ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হতাশায় বিপর্যস্ত খুলনা মহানগর ছাত্রদল

খুলনা অফিস : খুলনার প্রথমসারীর সরকারি-বেসরকারি ১২টি কলেজের একটিতেও ছাত্রদলের কমিটি নেই। গত ৫ বছর ধরে এসব ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মিছিল দেখা যায় না । একই অবস্থা থানা কমিটির। এমন দুরবস্থা থেকে ছাত্রদলকে সক্রিয় করতে ২০১৬ সালের অক্টোবরে ৪০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। গত দেড় বছরেও সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি খুলনা মহানগর ছাত্রদল।
সংগঠনটির সাবেক নেতারা জানান, মিছিল-সমাবেশ এবং আন্দোলনে সক্রিয় ছিলো এমন নেতাদের বাদ দিয়েই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হয়েছিল। কমিটিতে জায়গা না পেয়ে ছাত্রদলের ওই নেতারা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। আবার ৪০ সদস্যের কমিটিতে কম গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন কমিটিতে থাকা নেতারা। আর কমিটিতে পদ পাওয়ার আশ্বাসে এতোদিন যারা মিছিল-সমাবেশে যোগ দিতো দেড় বছরেও কমিটি না হওয়ায় তারাও নিস্ক্রিয়। ফলে সার্বিকভাবে গতি হারিয়েছে ছাত্রদল।
ছাত্রদলের সাবেক নেতারা জানান, এক সময়ে আন্দোলনের চালিকাশক্তি ছিলো ছাত্রদল। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ৯০’র গণঅভ্যুত্থানসহ অতীতের যে কোনো আন্দোলনেই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিলো ছাত্রদলের। কিন্তু অনুগতদের দিয়ে কমিটি গঠনের ঝোঁক, সম্মেলন ছাড়াও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা থেকে কমিটি পাঠানো এবং ক্যাম্পাসের সক্রিয় সংগঠন না থাকায় আজ পথ হারিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে ক্যাম্পাসগুলোতে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে না পারায় ছাত্রদলে নতুন নেতাকর্মী আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রকৃত ছাত্রদের স্থান দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার বখাটে ও অছাত্ররা।
ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশে সক্রিয় ছিলো-এমন কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরের কমিটি থেকে বাদ পড়ায় পূর্বের সক্রিয় নেতারা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। তাদের আবার সক্রিয় করতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন জরুরী ছিলো। কিন্তু দেড় বছরেও সেটা হয়নি।
এছাড়া কমিটি ঘোষণার প্রথম দিকে এই কমিটিকে মেনে নিতে পারেননি মহানগর বিএনপি নেতারা। ফলে তারাও সঠিকভাবে মাঠে কাজ করতে পারেনি। এই সুযোগে বহুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে ছাত্রদল। কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় তারাও এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটি ভুগছে কর্মী সংকটে। প্রকৃত ছাত্রদের না পাওয়ায় মিছিল পূর্ণ করতে হচ্ছে অছাত্রদের দিয়ে।
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে এখন বিএনপিতে আসা বেশ কয়েকজন নেতা জানান, এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে প্রতিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে নতুন করে যাত্রা শুরু করতে হবে। ক্যাম্পাসের ভেতরে না হলে অন্য কোথাও ওই ক্যাম্পাসের নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মী সভা বা কর্মী সম্মেলন করে কমিটি ঘোষণা করতে হবে। এতে অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি হতে পারে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, আগের মতো ঢাকা থেকেই কলেজ ও থানা কমিটি ঘোষণা করা হবে। এতে পরিস্থিতি খুব একটা পাল্টাবে না।
মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির নেতারা জানান, মহানগর ছাত্রদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে একবছর ধরে তারা চেষ্টা করছেন। তারা ঢাকায় গিয়ে একটি কমিটিও জমা দিয়েছেন। এছাড়া সরকারি এম এম সিটি কলেজ, আযম খান কমার্স কলেজ, সুন্দরবন কলেজ, বিএল কলেজ, হাজী মুহম্মদ মুহসিন কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও দৌলতপুর দিবা- নৈশ কলেজ কমিটির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু একবছর ধরে সেটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সবাই অবগত। কলেজগুলোতে আমাদের ঢুকতে দেয়া হয় না। ঢুকলেই ছাত্রলীগ কুপিয়ে জখম করে। অনেক সময় তারা মারধর করে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। পুলিশ পূর্বের হয়রানিমূলক মামলায় চালান দেয়। তারপরও ক্যাম্পাসে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, মহানগর ছাত্রদল কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে শিগগিরই নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের সঙ্গে আমরা বসবো। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীরা কমিটিতে ভাল পদে থাকবে। আবার রাজনৈতিক সেশনজটে পড়ে তাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও কমিটিতে রাখা হবে। সকলের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ সুমন বলেন, আশা করছি, চলতি মাসে বিভিন্ন ইউনিট কমিটি ঘোষণা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে নগর কমিটিও পূর্ণাঙ্গ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ