ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজালাল বিমানবন্দরে ফের অগ্নিকাণ্ড ॥ ধোঁয়ায় আতঙ্কে হজযাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার : এক বছরের ব্যবধানে আবার অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এবার বৈদ্যুতিক গোলযোগকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল রোববার বিকালে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ২-এ দোতলার ইমিগ্রেশন অফিসের কাছে ধোঁয়া দেখার পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে; খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস যায় আগুন নেভাতে। বিকাল ৬টার দিকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের উত্তরা স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ৬টা ১০ মিনিটে বলেন, “আমাদের সাতটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে।”
ওসি ইমিগ্রেশন (জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার) তাসমিন আশরাফ সোয়া ৬টার দিকে বলেন, “পুরো বিমানবন্দর ধোঁয়ায় ভরে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ইমিগ্রেশনের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।” কোথায় আগুন লেগেছে কিংবা কোন স্থান থেকে ধোঁয়া আসছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু তখন জানাতে পারেন নি তিনি।
এরপর পৌনে ৭টার দিকে সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, “সব কিছু স্বাভাবিক। এয়ারলাইন্স চলাচল ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।”
আগুনের বিষয়ে তিনি বলেন, “ইমিগ্রেশন পর লবিতে যেখানে যাত্রীরা বসেন সেখানে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। কোথাও কোনো আগুন দেখা যায়নি। ধোঁয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।” তবে এই ধোঁয়ার উৎস কী, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেন নি তিনিও।
৭টার দিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বপালনকারী সংস্থা এপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আগুন দেখা যায়নি। ইমিগ্রেশনের পর লবিতে স্মোক দেখে অনেকে ভয় পেয়েছেন।”
এই ধোঁয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ধারণা করছি, কোথাও বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ধোঁয়া দেখা যেতে পারে।”
এরপর সোয়া ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, “বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে সিলিংয়ে আগুন লাগে, সেখান থেকে ধোঁয়ার উৎপত্তি হয়।” “এখন সেই সিলিংগুলো খুলে ধোঁয়ার উৎপত্তিস্থল জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়ের কিছু নেই, কিছুক্ষণের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে,” বলেন তিনি।
গত বছরের ১১ অগাস্ট শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এ আগুন লেগেছিল। তাতে প্রায় দুই ঘণ্টা বিমান উড্ডয়নসহ টার্মিনাল ভবনে কার্যক্রম বন্ধ থাকে। অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণক্ষয় না হলেও ৩৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। গত দুই বছরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দরটিতে অন্তত ছয় বার অগ্নিকান্ড ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টার্মিনালের ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সামনে আগুনের ধোঁয়া সৃষ্টি হয়। সেখানে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ইমিগ্রেশন কাউন্টারটি হজযাত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ধোঁয়া দেখে হজযাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় বিমানবন্দর টার্মিনালের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
তবে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুকের দাবি, ‘কোনও আগুন লাগেনি, ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমরা সতর্কতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। বিমানবন্দরের ফায়ার ইউনিট ছাড়াও বাইরে থেকে ফায়ার সার্ভিস এসেছিল। এখন বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।’
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ছোট আগুন থেকে সব জায়গায় ধোঁয়া ছড়ায়। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকের মন্তব্য, ‘ইমিগ্রেশনের বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো অনেক পুরনো হওয়ায় সেগুলোতে কোনও ত্রুটি থাকতে পারে। আমরা সেসব বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করে দেখছি। পাশাপাশি বিমানবন্দরের লোকজনও পরীক্ষা করছেন।’
এবারই প্রথম নয়, এর আগেও শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন লেগেছিল। ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর বিমানবন্দরের দ্বিতীয় তলার ওসি ইমিগ্রেশন (বহির্গমন) কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ড হয়। নিজেদের প্রচেষ্টায় তা নির্বাপণ করেন বিমানবন্দরের কর্মীরা। সবশেষ গত বছরের ১১ আগস্ট বিমানবন্দরের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় এয়ার ইন্ডিয়ার কার্যালয়ে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের প্রায় দ্ইু ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় প্রায় তিন ঘণ্টা বিমানবন্দরের বহির্গামী সব ফ্লাইটের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ