ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সৌন্দর্যপ্রেমী নগরীর মানুষের মাঝে জনপ্রিয় হচ্ছে মৃৎশিল্প শো-পিস হস্তশিল্প সামগ্রী

মুহাম্মদ নূরে আলম: তৈজসপত্র হিসেবে নয়, ঘর সাজানোর সৌখিন সামগ্রী হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার বাড়ছে মৃৎশিল্প, শো-পিস হন্ডিক্রাফট জিনিসপত্রের। দিনবদলের সাথে পালাবদল করে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের মনের রুচি। ঘর সাজাতে আসবাবপত্রের যেমন বিকল্প নেই ঠিক তেমনি শোভা বাড়াতে শো-পিসও অন্যতম অনুষঙ্গ। এতেই দিনদিন বাড়ছে শো-পিসের কদর। বাঙালির সামাজিক জীবনের অন্যতম ঐতিহ্য মৃৎশিল্পের কদর এখন নগর জীবনেও দেখা যাচ্ছে। তবে তৈজসপত্র হিসেবে নয়, ঘর সাজানোর সৌখিন সামগ্রী হিসেবে। এক সময় বাংলাদেশের সব জায়গায় ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের তৈজসপত্র ব্যবহার করতে দেখা গেলেও এখন তা বিলুপ্তির পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও তৈজসপত্র হিসেবে মাটির তৈরি শানকি, হাঁড়ি, কলস, মটকা, গামলা ইত্যাদি ব্যবহারের প্রচলন কমে আসছে। মৃৎশিল্প, শো-পিস, হ্যান্ডিক্রাফট রপ্তানি নতুন নয়। তবে দিন দিন দেশ থেকে এ পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় হ্যান্ডিক্রাফট রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ১৫ শতাংশ। স্থানীয় বাজারেও এ পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে এক কোটি ৬৭ লাখ ডলারের হ্যান্ডিক্রাফট পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল এক কোটি ৪৪ লাখ ডলার। বাংলাদেশে হ্যান্ডিক্রাফট পণ্যের বর্তমান বাজার প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার। গত অর্থবছরে দেশ থেকে মোট তিন হাজার ৬৬৭ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পাঁচ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি।
মৃৎশিল্পের ইতিহাস: আমাদের দেশের অতি প্রাচীন শিল্পের নাম মৃৎশিল্প। মৃৎশিল্পের কারিগরেরা কুমার বা পাল নামে পরিচিত। যুগ যুগ ধরে এ পেশার সাথে জড়িতরা মাটি দিয়ে তৈজসপত্র তৈরির মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গভীর ভালোবাসা আর মমতা দিয়ে নিপুণ হাতের কারুকাজের মাধ্যমে তৈরি করেন নানা তৈজসপত্র। কুমারদের জীবন-জীবিকার উপকরণ হলো মাটি। এঁটেল মাটিকে কয়েকটি ধাপে কাজ করার পর একটি পণ্য ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় তাদের ভালোবাসার সেই জীবিকার জায়গাটি দিন দিন ফিকে হতে বসেছে। দিন যতই যাচ্ছে, ততই বাড়ছে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার। আর প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে মাটির তৈরী তৈজসপত্রের জায়গা দখল করছে অন্য সব সামগ্রী। একসময় আমাদের দেশে মাটির তৈরি নানা তৈজসপত্রের আধিক্য থাকলেও প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মাটির জিনিসপত্রের ব্যবহার কমে গেছে অনেকাংশে। তবে মাটির সব জিনিসই কিন্তু হারিয়ে যায়নি। মাটির তৈরী নানা পট-পটারি, ফুলদানি ও বাহারি মাটির হাঁড়ির কদর এখন আছে। শহরবাসী ঘর সাজাতে অনেকেই মাটির সামগ্রী ব্যবহার করেন, তার পরও এ পেশায় যারা আছেন তাদের চলছে দুর্দিন।
জানা যায়, ঢাকার দোহার উপজেলায় প্রায় ২০০ বছর আগে গোড়াপত্তন হয়েছিল এ শিল্পের। সেই থেকে আজো নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে টিকে থাকলেও আগের সেই জৌলুশ নেই প্রাচীন এ শিল্পের। উপজেলার অরঙ্গাবাদ, কার্তিকপুর, কাচারীঘাট, লটাখোলা, জয়পাড়া, দোহার ও মালিকান্দা এলাকায় পাল সম্প্রদায়ের লোকজন এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত আছেন দীর্ঘ দিন ধরে। কালের আবর্তে মাটির তৈরি এসব পণ্যের জায়গা দখল করে নিয়েছে সিরামিক, স্টিল, ম্যালামাইন, এলুমিনিয়াম, প্লাস্টিকসহ আরও অনেক পণ্য সামগ্রী। দাম কম হওয়ায় নগরবাসীর কাছে ঘর সাজাতে ফুটপাতের মৃৎশিল্প সামগ্রীর কদর দিন দিন বেড়ে চলেছে এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পণ্য। তাই অভিজাত পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ পরিবারের গ্রহিণীরাও এখন ঘর সাজানোর কাজে অন্যান্য সৌখিন জিনিসের সাথে মাটির তৈরি শো-পিসগুলো বেশ আগ্রহ নিয়েই ব্যবহার করছে। স্বদেশি পণ্যের প্রতি আবার যাদের আকর্ষণ চিরায়ত, তারা গৃহস্থালী সামগ্রী হিসাবে বাসা-বাড়িতে মাটির তৈরি থালা, বাটি, প্লেট, জগ, মগ, গ্লাস ইত্যাদি ব্যবহার করছেন।
মৃৎশিল্প তৈরির পদ্ধতি: আমাদের দেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্প হচ্ছে মাটির শিল্প। মাটির তৈরি শিল্পকর্মকে আমরা বলি মৃৎশিল্প। কারণ, এ শিল্পের প্রধান উপকরণ হলো মাটি। তবে সব মাটি দিয়ে যে এ কাজ হয় তা নয়। এ কাজে পরিষ্কার এঁটেল মাটির প্রয়োজন হয়। কেননা, এঁটেল মাটি বেশ আঠালো। আবার এঁটেল মাটি হলেই যে তা দিয়ে এই শিল্পের কাজ করা যাবে, তা-ও নয়। এর জন্য অনেক যত্ন আর শ্রম দরকার। দরকার হাতের নৈপুণ্য ও কারিগরি জ্ঞান। তবে কুমোরদের কাছে এসব খুব সহজ। তবে পরিতাপের বিষয়, আজকাল মাটির তৈরি জিনিস আগের মতো আর আমাদের চোখে পড়ে না। বলা যায়, বাঙালির ঐতিহ্য মাটির শিল্প যেন দিন দিন কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই মাটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহারে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।
মাটিকে প্রথমে পানি দিয়ে পায়ের সাহায্যে ভালোভাবে ছেনে নরম করতে হয়, সেই মাটি কখনো হাতের সাহায্যে আবার কখনো চাকার সাহায্যে তৈরি করা হয় মাটির তৈজসপত্র। যখন বানানো হয়, তখন খুবই নরম থাকে এগুলো। রোদে চার-পাঁচ দিন পর্যন্ত ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হয়। শুকানোর পর তাতে রঙ দিয়ে তারপর আগুনে পোড়াতে হয়। পোড়ানোর পরই ব্যবহার উপযোগী হয় মাটির তৈরি তৈজসপত্র। আর সবগুলোর কাজই করে থাকেন এ সম্প্রদায়ের নারীরা। মূলত এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন নারীরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কাজ করতে হয় তাদের। হাড়ভাঙা খাটুনির দিয়ে একেকটি পণ্য তৈরি করতে হয়। যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা দুরূহ।
মৃৎশিল্পের এসব পণ্য দিন দিন জনপ্রিয় হওয়ার কারণে প্রতিনিয়তই রমণীদের তা কিনতে ঢাকা কলেজের পাশে, ধানমন্ডি ৮ নম্বর সড়কে, কলাবাগান, বাড্ডা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের ফুটপাতে ভিড় করতে দেখা যায়। আর তাদের এই কেনাকাটায় মাটির তৈরি টব, ফুলদানি, মাটির ব্যাংক, মাটির ফল, পাখি, ঘোড়া, হাতি, রাধাকৃষ্ণ, মাটির তৈরি কানের দুল, হাতের চুড়ি ও ঝারবাতিসহ বিভিন্ন রকমের শো-পিস থাকছে। শুধু ঘর সাজানোর জিনিসই নয়, অনেক রমণীকে মাটির তৈরি গহনাও কিনতে লক্ষ্য করা গেছে। তবে এ ক্ষেত্রে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের সামনের দোকানগুলোতে সব সময়েই ভিড় লেগে থাকে। তবে মৃৎশিল্প সামগ্রী শুধু নারীরাই কিনছে তাই নয়, অনেক পুরুষ ক্রেতাও দেখা যায় এসব পণ্য সামগ্রীর সামনে।
সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন ফুটপাতের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক, মানুষের প্রতিকৃতি, হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি। যার দাম আকার ভেদে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে কলমদানি ও মাটির গহনা, মূল্য ৫০ থেকে ১০০ টাকা। তবে দাম যেমনই হোক না কেন ক্রেতারা সৌখিন পণ্যটি খুঁজে খুঁজে কিনছেন ঘরের ও নিজের শোভা বর্ধনের জন্য। অনেক অভিজাত শপিংমলের শো-পিসের দোকানেও আজকাল মৃৎশিল্পের এসব পণ্য পাওয়া যায়। তবে দাম সাধ্যের বাইরে থাকায় রমণীরা ফুটপাতেই বেশি ছুটছেন। ঘর সাজাতে তারা প্রতি মাসেই কিছু না কিছু কিনছেন। ঢাকা কলেজের পাশের ফুটপাতের মৃৎশিল্পের দোকানে কথা হয় উত্তরা থেকে আসা গৃহিণী বিলকিস বেগমের সঙ্গে। তার ডুপ্লেঙ্ বাড়ির সিঁড়ি এবং ড্রয়িং রুম সাজাতে তিনি মৃৎ সামগ্রী কিনতে এখানে এসেছেন। তিনি সিঁড়ির জন্য বড় বড় ফ্লাওয়ার ভাস, যা কৃত্রিম ফুল দিয়ে সাজানো হবে এবং ড্রয়িং রুমের জন্য হাতি, ঘোড়া, বিখ্যাত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ও মাটির তৈরি ঝর্ণার শো-পিস খুঁজছেন। এখানে পছন্দসই জিনিস না পেলে দোয়েল চত্বর চলে যাবেন বলেও তিনি জানান।
দোয়েল চত্বরে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাখাওয়াতের সঙ্গে। তিনি পোড়া মাটির তৈরি গহনা কিনতে এসেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমি পোশাক থেকে শুরু করে সব কিছুই দেশীয় ব্যবহার করার চেষ্টা করি। তাই মাটির তৈরি গহনার প্রতি আমার আকর্ষণ সব সময়। দেশীয় সংস্কৃতির পণ্যগুলো আমাদের ঐতিহ্য। তাই সবারই উচিত দেশীয় পণ্য ব্যবহার করা। তাহলেই যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবে আমাদের দেশীয় শিল্প। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দোয়েল চত্বরের এক পাশ ঘিরে অসংখ্য শো-পিসের দোকানে প্রতিদিন ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভীড়ই বলে দেয় ঘরের শোভায় শো-পিসের প্রতি সৌখিন এসব মানুষের আগ্রহ কতটা। ঘর সাজাতে কি নেই এখানে, “ওয়াল কর্নার, ওয়াল ল্যাম্প, কাঠের কলমদানি, কাপড়ের, পুথির, চামড়ার পার্স, পুথির টিস্যু বক্স সহ প্রায় শতাধিক আইটেম।” সখের এসব পণ্য পঞ্চাশ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত দামে পাওয়া যায়। এমনটাই জানান সেখানকার এক দোকানী জামাল উদ্দিন।
রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে: জানা গেছে, ৫০টির বেশি দেশে মৃৎশিল্প, শো-পিস, হ্যান্ডিক্রাফট রপ্তানি করেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। সাধারণত, বাংলাদেশ থেকে মৎশিল্পের পণ্য, পাটের তৈরি পণ্য, বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন ধরনের বাস্কেট, ফ্লোর কাভারিংয়ের ম্যাট বা কার্পেট, নকশি কাঁথা ও নকশি বেডশিট এবং পুনপক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি কিছু পণ্য সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আমাদের দেশের হ্যান্ডিক্রাফট যায়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চায়না, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডেরমত দেশগুলো যারা হ্যান্ডিক্রাফট উৎপাদনের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তারা এখন হাইটেক ইন্ড্রাস্ট্রির দিকে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ আছে। আগের এসব পণ্যের ক্রেতারা বাংলাদেশে আসতো না এখন তারা বাংলাদেশের আসছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রাফট অ্যান্ড গিফটওয়্যার এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রে জানাযায়, দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ হ্যান্ডিক্রাফট খাতের সঙ্গে জড়িত। অনেক জনবলের এ খাতের বিষয়ে আমাদের দেশে কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে এ বিষয়ে কোন গবেষণাও হচ্ছে না। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজাইনার ও উদ্ভাবন নেই বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এ খাতে খুব কম বিনিয়োগ করা লাগে। এছাড়া বড় ধরণের মেশিনেরও দরকার হয় না। তাই আমাদের যে জনশক্তি আছে তাকে কাজে লাগিয়ে এ খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তারা আরও জানান, বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে যে ধরণের পণ্যের চাহিদা রয়েছে তা পূরণ করার জন্য আমাদের দেশে পেশাদারী কোন ডিজাইনার নেই। কোন পণ্যের সঙ্গে কোন রং যাবে সে বিষয়ে ধারণা দেওয়ার জন্য পেশাদারী কেউ নেই। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পণ্য পরিচিত করার জন্য যে ধরণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার সে ধরণের উদ্যোগের অভাব আছে বলে তিনি মনে করেন। সম্ভাবনাময়ী এ খাতের জন্য যেখাবে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে এ খাতের সুযোগ সুবিধা আরো কমছে। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেন, গেল অর্থবছরে হ্যান্ডিক্যাফট রপ্তানিতে ২০ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভ ছিল, চলতি অর্থবছরে তা ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ খাতের কাঁচামাল আমদানি করতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয় না। রপ্তানি আয় বাড়নো ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কাঁচামাল আমদানির জন্য বন্ড সুবিধা চান এ খাতের উদ্যোক্তারা।
দেশে বিদেশে হ্যান্ডিক্রাফটের সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে অনেক নতুন নতুন উদ্যোক্তা আসছেন এ খাতে। সম্প্রতি ফোক্ আর্টস নামের ব্রান্ডে দেশে বিদেশে পণ্য সরবরাহ করছেন রাহাত। তিনি বলেন, মানসম্পন্ন পণ্যের কদর সব জায়গায় সেটা দেশে হোক কিংবা বিদেশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে অন্য গতানুগতিক চাকরি না করে ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করা এ উদ্যোক্তা বলেন, আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন পণ্য তৈরি হয় এগুলোর প্রচার প্রচারণা সেভাবে না থাকায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা হারিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সেসব পণ্য ওইসব অঞ্চল থেকে দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার প্রত্যয়ে কাজ করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ