ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অব্যাহত অভিযানের পরও সুন্দরবনে দস্যুতা দমন হচ্ছে না

খুলনা অফিস : অব্যাহত অভিযানের পরও সুন্দরবনে থেমে নেই দস্যু তৎপরতা। একের পর এক আত্মসমর্পণ ও মাঝে মাঝে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। পুরনো গ্রুপ দমন হলেও নতুন দস্যুর আবির্ভাব ঘটছে। সব মিলিয়ে সুন্দরবনে দমন হচ্ছে না দস্যুতা। জেলে-বাওয়ালিদের জিম্মি করে নিয়মিতই চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে কয়েক জন মৎস্য ব্যবসায়ীর ইন্দন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৎস্য সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তার এবং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষেই অসাধু এ সব ব্যবসায়ী দস্যুবৃত্তিকে ইন্দন দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ মে থেকে গত ২৩ মে পর্যন্ত বিগত ২৪ মাসে সুন্দরবনের ২৬টি বাহিনীর ২৭৪ জন দস্যু আত্মসমর্পন করেছে। এ দস্যুরা ৪২২ আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৯ হাজার ১৫৩ রাউন্ড গুলি জমা দিয়েছে। এ সময় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১৩৪ জন দস্যু নিহত হয়।
সম্প্রতি টোকেন ছাড়া সুন্দরবনের খালে মাছ ধরতে যাওয়ার কারণে দস্যু ‘ছোট ভাই বাহিনী’র সদস্যরা কয়রা গ্রামের জিয়াদ আলী, মাউবার গাজী, সুনীল মন্ডল, অরবিন্দু মন্ডলসহ কয়েকজন জেলেকে মারধর করে। এর আগে দস্যু‘গরীবের বন্ধু বাহিনী’র সদস্যরা কয়রা উপজেলার মঠবাড়ি গ্রামের কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে। পরে জেলেদের পরিবারের সদস্যরা একজন মাছ ব্যবসায়ির কাছে টাকা জমা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন।
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার এসব অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা একদিকে যেমন অর্থের বিনিময়ে দস্যুদের কাছ থেকে নেওয়া টোকেন নিয়ে জেলেদের সরবরাহ করে। অন্যদিকে তেমনি জেলেদের ধরা মাছ স্বল্প মূল্যে কিনে নিচ্ছে। একদিকে তারা দস্যুদের টোকেন বিক্রির টাকা পাচ্ছে অন্যদিকে স্বল্প মূল্যে মাছ কিনে লাভবান হচ্ছে। নিজেদের লাভের জন্য এসব মুখোশধারী ব্যবসায়ীরা দস্যুদের টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। বর্তমানে বাহিনী ‘ছোট ভাই বাহিনী’ ও  ‘গরীবের বন্ধু বাহিনী’ নামে দু’টি দস্যুদল পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের অভ্যন্তরে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। বন এলাকায় র‌্যাব-পুলিশের অভিযান তৎপর থাকলেও ভিন্ন কৌশলে মৎস্য শিকারের আড়ালে দস্যুতা অব্যাহত রেখেছে তারা। কয়রা উপজেলা সদরের বাসিন্দা রকিবুল ইসলাম বলেন, দস্যুদের টোকেন বিক্রি করে স্থানীয় কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী অনেক অর্থের মালিক হয়েছেন। তারা নিজেদের স্বার্থে সুন্দরবনে নতুন দস্যু সৃষ্টি করছে। এই ব্যবসায়িদের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা সুন্দরবনের খালে মাছ ধরার জন্য যেতে ভয় পায়।
মাছ ব্যবসায়ী আবু সাঈদ মোল্যা ও নুর হোসেন বলেন, ‘সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ ধরার জন্য তারা নিজস্ব জেলে পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুরা যখন ওই জেলেদের জিম্মি করে তখন তাদের ছাড়ানোর জন্য বাধ্য হয়ে দস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।’
এ ব্যাপারে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস বলেন, মাছ ব্যবসার আড়ালে দস্যুদের সহযোগীতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দস্যু নির্মুলে আইনাগভাবে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুন্দরবন থেকে দস্যুদের তৎপরতা বন্ধ করতে হলে সবার আগে সুন্দরবন উপকূলীয় বনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ইলিশ মওসুমে জেলেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বনবিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বনজীবীদের সার্বিক সহয়তা করা প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ