ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা ওয়াসার এমডি পদে নিয়োগ নিয়ে অস্থিরতা

খুলনা অফিস : খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান এমডি যাতে পুনরায় ওই পদে না আসতে পারেন সেজন্য ওয়াসার একটি পক্ষ জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে বর্তমান এমডি’র সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় ভবিষ্যতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য তাকেই আবার চেয়ারে বসাতে লবিং শুরু করেছেন অন্য পক্ষ। তবে, এবার চুক্তি ভিত্তিক মেয়াদ বৃদ্ধি না করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। আগামী আগস্টে খুলনা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ’র ২য় মেয়াদে চুক্তি শেষ হচ্ছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওয়াসার ভেতরে দু’টি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বর্তমান এমডি আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ। এরপর ২০১২ ও ২০১৫ সালে তিনি আরও দুইবার চুক্তিভিত্তিক একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। মো. আব্দুল্লাহ বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ ও বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের খুলনা কেন্দ্রের সভাপতি হওয়ায়  সেখানকার প্রতিদ্বন্দ্বিরাও তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার আমলে ১৩৩ জন মাস্টার রোল কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ৭০ জনকে স্থায়ী করা হয়। বাকি ৬৩ জনের চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় তারাও ক্ষুব্ধ। এছাড়াও চলমান প্রকল্পগুলোর কাজে সংস্থাটির কোনো প্রকৌশলীকে অন্তর্ভুক্ত না করায় তারাও নাখোশ। 

এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে বর্তমান এমডি প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ বলেন, ‘গত ৮ বছরে এমডি হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করে নাগরিক সেবা বৃদ্ধিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া মাস্টার রোলে ৭০টি পদেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা চলছে। এসব পদে নতুন কোন লোক নিয়োগ দেয়া হবে না। প্রকল্পের সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী ওয়াসার কর্মকর্তাদের প্রকল্পে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ ছিল না।  ওয়াসার কর্মকর্তাগন ওয়াসার দৈনন্দিন নাগরিক সেবার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বিধায় তাদের পক্ষে মেঘা প্রকল্পের অতিরিক্ত কাজ সম্পাদন করা অসম্ভব। তাই ডিপিপি অনুযায়ী জাইকা ও এডিবির পরামর্শে নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে এমডির পক্ষে গত ৮ বছরের বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়গুলো সামনে তুলে ধরে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান এমডিকে পদে রাখার পক্ষে কাজ করছে একটি গ্রুপ। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১১ সালে ‘খুলনা পানি সরবরাহ’ নামে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু করেন তিনি। যার ৯০ ভাগ কাজ শেষের পথে। এছাড়াও ‘খুলনায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নীতকরণ’ নামে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার নতুন একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। যার জমি অধিগ্রহণেরও কাজ শেষ। বাস্তবায়নাধীন এসব প্রকল্পে একটি টাকাও ব্যয় বাড়তে দেননি বর্তমান এমডি। একাধিক নতুন প্রকল্প চলমান রয়েছে। পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন কেউ আসলে এসব কাজ সময়মত সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়ন না হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়োগের বিষয় নিয়ে খুলনা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান বলেন, আগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এবার তা করা হচ্ছে না। ফলে পক্ষে বিপক্ষে থেকে লাভ নেই। বর্তমান এমডি নিয়মানুযায়ী ওই পদে আবেদন করবেন। অন্যদিকে আগ্রহী প্রার্থীরাও আবেদন করবেন। বোর্ড যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই নিয়োগ দেবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ