ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাবনায় বিয়ের প্রলোভনে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ!

পাবনা সংবাদদাতা : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এক যুবক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে (১৪) বছরের এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের পাঁচ বেতুয়ান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাস আগে মুঠোফোনে ওই গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বেতুয়ান ফকিরপাড়া গ্রামের ঘাট মাঝি আবু সাম এর ছেলে সুজন (২০) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত বুধবার সকালে লম্পট প্রেমিক সুজন ফোন করে প্রেমিকা কিশোরীকে বিয়ে করবে বলে জানায় এবং কিশোরীকে বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলে লম্পট প্রেমিক। ওইদিন লম্পট প্রেমিকের কথা মত কিশোরী বাড়িতে থাকা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে লম্পট প্রেমিকের কাছে যায়। এ সময় লম্পট প্রেমিক তার বন্ধু নাঈম ও শাহাবুদ্দিনের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী উল্লাপাড়া উপজেলার বাঘমাড়া বেতকান্দী গ্রামে তার খালার বাড়িতে যায়। পরে তার বন্ধুদের বিদায় করে দেয়। এরপর লম্পট প্রেমিক তার খালার বাড়িতে প্রেমিকা কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সারারাত ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে লম্পট প্রেমিক কাজী ডেকে আনার কথা বলে কিশোরী প্রেমিকার কাছে থাকা ওই টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। পরে লম্পট প্রেমিকের খালার পরিবার কিশোরীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
এরপর ধর্ষণের শিকার কিশোরী তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে স্থানীয় গ্রাম প্রধান ও নেতাকর্মীদের জানায় কিশোরীর পরিবার। পরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তারা জোর চেষ্টা চালায়। ধর্ষিতা কিশোরী জানায়, বিয়ের কথা বলে সুজন তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সে আমার ওপর জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালায়। অভিযুক্ত সুজন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার কথা মত আমি ওকে নিয়ে যাই এবং তার ১০ হাজার টাকা এখনও আমার কাছে আছে। দিলপাশার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার পনো বলেন, ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই শুনিনি। এ ধরনের ঘটনা যদি ঘটেই থাকে স্থানীয়ভাবে তা আপস মীমাংসা করার কোনও সুযোগ নেই।
ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শাহীন কামাল বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাথায় টিউমার নিয়ে শিশুর জন্ম
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চড়-ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া গ্রামে মাথায় বিরল আক্রান্ত টিউমারওলা এক শিশুর জন্ম হয়েছে। গত (৫ মে) শনিবার ওই গ্রামের মৃত. আয়নুল হক তালাপাত্রের ছেলে মো. সুজন আলীর স্ত্রী মেঘলা খাতুন রিতা (২৬) মাথায় টিউমারওলা একটি পুত্র শিশুর জন্ম দেন। এদিকে এই শিশু সন্তানকে চিকিৎসা করার মতোও আর্থিক সামর্থ্য নেই এবং কীভাবে ওই ছোট্ট শিশুকে বাঁচাবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না ওই পরিবার। 
জানা যায়, গত ৮ বছর আগে চাটমোহর উপজেলার সোনাহার পাড়া গ্রামের মো. মোফছেদ আলীর মেয়ে মেঘলা খাতুন রিতা’র সঙ্গে সুজন আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। তার নাম সুমাইয়া আক্তার সাহারা (৭)। এরপর আট মাসে রিতা’কে একটি মেডিকেলে ভর্তি করে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারে রিতা’র গর্ভে বিরল আক্রান্ত মাথায় টিউমারওলা এক নবজাতক শিশু রয়েছে। গত দুই মাস আগে রিতা মাথায় টিউমার আক্রান্ত ওই নবজাতক জন্ম দেন রিতা। তার নাম রাখা হয়েছে মো. জিহাদ হোসেন। তার এখন বয়স দুই মাস। অন্যদিকে এই টিউমার আক্রান্ত শিশুর উন্নত চিকিৎসার জন্য খুব দ্রুতই ঢাকায় পাঠানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তবে শিশুটিকে নিয়ে চিন্তায় পড়েছে তাদের স্বজনরা। তারা এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চান। প্রতিবেশীরাও মানবিক কারণে এ শিশুর চিকিৎসা ও সুস্থ্য রাখতে সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
শিশুটির বাবা সুজন আলী বলেন, ডাক্তার সাহেব বলেছেন তোমার শিশু বাচ্চার মাথার জয়েন্ট ছাড়াতে অনেক টাকার প্রয়োজন। সরকারের সহায়তা ছাড়া আর মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তারদের সহায়তা ছাড়া চিকিৎসা দেয়া সম্ভব না। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে এই টিউমার দেখিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। দিন যতই বাড়ছে ততই বড় হচ্ছে তার টিউমারটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ