ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে পৌঁছেছে অসহায় ফরিদা ও তার পরিবার

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে : সামাজিক যোগাযোগের অবদানে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতায় ঢাকা থেকে বাসায় ফিরলেন সেই অসহায় পরিবারটি। ভিক্ষাবৃত্তি ও বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করা ফরিদা ও তার স্বামী আনছার আলী এখন কুড়িগ্রাম সদর ইউএনও আমিন আল পারভেজের তত্ত্বাবধানে। শুক্রবার ভোরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে অবস্থান নেয় ফরিদার পরিবার। একে একে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেয় পরিবারটি। ১৩ জুলাই সকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ এসএম আমিনুল ইসলাম একদল মেডিকেল টিম নিয়ে ফরিদা ও স্বামী আনছার আলীর শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-কুড়িগ্রাম সদর ইউএনও আমিন আল পারভেজ, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি আহসান হাবিব নীলু প্রমূখ।  তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ৬ জুলাই রাজধানীর সোবহানবাগ মসজিদের কাছে জ্বর নিয়ে ফুটপাতে পড়ে থাকেন ফরিদা। পরদিনও রাস্তায় পড়েছিলেন তিনি। এদিন সন্ধ্যায় মাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছিল তার দুই শিশু সন্তান আকলিমা (১১) এবং ফরিদুল (৭)। তারা প্লাস্টিকের বোতলে করে মায়ের মাথায় পানি ঢেলে মাকে সুস্থ করার ব্যর্থ চেষ্টা করছিল। সেই দৃশ্য দেখে মোবাইলে ধারণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারভেজ হাসান। এরপর তিনি ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরিবারটির অসহায়ত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর নজরে আসে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারটির দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাস থেকেই তিনি বুধবার ঢাকায় পরিবারটি সঙ্গে দেখা করেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সদর উপজেলার চর সিতাইঝাড় গ্রামের পিতা বাবর আলী ছোট্ট কোলের শিশু ফরিদাকে রেখেই পৃথিবী ত্যাগ করেন। মা নিরুপায় হয়ে ফরিদাকে নানী কুলছুম বেগমের কাছে রেখে যান। ফরিদা বিবাহযোগ্য হলে উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মরাকাটা গ্রামের বিপতœীক আনছার আলীর সাথে তার বিয়ে দেন নানী কুলছুম বেগম। শুরু হয় জীবন যুদ্ধ। দুধ বিক্রেতা স্বামী আনছার আলীর স্বল্প আয়ের সংসারে শুরু হয় টানাপোড়েন। বিবাহের ১৩ বছরের মাথায় ৩ সন্তানের জননী হন ফরিদা। পরিবারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ফরিদাও শুরু করেন কুড়িগ্রাম শহরে ভিক্ষাবৃত্তি। এতে সংসার না চলায় এলাকাবাসীর পরামর্শে ২০১৬ সালে ঢাকায় পাড়ি জমায় ফরিদার পরিবার। আয় অনুযায়ী ব্যয় সঙ্কুলান না হওয়ায় উত্তরায় ওভার ব্রিজের নিচে ঘর বাঁধে ফরিদা। ঠিকমত খাওয়া না হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নানা  ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে এখন কঙ্কাল সার ফরিদা। 

ফরিদার স্বামী আনছার আলী জানান, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। আমাকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিলে ব্যবসা করে আমি আমার পরিবারকে ডাল-ভাতের ব্যবস্থা দিতে পারবো। এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ এসএম আমিনুল ইসলাম জানান, ফরিদা বেগম জন্ডিস এবং জ্বরে আক্রান্ত। তার রক্ত পরীক্ষা করে আরো কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা দেয়া হবে।  কুড়িগ্রাম সদর ইউএনও আমিন আল পারভেজ জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পরিবারটিকে পাঁচগাছী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতে দেয়া হয়েছে। তাদের স্থায়ী বাসস্থান এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের ছোট্ট ৩ সন্তানের পড়ালেখার সার্বিক দায়ভার জেলা প্রশাসক নিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ