারা এই অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সরকারের কোনো অশুভ নীল নকশার অংশ না হবার জন্য আমি বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। দেশের ১৬ কোটি মানুষ এতো বোকা  নয় যে, সরকারের এসব ছল-চাতুরি বুঝতে পারে না। সরকারের উচিৎ হবে এসব নোংরা কৌশল থেকে বিরত হয়ে সোজা পথে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সর্বোচ্চ আদালত থেকে দুর্নীতির দায়ে ১৩ বছরের সাজা পেয়েও আদালতকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে আওয়ামী অবৈধ সরকারের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এখনো সংসদে, মন্ত্রীসভায় এবং আওয়ামী লীগে তার সদস্যপদ ও নেতৃত্ব বহাল রেখেছেন। অথচ সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিয়ে কাল্পনিক সিন্ডিকেট-সংবাদ পরিবেশন করাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ