ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হারিয়ে যাচ্ছে প্রখ্যাত কবি শেখ ফজলল করিমের স্মৃতিচিহ্ন

‘কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক/ কে বলে তা বহুদুর/ মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক/ মানুষেতে সুরাসুর’ হৃদয়র্স্পশী এ কবিতার রচয়িতা কবি শেখ ফজলল করিমের বাড়ীর অরক্ষিত স্মৃতিচিহ্ন অযন্ত আর অবহেলায় দিন দিন মেলান হয়ে যাচ্ছে এবং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কবির ব্যবহৃত জিনিসগুলো। কবির নামে স্থাপিত পাঠাগারটির এখন তার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। কবির অমূল্য এ স্মৃতি রক্ষায় নেই কোনো সরকারি উদ্যোগ। সরেজমিনে গেলে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় কবি শেখ ফজলল করিমের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে বাড়িটি। অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে নিজ গ্রামে কবির অবশিষ্ট স্মৃতিচিহ্ন। বাড়িতে প্রবেশের পর দেখা যায়, কবির কবরের ঠিক সামনেই বিরাট এক কাঁচারি ঘর। প্রশস্ত বারান্দায় সৌখিন কাঠের কারুকাজ। কাঁচারি ঘরের চালজুড়ে মনোহরী ফুলের বাগান। নজরকাড়া এ বিশাল ঘরটিতেই কেটেছে কবির জীবন। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, ঘরটির সাবেক কাঠামো ঠিক রেখে সম্প্রতি সামান্য সংস্কার করা হয়েছে। তবে সামাান্য সংস্কার করলেও দরজা ও চৌকাঠের ভগ্নদশা এখনো রয়ে গেছে। সৌখিন কারুকাজ করা কাঠগুলো উইপোকার অত্যাচারে খসে খসে পড়ছে। ঘরের ভেতরে কাঠের দেয়ালজুড়ে কবির বেশ বড় দুটি ছবি টাঙানো। সংরক্ষণে রয়েছে কবির ব্যবহৃত একটি জীর্ণ চেয়ার, খাট ও একটি গ্রামোফোন। ঘরটির এক কোণে একটি কাচের শোকেস। শোকেসের কাচগুলো ফেটে চৌচির। তার ভেতরে অযতেœ পড়ে আছে কবির ব্যবহৃত টুপি, দোয়াত-কলম ও পবিত্র ছোট কোরআন শরীফ। এছাড়া ঘরের মেঝেতেও সিমেন্টের প্রলেপ উঠে ছোট ছোট অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাড়ীর বাহিরে কিছুটা সংস্কার কাজ চোখে পড়ে। সাহিত্য চর্চার সুবিধার্থে স্থানীয় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কবি বাড়িতে ১৮৯৬ সালে করিমস আহমদিয়া লাইব্রেরি নামে একটি পাঠাগার স্থাপন করেছিলেন কবি। এখন তার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। জীবদ্দশায় সাহিত্যকর্মে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন কবি শেখ ফজলল করিম। তিনি মোট ৫৫টি গ্রন্থ লিখেছিলেন কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে যার অনেকগুলোরই এখন আর হদিস মেলেনা। কবির বাড়িটি বর্তমানে রক্ষনাবেক্ষন করেন কবির নাতি ওয়াহিদুন্নবী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ