ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার দলীয় সিন্ডিকেটের কবলে কুরবানির অস্থায়ী পশুর হাট

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : রাজধানীর কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট সিন্ডিকেট মুক্ত হতে পারছে না। এবারও সরকারদলীয় সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে একচ্ছত্রভাবে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা লোক দেখানো কৌশলী টেন্ডারের মাধ্যমে কুরবানির পশুরহাট ইজারা নিলেও এ বছর আরেক ধাপ এগিয়ে কোন রকম টেন্ডার ছাড়াই হাট বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। এ কারণে সিটি করপোরেশন টেন্ডার আহবান করলেও তাতে অংশ নিচ্ছেন না নেতারা। এমনকি অনেকে দরপত্র কেনার পরও তাদের জমা দিতে দেয়া হয়নি। এতে বিপুল অংকের রাজস্ব হারাতে যাচ্ছে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবার মোট ২৩টি কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১৩টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশন ১০টি। দুই সিটি করপোরেশন গত বছর ২০টি হাট ইজারা দিয়েছিলো। ওই বছর সবকটি হাটই সরকারি দলের নেতারা পেয়েছিলেন। টেন্ডারের মাধ্যমে হওয়ায় তাতে সরকার রাজস্ব পেয়েছিলো। কিন্তু এ বছর টেন্ডার আহবান করলেও তাতে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি দরপত্র কেনার পরও জমা দিতে পারেননি অনেকে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১৩টি হাটের বিপরীতে টেন্ডার আহবান করলেও প্রথম দফায় সাতটি হাটের বিপরীতে কোন দরপত্রই জমা পড়েনি। আর বাকি ছয়টির মধ্যে দুটিতে মাত্র একটি করে দরপত্র জমা পড়ে।
ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যে সাতটি হাটের বিপরীতে কোন দরপত্র জমা পড়েনি ওইসব হাটের জন্য দরপত্র বিক্রি হয় ২০টি। এর মধ্যে মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন খালি জায়গার হাটের জন্য সাতটি, ব্রাদার্স ইউনিয়নের বালুর মাঠ ১টি, কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশেপাশের খালি জায়গার জন্য ১টি, আরমানিটোলা খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গার জন্য ৬টি, ধুপখোলা ইষ্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গার জন্য ১টি, দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গার জন্য চারটি দরপত্র কেনা হয়। তবে সাদেক হোসেন খোকা মাঠের আশেপাশের খালি জায়গার হাটের বিপরীতে কোন দরপত্র কেনেনি কেউ। এদিকে যে ছয়টি হাটের বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছে সেখানে অনেকে দরপত্র কিনে জমা দিতে পারেননি। কামরাঙ্গীরচর হাটের জন্য ৩টি দরপত্র কিনলেও জমা পড়ে মাত্র একটি, শ্যামপুরে হাটের জন্য ৫টি দরপত্র বিক্রি হলেও জমা পড়ে একটি, রহমতগঞ্জ হাটের জন্য ৪টি বিক্রি হলেও জমা পড়ে তিনটি, পোস্তাগোলা হাটের জন্য সাতটি বিক্রি হলেও জমা পড়ে পাঁচটি, ঝিগাতলার জন্য সাতটি বিক্রি হলেও জমা পড়ে পাঁচটি। তবে শাজাহানপুর হাটের জন্য চারটি দরপত্রের সবগুলোই জমা পড়েছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রথমে সাতটি হাটের টেন্ডার আহবান করলেও একটি হাটের বিপরীতে কোন দরপত্রই জমা পড়েনি। অন্যগুলোতেও অল্প সংখ্যক দরপত্র জমা পড়ে। ডিএনসিসি নতুন করে আরো তিনটি হাটের  টেন্ডার আহবানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিয়মানুযায়ী প্রথম দফা টেন্ডার আহবানের পর ইজারাদার না পাওয়া গেলে আরো দুবার টেন্ডার আহবান করা হয়। তিন দফা টেন্ডার আহবানের পর কোন ইজারাদার না পাওয়া গেলে তখন খাস আদায় করে সিটি করপোরেশন। এজন্য স্থানীয় লোকদের উপরই দায়িত্ব দেয়া হয়। তখন যা আয় হয় খরচ বাদে সে টাকা সিটি করপোরেশনে জমা হয়। কিন্তু বিগত বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে খাস আদায়ের ক্ষেত্রে যে প্রকৃত আয় হয় তার পুরোটা সিটি করপোরেশনের দেয়া হয় না। বেশিরভাগ অংশই দায়িত্বপ্রাপ্তরা ভাগবাটোয়ারা করে নেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, টেন্ডারে অংশ নিলে নির্ধারিত সরকারি দরের বেশি দর দিয়ে হাট ইজারা নিতে হয়। এজন্য এবার সিন্ডিকেট করে কোন দরপত্রই জমা দেয়া হচ্ছে না। যাতে এক সময় সিটি করপোরেশন বাধ্য হয়ে খাস আদায়ে যেতে বাধ্য হয়। তখন এসব ব্যক্তিরাই যোগসাজশ করে কম দরে হাট বাগিয়ে নিতে পারেন।
এদিকে ঢাকার দুই সিটির কোরবানির পশুর হাটের দরপত্রে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের বেশিরভাই সরকারি দলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর হাট নিতে টেন্ডারে অংশই নেয়নি। গত কয়েক বছর ধরেই এ অবস্থা চলে আসছে।
উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। জমা পড়া দরপত্রের কাগজপত্র ঠিক থাকলে শীর্ষ দরদাতাকে ইজারা দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কে কোনো দল করে, তা বিবেচ্য বিষয় না। অবশ্য সরকারি দরের চেয়ে কম দর হলে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হবে। এবার ৭টি হাটের মধ্যে একটিতে কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি বলেও জানান তিনি। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, নতুন করে আরো ৩টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই হাটগুলোর জন্য সিডিউল ও দরপত্র বিক্রির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। 
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। নিয়ম মেনে যদি সব হাট কোন দলের লোক পেয়ে যায়, তাহলেও কিছু করার নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ